kalerkantho

সাক্ষাৎকার

কার্যকর সরকারি ব্যবস্থাপনার অভাবে কৃষকের লোকসান

ড. মো. শাহজাহান কবীর, মহাপরিচালক, ব্রি

নিজস্ব প্রতিবেদক, গাজীপুর   

১৫ মে, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



কার্যকর সরকারি ব্যবস্থাপনার অভাবে কৃষকের লোকসান

বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের (ব্রি) মহাপরিচালক ড. মো. শাহজাহান কবীর বলেছেন, গোলায় উঠছে নতুন ধান। কিন্তু কৃষকের মুখ মলিন। একদিকে উৎপাদন খরচ বেশি, অন্যদিকে বিক্রির বেলায় দাম কম।

কিন্তু সমন্বিত উদ্যোগ নিলেই লাভবান হবে কৃষক। এ ক্ষেত্রে কৃষক ও সরকারকেই উদ্যোগ নিতে হবে। গতকাল মঙ্গলবার কালের কণ্ঠকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ কথা বলেন।

শাহজাহান কবীর বলেন, কৃষকের কথা বিবেচনা করে সরকারকে সার, বীজ, ডিজেল ও বিদ্যুৎসহ অন্যান্য ক্ষেত্রে ভর্তুকি দিতে বা বাড়াতে হবে। সময়মতো এবং ন্যায্য মূল্যে ধান ক্রয় করতে হবে। কৃষকরা যাতে সরাসরি বিক্রয়কেন্দ্রে ধান বিক্রি করতে পারে তা নিশ্চিত করতে হবে। তিনি বলেন, ধানের ক্রয়-বিক্রয় ও সংগ্রহের কার্যকর সরকারি ব্যবস্থাপনা গড়ে না ওঠায় প্রতি মৌসুমেই লোকসান গুনে সর্বস্বান্ত হতে হচ্ছে কৃষকদের। তাদের ন্যায্য মূল্য প্রাপ্তি নিশ্চিত বা সহজ করার কোনো পদক্ষেপই যেন ফলপ্রসূ হচ্ছে না। প্রতিবছরই সার, বীজ, কৃষিপণ্য কৃষকরা যাতে সঠিক সময়ে এবং ন্যায্য মূল্যে পায়, সে বিষয়ে সরকার তৎপর থাকে। কিন্তু নতুন ধান উঠলেই দাম নিয়ে দিশেহারা হয় কৃষক। সরকার পদক্ষেপ নিতে নিতে কৃষকের ধান বিক্রি শেষ হয়ে যায়। এতে প্রান্তিক কৃষকের ঘরে সুফল যায় না। সরকারের সব উদ্যোগের ফসল ঘরে তুলে মধ্যস্বত্বভোগীরাই। উত্পাদনের বিশাল অর্জন ম্লান হয়ে যায়। ধান উত্পাদনে এসব কিছুর সমন্বয় ঘটানো গেলেই কেবল কৃষক লাভবান হবে।

ব্রির ডিজি বলেন, বর্তমানে বিঘায় কৃষকের হিসাবে ক্ষতি হচ্ছে ১৫০-২০০ টাকা। প্রচলিত পদ্ধতিতে চাষ করে কৃষক যে পরিমাণ ফলন পায় ব্রি উদ্ভাবিত আধুনিক পদ্ধতিতে চাষ করে একই খরচে ১৬ শতাংশ বেশি ধান উত্পাদন সম্ভব। অর্থাৎ ২০ মণের পরিবর্তে ২৪ মণ ধান পাওয়া সম্ভব। আবার কৃষক সবচেয়ে বেশি ভোগান্তির শিকার হচ্ছে ধান কাটার শ্রমিক নিয়ে। শ্রমিকের মজুরি বৃদ্ধির কারণে কৃষককে লোকসান গুনতে হচ্ছে। শ্রমিক দিয়ে ধান কাটা, মাড়াই ও ঝাড়াইয়ের জন্য টাকা ও সময় বেশি লাগছে। কিন্তু কৃষক ধান কাটা ও মাড়াইয়ের জন্য রিপার ব্যবহার করলে টাকা ও সময় অনেক কম লাগবে। এ যন্ত্র বাংলাদেশের আবহাওয়া উপযোগী করে সংস্করণ করা হয়েছে। এটি সমন্ধে ধারণা কম বলেই কৃষক ব্যবহার করতে চায় না। ব্যবহার করলে কৃষক লাভবান হবে। একদশক আগেও কৃষক হাল চাষের ওপর নির্ভর ছিল। কলের লাঙল লাগলেও ব্যবহার করতে অনাগ্রহী ছিল। কিন্তু এখন কৃষিতে সর্বত্র কলের লাঙল ব্যবহৃত হচ্ছে।

শাহজাহান কবীর বলেন, এবার বোরা ধান উৎপাদনের টার্গেট ছিল এক কোটি ৫৩ লাখ মেট্রিক টন। হয়েছে এক কোটি ৯৬ লাখ টন, যা টার্গেটের চেয়ে ৪৩ লাখ টন বেশি। কৃষকরা যাতে বেশি দাম পায় সে জন্য খাদ্য মন্ত্রণালয় এবার ১৪ লাখ টন চাল ক্রয়ের ঘোষণা দিয়েছে। খাদ্য মন্ত্রণালয় আশা করছে চাল ক্রয় শুরু করলে বাজারে ধানের দাম বাড়বে। যেখানে টার্গেটের চেয়ে ৪৩ লাখ টন ধান বেশি উত্পাদন হয়েছে, তার বিপরীতে মাত্র ১৪ লাখ টন চাল ক্রয়ের ঘোষণায় মূল্য বৃদ্ধির সম্ভাবনা কম।

 

মন্তব্য