kalerkantho

রবিবার । ২৬ মে ২০১৯। ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬। ২০ রমজান ১৪৪০

এইচআরডাব্লিউর প্রতিবেদনে তথ্য

শ্রমিক পীড়নের নেপথ্যে বৈশ্বিক ক্রেতা প্রতিষ্ঠান

বিশেষ প্রতিনিধি   

২৫ এপ্রিল, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



শ্রমিক পীড়নের নেপথ্যে বৈশ্বিক ক্রেতা প্রতিষ্ঠান

অল্প সময়ের মধ্যে যতটা সম্ভব কম দামে পোশাক পণ্য কিনতে চায় বৈশ্বিক ক্রেতা প্রতিষ্ঠানগুলো। আর এর মাধ্যমে তারা বাংলাদেশসহ দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় পোশাকশিল্পে নিপীড়নে অনুঘটক হিসেবে কাজ করছে। নিউ ইয়র্কভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডাব্লিউ) গতকাল বুধবার ভোরে লন্ডন থেকে এক প্রতিবেদনে এ তথ্য তুলে ধরেছে। ‘বাস টিকিটের টাকা দিচ্ছে এবং আকাশে ওড়ার প্রত্যাশা করছে : যেভাবে পোশাক ব্র্যান্ডগুলোর পণ্য কেনার চর্চা শ্রমিক নিপীড়নে ভূমিকা রাখছে’ শীর্ষক ৬৬ পৃষ্ঠার ওই প্রতিবেদনে বাংলাদেশ, কম্বোডিয়া,

ভারত, মিয়ানমার, পাকিস্তানসহ দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশীয় দেশগুলো থেকে পোশাক পণ্য সরবরাহকারীদের সঙ্গে বৈশ্বিক ক্রেতা প্রতিষ্ঠানগুলোর আচরণের বিশ্লেষণ রয়েছে।

এইচআরডাব্লিউ বলেছে, পোশাক ও ফুটওয়্যার (পাদুকা) ব্র্যান্ডগুলোর যেসব ব্যাবসায়িক আচরণের কারণে দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশীয় দেশগুলোর কারখানায় শ্রমিক নিপীড়ন হয় সেগুলো বন্ধ হওয়া উচিত। বৈশ্বিক পোশাক পণ্য ক্রেতা প্রতিষ্ঠাগুলো বাড়তি দাম না দিলেও স্বল্প সময় বেধে দিয়ে পণ্য জোগান দিতে কারখানাগুলোকে নির্দেশ দেয়। সেটি সামাল দিতে কারখানাগুলো যে উদ্যোগ নেয় তাতে শ্রমিকরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

এইচআরডাব্লিউ তার অনুসন্ধানে দেখতে পেয়েছে, অনেক বৈশ্বিক ব্র্যান্ড তাদের পণ্য উৎপাদনকারী কারখানাগুলোতে অধিকার নিশ্চিত করার অঙ্গীকার করলেও পণ্যের দাম কমাতে বা দ্রুত পণ্য সরবরাহ করার জন্য কারখানাগুলোর ওপর ব্যাপক চাপ সৃষ্টি করে।

সরবরাহকারীদের অনেকে বলেছেন, বৈশ্বিক ক্রেতা প্রতিষ্ঠানগুলোর ওই চাপের পাশাপাশি খরচ কমানোর নিপীড়নমূলক কৌশল ছিল, যা কার্যত শ্রমিকদের ক্ষতি করেছে। একজন কারখানা মালিক এই সংকটের সারমর্ম বোঝাতে গিয়ে এইচআরডাব্লিউকে বলেছেন, ক্রেতা ব্র্যান্ডগুলো ‘বাস টিকিটের টাকা দিচ্ছে, আর আকাশে ওড়ার আশা করছে।’

এইচআরডাব্লিউর নারী অধিকার বিভাগের জ্যেষ্ঠ পরামর্শক অরুণা কেশাপ বলেন, ‘বৈশ্বিক পোশাক পণ্য প্রতিষ্ঠানগুলো খরচ কমানোর জন্য সরবরাহকারী কারখানাগুলোর ওপর চাপ সৃষ্টি করে কার্যত শ্রমিকদের ক্ষতি করছে। এ ধরনের ভুল সব সময় মানবাধিকারের বড় বিপর্যয় ডেকে আনে।’

তিনি বলেন, পোশাক পণ্য ব্র্যান্ডগুলোকে তাদের ব্যাবসায়িক চর্চা বদলানো উচিত। কারখানা পর্যায়ে যাতে শ্রমিক পীড়ন না হয় সেদিকেও তাদের নজর দেওয়া প্রয়োজন।

এইচআরডাব্লিউ তার প্রতিবেদনে পোশাকশিল্প খাতের ব্যক্তিদের বেশ কিছু উদ্ধৃতি উল্লেখ করেছে। ২৫ বছর ধরে পোশাকসহ বিভিন্ন ব্র্যান্ডের পণ্য সরবরাহের সঙ্গে যুক্ত এক ব্যক্তি গত ১৫ জানুয়ারি লন্ডনে এইচআরডাব্লিউকে বলেছেন, ‘পোশাক পণ্যের ক্রেতাদের দিক থেকে সব সময় সর্বনিম্ন দামে পণ্য সরবরাহের চাপ থাকে। দামের সঙ্গে কারখানার মানের সংযোগ নেই। কোনো ক্রেতা প্রতিষ্ঠানের প্রত্যাশিত কম দামে পণ্য সরবরাহ করতে না পারলে তাদের অপেক্ষাকৃত কম নিরাপত্তা মানের অন্য প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে পণ্য নেওয়ার সম্ভাবনা থাকে। এটিই এখানে ব্যাবসায়িক মডেল।’

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক পাকিস্তানি বলেন, ‘দাম নিয়ে দর-কষাকষির সুযোগ নেই। ক্রেতা প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে এখন অনেক বিকল্প আছে।’

চীনা এক সরবরাহকারী বলেছেন, ‘ফ্লাইটে বাড়তি খরচ এড়াতে অন্য পথে সময়মতো সরবরাহ পৌঁছনোর লক্ষ্যে শ্রমিকদের সস্তায় খাটানোই বরং তার জন্য তুলনামূলক লাভজনক।’

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অন্য এক পাকিস্তানি বলেন, ‘সরবরাহ আদেশের বাড়তি চাপের কারণে শ্রমিকদের দিয়ে বাড়তি কাজ করানো হয়। অনেক সময় নির্দিষ্ট সময়ে সরবরাহের আদেশ থাকলেও পোশাক পণ্য ক্রেতা প্রতিষ্ঠানগুলো ডিজাইন, মাপ অনুমোদন করতে দেরি করে। এর ফলে কারখানাগুলোর ওপর নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করতে বেশ বেগ পেতে হয়।’

ভারতীয় এক সরবরাহকারী বলেন, ‘মধ্যস্বত্বভোগী এজেন্টরা প্রতিটি পণ্যে ১০ রুপি করে নেয়। পোশাক পণ্যটির দাম ৫০ রুপি হোক আর ৫০০ রুপিই হোক, তাদের ওই অর্থ দিতে হয়।’

মন্তব্য