kalerkantho

রবিবার । ২৬ মে ২০১৯। ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬। ২০ রমজান ১৪৪০

‘খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবি জানাতে শপথ নিয়েছি’

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২৬ এপ্রিল, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



‘খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবি জানাতে শপথ নিয়েছি’

সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে বিএনপি থেকে নির্বাচিত ঠাকুরগাঁও-৩ আসনের সংসদ সদস্য জাহিদুর রহমান শপথ নিয়েছেন। স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে জাতীয় সংসদ ভবনে তাঁকে শপথবাক্য পাঠ করান।

জনগণের চাপে দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে এই শপথ নিতে বাধ্য হয়েছেন বলে শপথগ্রহণ শেষে বিএনপি নেতা জাহিদুর রহমান দাবি করেছেন। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘সংসদে গিয়ে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তি এবং এলাকাবাসীর দাবি নিয়ে কথা বলতে চাই। একই সঙ্গে এলাকার হাজার হাজার নিরপরাধ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের জন্য প্রধানমন্ত্রীর কাছে দাবি জানাব। বলব, আপনি এগুলো দেখেন। এগুলোর বাদী পুলিশ। পুলিশ যা করেছে, সব মিথ্যা মামলা করেছে। আপনার লোক কোনো মামলা করেনি।’ গণতন্ত্রের স্বার্থে সেসব মামলা প্রত্যাহার করা হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, আগামী ৩০ এপ্রিলের মধ্যে সংসদ সদস্যদের শপথ নিতে হবে। কারণ কার্যপ্রণালী বিধি অনুযায়ী নির্বাচনে বিজয়ী কোনো সংসদ সদস্য ওই সংসদের প্রথম অধিবেশন শুরুর ৯০ দিনের মধ্যে শপথ না নিলে তাঁর আসন শূন্য হবে। একাদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন গত ৩০ জানুয়ারি শুরু হয়। সেই হিসাবে শপথ না নিলে ৩০ এপ্রিলের পর তাঁদের আসন শূন্য হবে।

সংসদ সচিবালয় জানায়, গতকাল সকালেই জাহিদুর রহমান শপথ নেওয়ার বিষয়ে তাঁর আগ্রহের কথা জানিয়ে স্পিকারের কাছে চিঠি লেখেন। এরপর শপথগ্রহণের জন্য তাঁকে সংসদে আমন্ত্রণ জানানো হয়। সকাল ১১টার আগে সংসদে এসে স্পিকারের দপ্তরে বসেন জাহিদুর রহমান। দুপুর ঠিক ১২টায় তাঁকে শপথ পড়ান স্পিকার। শপথ নিয়ে নিয়মমাফিক সংসদসচিবের কক্ষে গিয়ে স্বাক্ষর বইয়ে সই করেন। পরে সংসদের নিচতলায় সংসদ সদস্য হিসেবে পরিচয়পত্র নেন। সেখান থেকে বেরিয়ে অপেক্ষারত সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন দীর্ঘদিন পরে সংসদে বিএনপির এই প্রতিনিধি।

শপথগ্রহণ শেষে তাত্ক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় সাংবাদিকদের জাহিদুর রহমান বলেন, ‘দীর্ঘ ৩০ বছর ধরে মাঠে লড়াই করেছি। আমি এবার দিয়ে চতুর্থবার নির্বাচন করলাম। আসনটি বিএনপির ছিল না। স্বাধীনতার পর থেকে এ আসন আওয়ামী লীগের। এই প্রথম বিএনপি বিজয়ী হয়েছে।’ তিনি আরো বলেন, ‘আমার নেত্রী একজন বয়স্ক নারী, ৭৩ বছর বয়স। উনাকে যেন গণতন্ত্রের স্বার্থে মুক্ত করে দেওয়া হয়, সংসদে এই আহ্বান জানাব। এটাই আমার সংসদ সদস্য হিসেবে প্রথম অঙ্গীকার।’

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে জাহিদুর রহমান বলেন, ‘এই শপথ দলের সিদ্ধান্তের বাইরেই। আমি দীর্ঘদিন তো অপেক্ষা করলাম। যেহেতু সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছি, এলাকার মানুষের প্রচণ্ড চাপ। ১৫ দিন ধরে ঢাকায় আছি। এলাকার মানুষের একটাই বক্তব্য, শপথ নিয়ে ফিরে আসেন।’ শপথগ্রহণের আগে দলের কোনো পর্যায়ে কথা হয়েছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘না, আগে বলেছি। দেখাও করেছি। কোনো প্রকারে সম্মতি দেয়নি।’

দল থেকে বহিষ্কৃত হওয়ার ভয় আছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমার বিষয়ে দল যেকোনো সিদ্ধান্ত নিতেই পারে। দল যদি মনে করে বহিষ্কার করবে, করতেই পারে। তবে বহিষ্কার করলেও কিন্তু আমি দলে আছি। আমি এই দলের একজন নিবেদিতপ্রাণ কর্মী। সেই ছাত্রজীবন থেকে দীর্ঘ ৩৮ বছর এই দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত। কাজেই বিএনপি আমাকে বহিষ্কার করলেও আমি তো বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত হব না। আমি বিএনপির সঙ্গে আছি, থাকব।’ তিনি বলেন, ‘জনগণ আমাকে নির্বাচিত করেছে। তাদের প্রত্যাশা আমি যেন শপথ গ্রহণ করে এলাকা ও দেশের বিষয়ে ভূমিকা পালন করতে পারি।’

মন্তব্য