kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ২০ জুন ২০১৯। ৬ আষাঢ় ১৪২৬। ১৬ শাওয়াল ১৪৪০

রমজানে পরিবারে ধর্মীয় পরিবেশ

ড. আহমদ আবুল কালাম

২১ মে, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



রমজানে পরিবারে ধর্মীয় পরিবেশ

ইসলাম পরিবার ব্যবস্থাকে অত্যন্ত গুরুত্ব প্রদান করে। ইসলামের নীতি অনুসারে কোনো ব্যক্তি পরিবারকে বাদ দিয়ে সমাজের অংশ হতে পারে না, যদি তার পরিবার ইসলামী মূল্যবোধ ও আদর্শে উজ্জীবিত হয়ে থাকে। ইসলামী শরিয়তের বিধি-বিধান বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, ফরজ ইবাদতসমূহ পালনে পারিবারেরও কিছু ভূমিকা রয়েছে। সেটা হলো পুণ্যের কাজে পরস্পরকে সহযোগিতা করা। রমজানুল মোবারকে পারস্পরিক সহযোগিতা আরো বৃদ্ধি পেতে পারে।

হজরত আয়েশা (রা.) হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর পারিবারিক জীবন সম্পর্কে বলেন, আল্লাহর রাসুল (সা.) ঘরের কাজগুলো করতেন। ঘর পরিষ্কার করা; এমনকি জুতা সেলাইয়ের কাজও তিনি করতেন। বাঙালি সমাজের একটি ভুল ধারণা হলো, ঘরের সব কাজের দায়িত্ব নারীর। এটা ইসলামী শিক্ষার বিপরীত। স্ত্রী হিসেবে সেটা তার দায়িত্বও না। বলা যায়, তারা আমাদের প্রতি অনুগ্রহ করছে। রমজানে আমরা নারীর প্রতি সদয় হতে পারি। তাদেরকে ঘরের কাজে সাহায্য করে, তাদের কাজের বোঝা হালকা করে নারীকে ইবাদতের সুযোগ করে দিতে পারি।

শিশুর প্রতিপালন পারিবারিক দায়িত্বের প্রধান একটি দিক। রমজানে শিশুর প্রতিপালনে আমাদের কিছু ধর্মীয় দায়িত্ব রয়েছে। শিশুদের ধর্মীয় শিক্ষা-দীক্ষা, আমল-আখলাক ইত্যাদিতে কোনো অপূর্ণতা থাকলে রমজানে তা সংশোধনের চেষ্টা করা উচিত। কোনো শিশুর যদি নামাজের প্রতি অনীহা থাকে তাকে নামাজে উৎসাহ দেওয়া, কারো কোরআন তেলাওয়াতে অনাগ্রহ থাকলে আগ্রহী করা ইত্যাদি। একইভাবে রমজানের রোজায় অভ্যস্ত করে তোলা উচিত। হাদিস গ্রন্থে আমরা পাই, সাহাবায়ে কেরাম (রা.) রমজানের দিন ছোট শিশুদের মসজিদে নিয়ে যেতেন এবং খেলনা দিয়ে তাদের ভুলিয়ে রাখতেন। যেন তারা আনন্দের মধ্যে থেকেই রোজা সম্পন্ন করতে পারে। সুতরাং আমরাও শিশুদের ইফতার-সাহরিতে শরিক করতে পারি। তাদেরকে রোজা রাখার ব্যাপারে সাহস জোগাতে পারি।

রমজানে পরিবারের প্রত্যেক সদস্যের দায়িত্ব ইবাদত-বন্দেগির অনুকূল পরিবেশ তৈরির চেষ্টা করা। আমি এমন কোনো কাজ করব না, যাতে অন্যজনের ইবাদত পালনে অসুবিধা হয়। বরং পরিবারের সদস্যরা ধৈর্য ও সহনশীলতার পরিচয় দেবে। কোনো বিষয়ে মনোমালিন্য হলে তা ক্ষমা ও দয়ার দৃষ্টিতে দেখবে। অন্যের সঙ্গে ঝগড়ায় লিপ্ত না হয়ে ক্ষমা করে দেবে।

লেখক : অধ্যাপক, ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগ, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা

 

মন্তব্য