kalerkantho

সোমবার। ২৭ মে ২০১৯। ১৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬। ২১ রমজান ১৪৪০

পিপিপিতে সাফল্য নেই তবু থাকছে বরাদ্দ

২৫০০ কোটি থেকে ৩০০০ কোটি টাকা রাখা হতে পারে

সজীব হোম রায়   

২৫ এপ্রিল, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



পিপিপিতে সাফল্য নেই তবু থাকছে বরাদ্দ

২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট ক্ষমতায় আসার পর প্রথম বাজেটেই সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিকে (পিপিপি) ‘নব উদ্যোগ বিনিয়োগ প্রয়াস’ নামে অভিহিত করেছিলেন তখনকার অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। তিনি বলেছিলেন, পিপিপির মাধ্যমে সমুদ্র ও বিমানবন্দর, সাধারণ ও বিশেষায়িত হাসপাতাল, সড়ক ও রেলপথ এবং বড় বড় সেতু নির্মাণ করা হবে। তাই ২০০৯-১০ অর্থবছর থেকে প্রতিবারই ওই খাতে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের অনাগ্রহের কারণে ওই খাতে সাফল্য আসেনি গত ১০ বছরে।

এবার অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। তবে মন্ত্রী বদল হলেও পিপিপি খাতে বরাদ্দ দেওয়ায় খুব একটা হেরফের হচ্ছে না। আগামী অর্থবছরের বাজেটে এই খাতে দুই হাজার ৫০০ কোটি থেকে তিন হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হতে পারে। অর্থ মন্ত্রণালয় এ তথ্য জানা গেছে।

সূত্র মতে, ২০০৯ সালে বাজেট বক্তব্যে তখনকার অর্থমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেছিলেন, প্রতিবছর ৩৯ হাজার কোটি টাকা হিসাবে পাঁচ বছরে এক লাখ ৯৬ হাজার কোটি টাকা পাওয়া যাবে পিপিপি থেকে। কিন্তু বিনিয়োগ ঘাটতি মেটাতে যে খাতের ওপর নির্ভর করা হয়েছিল সে খাতেই নেই বেসরকারি বিনিয়োগ। দীর্ঘমেয়াদি বলে বেসরকারি খাত পিপিপিমুখী হয়নি। ফলে পিপিপির পুরো অর্থও খরচ হয়নি কখনো। ‘হানিফ ফ্লাইওভার’ ছাড়া পিপিপির মাধ্যমে কোনো প্রকল্পের কাজ শেষ হয়নি।

তা সত্ত্বেও ২০০৯-১০ অর্থবছরের পর থেকে টানা পাচ অর্থবছরই ওই খাতে তিন হাজার কোটি টাকা করে বরাদ্দ রাখা হয়। এরপর আবার টানা তিন অর্থবছর বরাদ্দ রাখা হয় দুই হাজার কোটি টাকা করে। আর চলতি ২০১৮-১৯ অর্থবছরে এ খাতে তিন হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। ওই বরাদ্দের মধ্যে এখন পর্যন্ত মাত্র এক হাজার ১০০ কোটি টাকা ছাড় করার আবেদন পেয়েছে অর্থ বিভাগ। যাচাই-বাছাই করে চলতি মাসেই ওই অর্থ ছাড় করা হবে। অর্থবছরের শেষ দিকে ছাড় করা সেই অর্থ কতটা কাজে লাগবে, সে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে। এ অবস্থার মধ্যেই আগামী অর্থবছরের জন্য দুই হাজার ৫০০ কোটি টাকা থেকে তিন হাজার কোটি টাকা পিপিপি খাতে বরাদ্দ দেওয়ার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। অর্থ বিভাগ জানিয়েছে, আগামী মাসে বরাদ্দের পরিমাণ চূড়ান্ত করা হবে।

অর্থ বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, আগামী অর্থবছরের বাজেটে পিপিপি সফল করতে আবারও নতুন কিছু উদ্যোগ নেওয়া হতে পারে। বাজেট বক্তব্যে এ বিষয়ে বিস্তারিত বলতে পারেন অর্থমন্ত্রী। পিপিপির সাফল্য নিশ্চিত করতে আগামী অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে (এডিপি) ৩০ শতাংশ প্রকল্প এ খাতের মাধ্যমে নিতে হবে বলে বাধ্যবাধকতা আরোপ করা হচ্ছে।

জানা গেছে, চলতি অর্থবছরে এডিপিতে পিপিপির ৭৮টি প্রকল্প ছিল, সংশোধিত এডিপিতে তা কমিয়ে ৩৭ করা হয়। ২০১৭-১৮ অর্থবছরের এডিপিতে পিপিপির প্রকল্প রাখা হয়েছিল ৩৬টি। পরে সংশোধিত এডিপিতে তা কমে দাঁড়ায় ৩০টিতে। ২০১৬-১৭ অর্থবছরে এডিপিতে পিপিপি প্রকল্প ছিল ৩২টি, ২০১৫-১৬ অর্থবছরে ছিল ৪০টি, ২০১৪-১৫ অর্থবছরে ৪০টি এবং ২০১৩-১৪ অর্থবছরের সংশোধিত এডিপিতে ছিল সর্বোচ্চ ৪৬টি।

 

 

মন্তব্য