kalerkantho

আজ তিন শ খুঁজবে বাংলাদেশ

সাইদুজ্জামান, ডাবলিন থেকে   

১৫ মে, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



আজ তিন শ খুঁজবে বাংলাদেশ

গতকাল প্র্যাকটিসে যাওয়ার সময় মিনহাজুল আবেদিন যা ইঙ্গিত দিলেন তাতে আজ আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে আনুষ্ঠানিকতার ম্যাচে খোলনলচে বদলে যাওয়ার কথা বাংলাদেশ দলের। কিন্তু বিশ্বকাপের দ্বারপ্রান্তে আয়ারল্যান্ড ম্যাচ তো আর আয়েশে ডাবলিনের দৃষ্টিনন্দন পার্কে নির্ভার হেঁটে বেড়ানো নয়। এ ম্যাচেরও বাজারমূল্য অনেক। যাঁরা ম্যাচ পাননি এখনো, যাঁরা সদ্যই ফর্মে ফিরেছেন, যাঁরা ছোটখাটো চোট নিয়ে পড়ে আছেন, এমনকি বিশ্বকাপ একাদশে নিশ্চিত মহাতারকার কাছেও আজকের ম্যাচটি সমান গুরুত্বপূর্ণ।

মাশরাফি বিন মর্তুজার কথাই ধরুন। প্রিমিয়ার লিগে সব ম্যাচ খেলার ধকল নিয়ে ডাবলিনে এসেছেন। ফাইনাল নিশ্চিত করা টানা দুই জয়ে ‘ফাউন্ডার অব দ্য ম্যাচ’ হয়েছেন তিনি। তাতে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে আজকের ম্যাচে বিশ্রামের দাবি অধিনায়ক করতেই পারেন। কিন্তু সেটি তিনি করবেনই, এমন সম্ভাবনা ক্ষীণ। সুসময়ে ড্রেসিংরুমে বসে থাকতে চায় নাকি কেউ! তামিম ইকবালেরও তো একাদশে জায়গা নিয়ে কোনো ভাবনা নেই। তবু গতকাল তাঁকে দেখা গেল ঐচ্ছিক অনুশীলনে যোগ দিতে টিম বাসে উঠছেন, যিনি কিনা ম্যাচের আগের দিন পুরোদস্তুর নকও করেন না। মুশফিকুর রহিমকে বিশ্রামের প্রস্তাব দেওয়াকে তাঁর কিপিং গ্লাভস কেড়ে নেওয়ার মতোই স্পর্শকাতর মনে করে টিম ম্যানেজমেন্ট। সাকিব আল হাসানকে বসাবেন? কেন? উত্তর নেই কারো কাছে। তিনিও খেলছেন।

এ রকম এক দুই করে গতকাল টিম হোটেলে অনেকের সঙ্গে কথা বলে যা পাওয়া গেল, তার যোগফলে একাদশে বড় কোনো পরিবর্তন ঘটার সম্ভাবনা মেলেনি। টিম ম্যানেজমেন্ট হয়তো ভাবছে অধিনায়ককে বিশ্রাম দিয়ে রুবেল হোসেনের ফিটনেসের সবশেষ আপডেট নিয়ে নিতে। টানা দুই ফিফটিতে বিশ্বকাপে তামিমের ওপেনিং সঙ্গী হওয়ার জোরালো দাবি তুলে ফেলা সৌম্য সরকারের পরিবর্তে আজ হয়তো ম্যাচ প্র্যাকটিসের সুযোগ পাবেন লিটন কুমার দাশ। এর বাইরে একাদশে পরিবর্তন নিয়ে গভীর কোনো আলোচনা নেই কোথাও।

থাকার কথাও নয়। আগের দুই ম্যাচে খেলা একাদশের অনেকেরই তো ঠিকঠাক ম্যাচ প্র্যাকটিস হয়নি। সবশেষ ম্যাচে একটি বলই খেলার সুযোগ পেয়েছিলেন সাব্বির রহমান। কিন্তু ক্যারিবীয় বোলার আকাশছোঁয়া বাউন্সার দেওয়ায় ওয়াইড বলে নিষ্পত্তি হয়ে যাওয়ায় ব্যাটে-বলে করা হয়নি তাঁর। তাই ম্যাচ পরিস্থিতিতে ব্যাটিংয়ের অনুশীলনও হয়নি সাব্বিরের। তবে এ দুঃখ তিনি আড়াল করে গেছেন দলীয় স্বার্থের জয়ধ্বনি তুলে, ‘আমি ব্যাটিং পাচ্ছি না, এটা তো দারুণ ইতিবাচক ব্যাপার। টপ অর্ডারই ম্যাচ জিতিয়ে আসছে। এটা ভালো ইঙ্গিত দলের জন্য।’

তবে প্রতিদিন তো আর রবিবার নয়, বিশ্বকাপে এমন ম্যাচ আসবে যখন সাব্বিরের মতো লোয়ার মিডল অর্ডার ব্যাটসম্যানের কাছেও বিস্তর চাহিদা থাকবে দলে। সে চাহিদা পূরণের প্রস্তুতির জন্যই ত্রিদেশীয় সিরিজে ব্যাটিংয়ের মহড়া দেওয়া দরকার সাব্বিরের। কিন্তু ঘুরেফিরে ওই একই কথা তাঁর, ‘টপ অর্ডার ভালো করছে। এটা আমাদের দলের জন্য ভালো দিক।’

ডাবলিনে প্রস্তুতি ম্যাচের পর থেকে যা যা ঘটছে তার প্রায় সবই ভালো বাংলাদেশের জন্য। তামিমের আপাতত একজন সঙ্গী সৌম্য সরকারের মাঝে খুঁজে পেয়েছে বাংলাদেশ। মেহেদী হাসান মিরাজের ‘ইংলিশ কন্ডিশনে’ বোলিং সামর্থ্য নিয়ে সংশয় ছিল অনেকের। তবে ত্রিদেশীয় সিরিজে ক্যারিবীয়দের বিপক্ষে দুই ম্যাচে মানসিক সেই চাপ থেকে মুক্তি দিয়েছেন মিরাজ। একই দলের বিপক্ষে সবশেষ ম্যাচে মুস্তাফিজুর রহমানের নৈপুণ্যও আশাজাগানিয়া। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত তো আর এক ম্যাচে নেওয়া হয় না। আজকের ‘আনুষ্ঠানিক’ ম্যাচ কিংবা ত্রিদেশীয় সিরিজের ফাইনাল থেকে শুরু করে বিশ্বকাপের আগে ভারত ও পাকিস্তানের বিপক্ষে প্রস্তুতি ম্যাচে ‘ফাইন টিউনিং’ সেরে নিতে চায় বাংলাদেশ।

এ তাগাদা থেকেই দলের সঙ্গে বয়ে বেড়ানো ১৯ জনের সবাইকে ম্যাচ দেওয়ার সুযোগ পাচ্ছে না টিম ম্যানেজমেন্ট। আশ্চর্য ব্যাপার, দল গঠনে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পাওয়ার কথা টিম ম্যানেজমেন্টের। ঘটনাচক্রে সেটির অংশ প্রধান নির্বাচক মিনহাজুলও। তবু কেন যে দলটা ১৯ জনের হলো! আর মুখে না বললেও এ নিয়ে যারপরনাই বিরক্ত টিম ম্যানেজমেন্ট। যে বোর্ড বিশ্বকাপের ১৫ জনের শেষ দুজনকে মনে করে ‘দুধভাত’, সেই তারাই কী করে যে পাঁচ ম্যাচের একটা আসরে ১৯ জনের দল জুড়ে দেয়!

যাক, নিয়ত ঘটতে থাকা এমন ঘটনায় আর কিছু বলার নেই। এবারের শিক্ষা থেকে ভবিষ্যতে এমন কাণ্ড যে আর হবে না, তা নিশ্চিত করে বলা অসম্ভব। অতএব, যাবতীয় তুঘলকি কাণ্ড উপেক্ষা করে মাঠের ক্রিকেটে মন দিতে হচ্ছে কোচ-অধিনায়ককে। সে ভাবনায় আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে আনুষ্ঠানিকতার ম্যাচও আছে।

আশ্চর্য এবং একইসঙ্গে আশ্বস্ত লাগছে এ কারণেই যে আয়ারল্যান্ড ম্যাচ যে মামুলি ‘পুশওভার’ হবে না, এমন মনে করছেন দলের সবাই। গত পরশু ম্যালাহাইডে ক্যারিবীয়দের বিপক্ষে আরেকটি অনায়াস জয়ের পর মাশরাফিই বলছিলেন, ‘এমন উইকেটে আইরিশদের হারানো এত সহজ হবে না।’ অভ্যস্ত মাঠের কন্ডিশন সব দলই সর্বোচ্চ সদ্ব্যবহার করতে জানে। তার ওপর আয়ারল্যান্ড ক্রিকেটের আদি ব্যাকরণ বই খুলে খেলে। তাতে ধরেই নেওয়া যায় যে ক্যারিবীয়দের মতো উচ্চাভিলাষী ক্রিকেট স্বাগতিকরা খেলবে না। শুরুতে সতর্ক থেকে ইনিংসের শেষ দিকে ঝাঁপাবে রানের জন্য। ক্লনটার্ফের স্পঞ্জি উইকেটে সঠিক লেন্থটাও তাঁদের জানা। ক্যারিবীয়দের কাছে দুই ম্যাচে হারলেও একবার ৩২৭ করেছে দলটি, যা এ আসরে এখনো দূরের বাতিঘরই রয়ে গেছে বাংলাদেশের।

বিশ্বকাপের ম্যাজিক্যাল এই স্কোরটাই হতে পারে আনুষ্ঠানিকতার ম্যাচে বাংলাদেশের মূল এজেন্ডা। তাতে একরকম নিশ্চিত যে আজ টস জিতলে ব্যাটিং নেবে বাংলাদেশ। পরে ব্যাটিং করে বোলারদের কল্যাণে যে তিন শর লক্ষ্যমাত্রা পাওয়াই যাচ্ছে না!

মন্তব্য