kalerkantho

বুধবার । ২২ মে ২০১৯। ৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬। ১৬ রমজান ১৪৪০

পোশাক শ্রমিকের মজুরিতে গড় আয় ২৬% কমেছে

টিআইবির প্রতিবেদন

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২৪ এপ্রিল, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



পোশাক শ্রমিকের মজুরিতে গড় আয় ২৬% কমেছে

তৈরি পোশাক খাতের শ্রমিকদের সাম্প্রতিক মজুরি বৃদ্ধিকে শুভংকরের ফাঁকি বলে অভিহিত করেছে দুর্নীতিবিরোধী সংস্থা ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। সংস্থাটি বলছে, নতুন মূল মজুরি কাঠামোতে শ্রমিকদের আয় গড়ে ২৬ শতাংশ কমেছে।

রানা প্লাজা দুর্ঘটনার ছয় বছর উপলক্ষে ‘তৈরি পোশাক খাতে সুশাসন : অগ্রগতি ও চ্যালেঞ্জ’ শীর্ষক এক গবেষণা প্রতিবেদন তুলে ধরে টিআইবি এসব কথা বলেছে। টিআইবি বলেছে, শ্রম অধিকার ও সামাজিক নিরাপত্তায় এখনো অনেক চ্যালেঞ্জ রয়েছে। গত ছয় বছরে মালিকপক্ষ তাদের রপ্তানি আয় বাড়ানো ও ব্যবসা টিকিয়ে রাখতে যেভাবে গুরুত্ব দিয়েছে, একই হারে শ্রমিক অধিকার ও সামাজিক নিরাপত্তা বিষয়ে পর্যাপ্ত গুরুত্ব দেওয়া হয়নি।

গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর ধানমণ্ডির টিআইবির কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে প্রতিবেদনটি তুলে ধরা হয়। টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামানের সঞ্চালনায় প্রতিবেদনটি উপস্থাপন করেন কর্মসূচি কর্মকর্তা নাজমুল হুদা মিনা ও মো. মোস্তফা কামাল।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, ২০১৩ সালের এপ্রিল থেকে ২০১৯ সালের মার্চ পর্যন্ত সময়কে অন্তর্ভুক্ত করে টিআইবি এসব তথ্য উপস্থাপন করে। আর তথ্য সংগ্রহের সময় ধরা হয়েছে ২০১৮ সালের মে থেকে ২০১৯ সালের ২০ এপ্রিল পর্যন্ত। এ সময় খাতসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান, বিশেষজ্ঞ, শ্রমিক, মালিক ও মালিক সংগঠনের প্রায় সাড়ে তিন শ লোকের সঙ্গে কথা বলা হয়।

অনুষ্ঠানে ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, শ্রম আইন অনুসারে সর্বশেষ মজুরি কাঠামো অনুসারে ন্যূনতম মজুরি আট হাজার টাকা করা হলেও এতে শুভংকরের ফাঁকি রয়েছে। মজুরি নির্ধারণে ৫ শতাংশ হারে বার্ষিক ভাতা বৃদ্ধি না করায় মূল মজুরিতে তুলনামূলকভাবে গড় আয় কমেছে ২৬ শতাংশ। তিনি বলেন, পোশাক খাতের কর্মপরিবেশ ও নিরাপত্তা খাতে বেশ অগ্রগতি হলেও তা প্রত্যাশিত পর্যায়ে নয়। শ্রমিকদের অধিকারগুলো গুরুত্ব পাচ্ছে না।

গত ছয় বছরে সাড়ে ১২ শ কারখানা বন্ধ হয়েছে উল্লেখ করে ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, এ সময় প্রায় চার লাখ শ্রমিক কর্মচ্যুত হয়েছে। এর বেশির ভাগই ক্ষতিপূরণ পায়নি। ছয় হাজার ৬০০ জন ক্ষতিপূরণ পেয়েছে।

তবে গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়, গত ছয় বছরের গৃহীত পদক্ষেপগুলোর মধ্যে ৮৮ শতাংশ অগ্রগতি হয়েছে। উদ্যোগগুলো পর্যলোচনা করে দেখা যায়, ৩৯ শতাংশের অগ্রগতি সম্পন্ন হয়েছে। ৪৯ শতাংশ কাজ চলমান। এ ছাড়া স্থবির অবস্থায় রয়েছে ১১ শতাংশ কাজ।

সংবাদ সম্মেলনে শ্রম অধিকার ও সামাজিক চ্যালেঞ্জগুলোর কথা উল্লেখ করে বলা হয়, রানা প্লাজা ধসের পর ছয় বছরে সংশ্লিষ্ট অংশীজনের সমন্বিত উদ্যোগের ফলে কারখানা নিরাপত্তা, তদারকি, শ্রমিকের মজুরি, সরকারি প্রতিষ্ঠানের সক্ষমতা ইত্যাদি ক্ষেত্রে বেশ অগ্রগতি হয়েছে। তবে মালিকপক্ষ তাদের রপ্তানি আয় বাড়ানো ও ব্যবসা টিকিয়ে রাখতে যেভাবে গুরুত্ব দিয়েছেন, একই হারে শ্রমিক অধিকার ও সামাজিক নিরাপত্তা বিষয়ে পর্যাপ্ত গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। এতে বলা হয়, সরকারি প্রতিষ্ঠানসমূহের সক্ষমতা বৃদ্ধিতে অগ্রগতি হলেও ফায়ার স্টেশন নির্মাণ, পরিদর্শক নিয়োগ, অনলাইন সেবাসমূহ ব্যবহারবান্ধব করা, কারখানা পরিদর্শনের তথ্য প্রকাশে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করাসহ এখনো অনেক চ্যালেঞ্জ রয়েছে।

শ্রমিক অধিকার নিশ্চিতে আইনি সীমাবদ্ধতার পাশাপাশি রাজনৈতিক সদিচ্ছার ঘাটতিও রয়েছে। ফলে শ্রম আইন যতটা না শ্রমিক স্বার্থে প্রয়োগ হচ্ছে, তার চেয়ে বেশি মালিকপক্ষ এই আইনের সুবিধা নিয়ে শ্রমিক অধিকার ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিচ্ছে।

সংবাদ সম্মেলনে আরো বলা হয়, ‘ইপিজেড শ্রম অধ্যাদেশ, ২০১৯’ জারির মাধ্যমে ইপিজেডে অবস্থিত কারখানাসমূহে কর্মপরিবেশ উন্নয়নে কার্যকর বিধান প্রণয়ন করা হলেও শ্রমিক অধিকার নিশ্চিতে এখনো আইনি সীমাদ্ধতা রয়ে গেছে। শ্রমিকের চাকরিচ্যুতিতে ক্ষতিপূরণ ব্যবস্থা, দুর্ঘটনার জন্য পর্যাপ্ত ক্ষতিপূরণ, সংগঠন করার অধিকার, অসুস্থতার জন্য সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা ইত্যাদি বিষয়ে প্রত্যাশিত অগ্রগতি হয়নি বলেও গবেষণা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, মজুরি বৈষম্য নিয়ে আন্দোলন করার ফলে পাঁচ হাজার শ্রমিকের বিরুদ্ধে ৩৫টি মামলা রয়েছে। ১০ হাজার শ্রমিক কর্মচ্যুত হয়েছে। শ্রমিকদের তথ্যভাণ্ডার বায়োমেট্রিক করার ফলে এক কারখানার শ্রমিক অন্য কারখানায় উপেক্ষিত হচ্ছে।

টিআইবির প্রতিবেদনে তৈরি পোশাক খাতে সুশাসন নিশ্চিত করতে ১২ দফা সুপারিশ করা হয়েছে।

 

মন্তব্য