kalerkantho

গণমাধ্যমকর্মীদের সুরক্ষার জন্য কাজ করছে সরকার

পার্থ সারথি দাস   

১৫ মে, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



গণমাধ্যমকর্মীদের সুরক্ষার জন্য কাজ করছে সরকার

বাংলাদেশের গণমাধ্যম এখন ডিজিটাল গণমাধ্যমের দাপটে প্রতিকূল অবস্থায় আছে। প্রধানত, বিজ্ঞাপননির্ভর টেলিভিশন ও সংবাদপত্রের জন্য বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর বার্ষিক বিজ্ঞাপনে ভাগ বসিয়েছে ফেসবুক, ইউটিউবসহ বিভিন্ন ডিজিটাল মাধ্যম। এক বছর আগে আইন সংশোধন করেও সরকার বলতে গেলে কোনো রাজস্ব আয় করতে পারেনি ফেসবুকসহ ডিজিটাল মাধ্যম থেকে। তবে সরকার গণমাধ্যমকর্মীদের সুরক্ষায় গণমাধ্যমকর্মী চাকরির শর্তাবলি আইন, জাতীয় সম্প্রচার আইন করার উদ্যোগ নিয়েছে। বিজ্ঞাপনের তহবিল সংকট মেটাতে বিদেশের ডিজিটাল মাধ্যমে অর্থপাচার রোধেও সরকার পথ খুঁজছে। গত সোমবার রাতে রাজধানীর ধানমণ্ডিতে আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে কালের কণ্ঠ’র সঙ্গে একান্তে আলাপকালে এসব বিষয় জানিয়েছেন তথ্যমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, গত ১০ বছরে বাংলাদেশের গণমাধ্যমের ব্যাপক বিকাশ ঘটেছে। ১০ বছর আগে দৈনিক পত্রিকা ছিল ৭৫০, এখন সেটি ১২৫০। টেলিভিশন চ্যানেল ছিল ১০টি। এখন পর্যন্ত লাইসেন্স দেওয়া হয়েছে ৪৪টির। অনলাইন গণমাধ্যম ছিল কয়েকটি, এখন হয়েছে কয়েক হাজার। যেকোনো জিনিসের ব্যাপ্তি ঘটলে সমস্যাও যুক্ত থাকে। গণমাধ্যমও সেটা থেকে মুক্ত নয়। বর্তমানে বহুমাত্রিক মিডিয়া, অনলাইন মিডিয়া, একই সঙ্গে সোশ্যাল মিডিয়া চালু রয়েছে। সারা পৃথিবীতেও তা চালু আছে। আগে মানুষকে নির্ভর করতে হতো টিভি বা সংবাদপত্রের ওপর। এখন কোনো টেলিভিশনের বা সংবাদপত্রের সাহায্য ছাড়াই একজন মানুষ তার সংবাদ বা অনুভূতি প্রকাশ করতে পারে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি পোস্ট দিলে অনায়াসে সেটি লাখ লাখ মানুষের কাছে পৌঁছে যাচ্ছে। হৃদয় স্পর্শ করার মতো পোস্ট হলে ভাইরাল হয়।

হাছান মাহমুদ বলেন, ‘আমাদের দেশের গণমাধ্যমগুলো প্রধানত বিজ্ঞাপনের ওপর নির্ভরশীল। এটি ভাগাভাগি হয়ে গেছে পত্রিকা ও টেলিভিশনের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায়। বিজ্ঞাপন বাড়েনি। অনেক বিজ্ঞাপন চলে গেছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। আবার অনেক বিজ্ঞাপন আইন বহির্ভূতভাবে বিদেশি টেলিভিশনে চলে গেছে। ফলে গণমাধ্যমের ব্যাপ্তির পাশাপাশি যে অর্থনৈতিক শক্তি অর্জনের কথা ছিল, তা হয়নি।’ এ বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে অনেকগুলো পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমাকে প্রধানমন্ত্রী দায়িত্ব দেওয়ার পর বিদেশি চ্যানেলে যে বিজ্ঞাপন সম্প্রচার হচ্ছে তা বন্ধে কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছি। বিদেশি চ্যানেলে বিজ্ঞাপন সম্প্রচার দণ্ডনীয় অপরাধ। আমরা আইন প্রয়োগ করার উদ্যোগ গ্রহণ করেছি। যাতে দেশের বিজ্ঞাপন বাইরে চলে না যায়। হাজার কোটি টাকার বিজ্ঞাপন বাইরে চলে যাচ্ছে, টাকা পাচার হচ্ছে। ফেসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যে বিজ্ঞাপন আমাদের দেশ থেকে যাচ্ছে তার বিপরীতে আমাদের সরকার রাজস্ব পাচ্ছে না বললেই চলে। কিন্তু অন্যান্য দেশ এই রাজস্ব পায়। এখানে আরো নিয়মনীতি করতে হবে।’ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিজ্ঞাপন প্রচারের জন্য সরকার যাতে রাজস্ব পায় সে জন্য বিভিন্ন পক্ষের সঙ্গে আলোচনা চলছে বলে জানান তিনি।

গণমাধ্যমকর্মীদের সুরক্ষার জন্য সরকার কাজ করছে জানিয়ে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের দেশে গণমাধ্যমগুলো বিজ্ঞাপনের হার কমিয়ে বিজ্ঞাপন নিচ্ছে। গণমাধ্যমের অর্থনৈতিক দুর্বলতার এমন বিভিন্ন কারণ আমরা চিহ্নিত করছি। গণমাধ্যম যাতে এসব দুর্বলতা কাটিয়ে উঠে অর্থনৈতিকভাবে শক্তি অর্জন করতে পারে সে জন্য সরকার কাজ করছে।’

গণমাধ্যমের কর্মীদের স্বার্থে নতুন আইন চূড়ান্ত করার বিষয়ে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘গণমাধ্যমকর্মী চাকরির শর্তাবলি আইনের খসড়া তৈরি করা হয়েছে। সেটি আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। সেখানে ভেটিংয়ের শেষ পর্যায়ে আছে। আমরা চেষ্টা করছি জাতীয় সংসদের আগামী অধিবেশনে এটি উপস্থাপন করা যায় কি না। এ ছাড়া জাতীয় সম্প্রচার আইনও ভেটিংয়ের শেষ পর্যায়ে আছে। সেটিও আগামী অধিবেশনে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করব। সবার দাবির পরিপ্রেক্ষিতেই এসব আইন করা হচ্ছে।’ তাঁর মতে, এই দুটো আইন হলে গণমাধ্যমকর্মীরা আইনের মাধ্যমেই সুরক্ষা পাবেন। টেলিভিশন, রেডিও, অনলাইনসহ গণমাধ্যমকর্মীদের আইনি সুরক্ষার জন্য করা হচ্ছে জাতীয় সম্প্রচার আইন। ভুঁইফোড় অনলাইন গণমাধ্যম রয়েছে। কিছু অনলাইন অনেক সময় গুজব ছড়ায়। সবার আগে সর্বশেষ সংবাদ দিতে গিয়ে ভুল সংবাদ পরিবেশন করে। সে ক্ষেত্রে একটি শৃঙ্খলা আনা সম্ভব হবে।

নবম ওয়েজবোর্ড বাস্তবায়নে মন্ত্রিসভা কমিটি করা হয়েছে উল্লেখ করে তথ্যমন্ত্রী বলেন, এই কমিটির চেয়ারম্যান করা হয়েছে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরকে। তিনি সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন থাকায় কাজ একটু পিছিয়েছে। তিনি দ্রুত ফিরে আসবেন। তিনি ফিরে এলে বৈঠক ডেকে নবম ওয়েজবোর্ডের বাকি কাজ সম্পন্ন করা হবে।

 

মন্তব্য