kalerkantho

মঙ্গলবার । ২৫ জুন ২০১৯। ১১ আষাঢ় ১৪২৬। ২২ শাওয়াল ১৪৪০

বিজ্ঞানীদের আশঙ্কা

ধারণার চেয়েও দ্বিগুণ বাড়বে সমুদ্রের উচ্চতা

বাংলাদেশের বড় একটা অংশ ডুববে

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

২২ মে, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ধারণার চেয়েও দ্বিগুণ বাড়বে সমুদ্রের উচ্চতা

কার্বন নির্গমনে লাগাম টেনে ধরতে না পারলে ধারণার চেয়ে ভয়াবহ পরিণতি ভোগ করতে হবে পৃথিবীকে। বাদ যাবে না বাংলাদেশও। বিজ্ঞানীদের আশঙ্কা, ২১০০ সালের মধ্যে বাংলাদেশের বড় একটি অংশ সাগরের গর্ভে চলে যাবে। হুমকিতে পড়বেনিউ ইয়র্ক ও লন্ডনের মতো শহরের জনজীবনও।

নতুন এক গবেষণায় বলা হচ্ছে, বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধির ফলে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা যে পরিমাণ বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছিল, তা বাস্তবতার চেয়ে অনেক কম। কারণ হিসেবে গবেষকরা বলছেন, প্রচলিত হিসাবে গ্রিনল্যান্ড এবং অ্যান্টার্কটিকার বরফ গলার বিষয়টি একরকম উপেক্ষা করা হয়েছে। কিন্তু বরফ গলার হিসাবের সঙ্গে গ্রিনল্যান্ড এবং অ্যান্টার্কটিকার নাম যোগ করলে বিশ্বের পরিণতি আরো ভয়ংকররূপে আবির্ভূত হবে।

২০১৩ সালে একটি ‘ধারণাপত্র’ প্রকাশ করে জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক ইন্টারগভার্নমেন্টাল প্যানেল (আইপিসিসি)। তাতে বলা হয়েছিল, বর্তমান হারে কার্বন নির্গমন অব্যাহত থাকলে বৈশ্বিক উষ্ণতা ২১০০ সাল নাগাদ ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস বাড়তে পারে। আর সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বাড়বে ৫২ থেকে ৯৮ সেন্টিমিটার।

কিন্তু ‘প্রসিডিংস অব দ্য ন্যাশনাল একাডেমি অব সায়েন্সস’ সাময়িকীতে প্রকাশিত এবারের গবেষণা প্রতিবেদনে উঠে এসেছে আরো ভয়াবহ চিত্র। গবেষকরা বলছেন, বর্তমান হারে কার্বন নির্গমন ঘটতে থাকলে ২১০০ সাল নাগাদ বৈশ্বিক তাপমাত্রা ৫ ডিগ্রি সেলয়িসাস পর্যন্ত বেড়ে যেতে পারে। সে ক্ষেত্রে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বাড়তে পারে ৬২ থেকে ২৩৮ সেন্টিমিটার।

গবেষকরা বলছেন, ২১০০ সাল লাগাদ তাপমাত্রা যদি ২ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি না বাড়ে, তাহলে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধিতে শুধু গ্রিনল্যান্ডই প্রভাব ফেলবে। কিন্তু ২ ডিগ্রি সেলসিয়াসের চেয়ে বেশি বাড়লে অ্যান্টার্কটিকাও ব্যাপক হারে গলতে শুরু করবে।

গবেষকদলের সদস্য অধ্যাপক জনাথন ব্যাম্বার বলেন, ‘এটা শুধু একটা অনুমান নয়। পূর্ব ও পশ্চিম অ্যান্টার্কটিকার বরফ গলার বাস্তবিক আশঙ্কা রয়েছে।’ তিনি বলেন, বৈশ্বিক তাপমাত্রা ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেড়ে যাওয়ার মানে হলো পৃথিবীর জন্য খুব খারাপ সময় অপেক্ষা করছে।

গবেষকরা হিসাব কষে দেখেছেন, কার্বন নির্গমন না কমালে বিশ্বের প্রায় ১৮ লাখ বর্গকিলোমিটার স্থলভূমি সমুদ্রে তলিয়ে যাবে, যা লিবিয়ার আয়তনের সমান।

গবেষকরা বলছেন, এসব জমির বেশির ভাগই আবাদি। বিশেষ করে বাংলাদেশের বড় একটা অংশে মানুষের জীবন যাপন কঠিন হয়ে পড়বে। হুমকিতে পড়বে লন্ডন, নিউ ইয়র্ক ও সাংহাইয়ের মতো শহরের জনজীবনও।

উদাহরণ হিসেবে ব্যাম্বার বলেন, ‘সিরিয়ার গৃহযুদ্ধের কারণে ইউরোপে প্রায় ১০ লাখ শরণার্থী প্রবেশ করেছে। কিন্তু সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা দুই মিটার বেড়ে গেলে বিশ্বকে এর চেয়ে ২০০ গুণ বেশি শরণার্থী মোকাবেলা করতে হবে।’

গবেষকরা বলছেন, আগামী কয়েক দশকে কার্বন নির্গমন কমাতে পারলে এই পরিণতি থেকে রক্ষা পাওয়া সম্ভব। ব্যাম্বার বলেন, ‘আমরা যে আশঙ্কা করছি, তা সত্যি হওয়ার ৫ শতাংশ ঝুঁকি রয়েছে। কিন্তু আপনাকে যদি বলা হয়, এই সড়কটি পার হতে গেলে গাড়ির নিচে পড়ে আপনার ৫ শতাংশ মৃত্যুর ঝুঁকি রয়েছে, তাহলে আপনি নিশ্চয়ই ওই সড়কের আশপাশেও যাবেন না।’

সূত্র : বিবিসি।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা