kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ২০ জুন ২০১৯। ৬ আষাঢ় ১৪২৬। ১৬ শাওয়াল ১৪৪০

এনবিআরে অর্থমন্ত্রীর বৈঠক

বেশি ব্যবহৃত কাঁচামাল আমদানিতে শুল্কছাড়

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৭ মে, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



বেশি ব্যবহৃত কাঁচামাল আমদানিতে শুল্কছাড়

আগামী অর্থবছরে শুল্ককাঠামো যৌক্তিকীকরণ করতে অধিক ব্যবহৃত কাঁচামাল আমদানিতে রাজস্বছাড় থাকবে। দেশি শিল্পের সেফগার্ড হিসেবে বহাল থাকা সম্পূরক শুল্কস্তরে বড় ধরনের রদবদল করা হবে না। অধিক ব্যবহৃত পণ্য আমদানিতে এইচএস কোড হালনাগাদ বা স্পষ্ট করা হবে। বিনিয়োগ উৎসাহিত করতে শুল্কছাড় থাকবে। অর্থপাচার রোধে আমদানি-রপ্তানিতে স্বচ্ছতা আনতে প্রযুক্তি ব্যবহারে জোর দেওয়া হবে। গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর সেগুনবাগিচায় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) বাজেট প্রস্তুত কমিটির কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল এসব নির্দেশনা দেন। এনবিআর চেয়ারম্যান মো. মোশাররফ হোসেনের দুই ঘণ্টা ধরে চলা রুদ্ধদ্বার বৈঠকে মূলত আগামী অর্থবছরের রাজস্ব বাজেটের শুল্ক বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। তবে অর্থমন্ত্রী করদাতা সংগ্রহের ক্ষেত্রে এবং ভ্যাট (ভ্যালু অ্যাডেড ট্যাক্স) বিষয়েও কিছু নির্দেশনা দেন। তিনি চার কোটি করদাতা সংগ্রহ করতে বলেন।

বৈঠক সূত্রে আরো জানা গেছে, অর্থমন্ত্রী এনবিআর বাজেট প্রস্তুত কমিটির কর্মকর্তাদের বলেন, তিনি ব্যবসায়ীদের কথা দিয়েছেন আগামী বাজেটে দেশি শিল্পে গুরুত্ব দেওয়া হবে। কোনো পণ্যে নতুন কর-ভ্যাট বসানো হবে না। শুল্কে ছাড় থাকবে। তিনি সে কথা রাখতে চান। শিল্পে অধিক ব্যবহৃত কাঁচামাল আমাদানিতে শুল্কহার কমানোর নির্দেশ দিয়ে মুস্তফা কামাল বলেন, দেশের বিনিয়োগ বাড়াতে হবে। এ জন্য যতটা ছাড় দেওয়া সম্ভব, তা দিতে হবে। মিথ্যা ঘোষণায় পণ্য আমদানি-রপ্তানি বন্ধ এবং কর বাড়ানোর পরিবর্তে করের আওতা বাড়াতে গুরুত্ব দিয়ে নতুন নতুন পদক্ষেপ নিতে বলেন তিনি। বৈঠকে মন্ত্রীর নির্দেশনা অনুসারে আগামী অর্থবছরের রাজস্ব বাজেটে আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে করদাতা বাড়ানোর পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

মন্ত্রীর নির্দেশ অনুসারে আগামী বাজেটে যেসব পণ্যের ওপর শূন্য শতাংশ এবং ১ শতাংশ শুল্ক আরোপিত আছে, তা অব্যাহত রাখার বিষয়টি এনবিআর গুরুত্ব দিয়ে যাচাই করছে। বৈঠকে অর্থমন্ত্রী দেশের ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআইয়ের দাবি অনুসারে সম্পূরক শুল্ক অব্যাহত রেখে অথবা সম্পূরক শুল্কের পরিবর্তে সর্বোচ্চ হারে রেগুলেটরি ডিউটি আরোপের বিষয়টি বিবেচনা করা সম্ভব কি না তা এনবিআরকে দেখতে বলেন। যেসব পণ্য আমদানিতে ট্যারিফ ভ্যালু ও ন্যূনতম ভ্যালু নির্ধারিত আছে তা যৌক্তিকীকরণের বিষয়টিও খতিয়ে দেখে সিদ্ধান্ত নিতে বলেন।

বৈঠকে শুল্ক নির্ধারণে অনিয়ম ও জটিলতা এবং আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্যমূল্যের ক্রমাগত হ্রাস-বৃদ্ধিজনিত জটিলতা নিরসনে মোটরযান, জ্বালানি তেল, লৌহশিল্প খাতসহ অন্য কয়েকটি খাতে নির্দিষ্ট হারে শুল্ক আরোপে হিসাব করতে নির্দেশ দেওয়া হয়। আন্ডার ইনভয়েসিং এবং মিস ডিক্লারেশন বন্ধে পণ্যভিত্তিক বিনিময়মূল্যের ডাটা বেইস প্রণয়নে নির্দেশ দিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, এ ক্ষেত্রে সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। সূত্র জানায়, এফবিসিসিআই থেকে এ বিষয়ে নরজদারিতে এনবিআর, এফবিসিসিআই, ট্যারিফ কমিশন, শুল্ক মূল্যায়ন কমিশনারেটের সমন্বয়ে একটি শক্তিশালী কমিটি গঠন করে কাজ করতে প্রস্তাব করেছে।

আগামী অর্থবছরে ভ্যাট আইন ২০১২-তে টার্নওভার করের আওতায় উৎপাদন, ব্যবসা ও সেবার সব খাতে ভ্যাটমুক্ত সীমা ৫০ লাখ টাকা, পরবর্তী তিন কোটি টাকা পর্যন্ত ৩ শতাংশ করার সুপারিশ এনবিআর থেকে প্রধানমন্ত্রীর কাছে নিয়ে যাওয়ার বিষয়টি চূড়ান্ত হয় গতকালের বৈঠকে। ভ্যাটের হারের ক্ষেত্রে রেয়াত নেওয়ার বিধান রেখে সর্বোচ্চ হার ১৫ শতাংশ ধার্য করা হয়েছে। বর্তমানে যেসব পণ্যের ভ্যাট অব্যাহতি আছে তা আগামী অর্থবছরে বহাল রাখতে মন্ত্রী নির্দেশ দিয়েছেন।

মন্তব্য