kalerkantho

সোমবার । ২৪ জুন ২০১৯। ১০ আষাঢ় ১৪২৬। ২০ শাওয়াল ১৪৪০

বাসায় নিরাপদ পানি পৌঁছে দেওয়া এমডির দায়িত্ব : হাইকোর্ট

ওয়াসার প্রতিবেদনেই ৫৯ এলাকায় ময়লা পানি

নিজস্ব প্র্রতিবেদক   

১৭ মে, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



ওয়াসার প্রতিবেদনেই ৫৯ এলাকায় ময়লা পানি

হাইকোর্টে দাখিল করা এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে—ঢাকা ওয়াসার ১০টি জোনের ৫৯টি এলাকায় ময়লা পানি পাওয়ার প্রবণতা বেশি। গত তিন মাসে ওয়াসার হটলাইনের মাধ্যমে ঢাকার বিভিন্ন এলাকা থেকে পাওয়া ২৯২টি অভিযোগের ভিত্তিতে এই তালিকা করা হয়েছে।

ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) প্রকৌশলী তাকসিম এ খান স্বাক্ষরিত ওই প্রতিবেদন গতকাল বৃহস্পতিবার হাইকোর্টে উপস্থাপন করেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মোতাহার হোসেন সাজু। এর আগে গত ১৩ মে ওয়াসার এমডি তাঁর প্রতিবেদন পাঠান হাইকোর্টের নির্দেশে ওয়াসার পানি পরীক্ষার জন্য গঠিত কমিটির আহ্বায়কের কাছে। কমিটির আহ্বায়ক ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (পাস) মো. জহিরুল ইসলাম ওয়াসার এমডির এই প্রতিবেদন হাইকোর্টে উপস্থাপনের জন্য পাঠিয়ে দেন।

এই প্রতিবেদন উপস্থাপনের একপর্যায়ে হাইকোর্ট ওয়াসার এমডিকে উদ্দেশ করে বলেন, ‘ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) বলেছেন যে শতকরা এক শ ভাগ পিওর পানি উৎপাদন করেন। এটা যেমন সত্য কথা, তেমনি এটাও ঠিক যে আপনার (ওয়াসার এমডি) দায়িত্ব বাসা পর্যন্ত পিওর ও নিরাপদ পানি পৌঁছানো। কারণ আপনার সংস্থার নাম ওয়াসা।’ আদালত একই সঙ্গে বলেন, পানি খুবই স্পর্শকাতর। এর মাধ্যমে রোগ-জীবাণু ছড়ায়।

এদিকে ওয়াসার পানি পরীক্ষাসংক্রান্ত খরচ ও পরীক্ষা পদ্ধতি বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) অণুজীববিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. সাবিতা রিজওয়ানা রহমানের বক্তব্য জানতে আগামী ২১ মে তাঁকে আদালতে উপস্থিত হতে অনুরোধ জানিয়েছেন হাইকোর্ট।

বিচারপতি জে বি এম হাসান ও বিচারপতি মো. খায়রুল আলমের হাইকোর্ট বেঞ্চে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো প্রতিবেদন উপস্থাপনের পর আদালত আদেশ দেন এবং উল্লিখিত মন্তব্য করেন। এ সময় আদালতে ওয়াসার পক্ষে আইনজীবী ছিলেন এম মাসুম এবং রিট আবেদনকারীর পক্ষে ছিলেন তানভির আহমেদ। প্রতিবেদন উপস্থাপন করে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল আদালতকে বলেন, এই ১০টি জোনের ময়লা পানিপ্রবণ এলাকা থেকে ৩৫৫টি নমুনা সংগ্রহ করে তিনটি ল্যাবরেটরিতে পরীক্ষা করা হবে। ফলে মোট নমুনার সংখ্যা দাঁড়াবে এক হাজার ৬৫টি। এই এক হাজার ৬৫টি নমুনা থেকে রোগ-জীবাণু ও ভৌত রাসায়নিকসংক্রান্ত পরীক্ষা সম্পন্ন করতে ব্যয় হবে ৭৫ লাখ ৬১ হাজার ৫০০ টাকা।

এ সময় আদালত বলেন, ‘এই বাজেট দেখে মনে হচ্ছে, ওরা পানি বিশুদ্ধ করে আমাদের খাওয়াবে। আমরা মনে করেছিলাম, ওয়াসার ১১টি জোন থেকে ২২টি নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষা করলেই হবে। আমরা তো মনে করি যে ২৯২টি অভিযোগের মধ্যে কয়েকটি পরীক্ষা করলেই প্রমাণিত হবে। আমরা সাধারণ জ্ঞান থেকে বিষয়টি চিন্তা করছি।’ আদালত বলেন, ‘এই প্রতিবেদন দেখে বোঝা যাচ্ছে না যে একই নমুনা আলাদা আলাদা ল্যাবে পরীক্ষা করা হবে কি না। তবে এটাও ঠিক যে আমরা টেকনিক্যাল বিষয়টি জানি না। তাই বিশেষজ্ঞদের মতামত জানা দরকার। এর পরই আদেশ দেওয়া যথাযথ হবে।’

এ সময় রিট আবেদনকারী আইনজীবী তানভির আহমেদ বলেন, ‘ওয়াসার এমডির স্বাক্ষরিত প্রতিবেদনেই বলা হচ্ছে যে ৫৯টি এলাকার পানিতে ময়লা। তাহলে উনি কিভাবে বলেন যে ওয়াসার পানি শতভাগ পিওর।’ তিনি বলেন, ‘যারা ওয়াসার পানি নিয়ে প্রতিবাদ করেছেন তাঁদের হয়রানি করা হচ্ছে। তাই আশঙ্কা করছি, পানি পরীক্ষা কমিটির ওপর প্রভাব বিস্তার করা হতে পারে। এ কারণে হয়তো কমিটি সঠিক প্রতিবেদন দিতে পারবে না। তাই ওয়াসার এমডি যাতে কমিটির ওপর কোনো প্রভাব বিস্তার করতে না পারেন সে জন্য আদেশ চাচ্ছি।’

এ সময় আদালত বলেন, ‘এই মুহূর্তে আদেশ দিচ্ছি না। তা ছাড়া আমরা মনে করি না যে কমিটির ওপর প্রভাব বিস্তার করতে পারবেন। কারণ কমিটির সদস্যরা সমাজে সম্মানিত ব্যক্তি।’

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা ময়লা পানিপ্রবণ এলাকা

মডস জোন-১ : যাত্রাবাড়ী, বাসাবো, মুগদা, রাজারবাগ, কুসুমবাগ, জুরাইন, মানিকনগর, মাণ্ডা, দোলাইরপাড় ও মাতুয়াইল; মডস জোন-২ : ভাগলপুর, লালবাগ, বকশীবাজার ও শহীদনগর; মডস জোন-৩ : জিগাতলা, ধানমণ্ডি, শুক্রাবাদ, কলাবাগান, ভূতের গলি ও মোহাম্মদপুর; মডস জোন-৪ : শেওড়াপাড়া, পীরেরবাগ, মনিপুর, পাইকপাড়া, কাজীপাড়া ও মিরপুর; মডস জোন-৫ : মহাখালী ও তেজগাঁও; মডস জোন-৬ : সিদ্ধেশ্বরী, শাহজাহানপুর, খিলগাঁও, মগবাজার, নয়াটোলা, রামপুরা, মালিবাগ ও পরীবাগ; মডস জোন-৭ : কদমতলী, দনিয়া, শ্যামপুর, রসুলবাগ, মেরাজনগর, পাটেরবাগ, শনির আখড়া, কোনাপাড়া ও মুসলিমনগর; মডস জোন-৮ : বাড্ডা, আফতাবনগর ও ভাটারাসহ চারটি এলাকা; মডস জোন-৯ : উত্তরা, খিলক্ষেত, ফায়েদাবাদ, মোল্লারটেক ও রানাভোলা; মডস জোন-১০ : কাফরুল, কাজীপাড়া, মিরপুর, কচুক্ষেত ও পল্লবী।

মন্তব্য