kalerkantho

মঙ্গলবার । ২১ মে ২০১৯। ৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬। ১৫ রমজান ১৪৪০

বিশেষজ্ঞ মত

লক্ষ্য সাম্প্রদায়িক হানাহানি ও অর্থনৈতিক ধস

রোলান্ড ওলিফ্যান্ট

২৩ এপ্রিল, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



লক্ষ্য সাম্প্রদায়িক হানাহানি ও অর্থনৈতিক ধস

শ্রীলঙ্কার সন্ত্রাসীরা সাম্প্রদায়িক সহিংসতা, অর্থনৈতিক ধস ও রাজনৈতিক বিপর্যয় ঘটাতে চায়। সুন্দর সৈকত ও আবহাওয়া এবং জীবনযাত্রার মৃদু গতির কারণে বিদেশি পর্যটকদের কাছে আকর্ষণীয় দেশ শ্রীলঙ্কা। অনেকের মতে, এই দেশটি ভারতের সংক্ষিপ্ত  একটি সংস্করণ। তবে ইস্টার সানডের সকালে গির্জা ও হোটেলে ভয়ংকর হামলা ও হত্যাযজ্ঞ দেখে মনে হচ্ছে, ওই দেশটির সুনাম নষ্ট করা, সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা বাড়ানো এবং এরই মধ্যে উত্তপ্ত রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে আরো উসকে দিতেই ওই হামলার পরিকল্পনা করা হয়েছিল। সম্ভবত সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, ওই দ্বীপ রাষ্ট্রটির সাম্প্রতিক সহিংস ইতিহাসের সঙ্গে এমন হামলার খুব কমই সাদৃশ্য আছে।

হামলাকারীরা যে-ই হোক না কেন তারা এরই মধ্যে বিলুপ্ত বিচ্ছিন্নতাবাদী তামিল টাইগারদের অনুকরণ করার চেষ্টা করছে, এমনটি মনে হচ্ছে না। বরং এই হামলার সঙ্গে আল-কায়েদা ও ইসলামিক স্টেটের মতো ইসলামের নামধারী জঙ্গিগোষ্ঠীগুলোর রক্ত পিপাসা নিবারণের কৌশলের সাদৃশ্য রয়েছে। এটি অতীতে ওই দ্বীপে কখনো ছিল বলে জানা যায় না। হামলাকারীরা কী অর্জন করতে চাচ্ছে তা অনুধাবন করাও কঠিন নয়।

দৃশ্যত, তাদের প্রথম লক্ষ্য আরো সংঘাত বাধানো। সংখ্যালঘু বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের মধ্যে জাতীয়তাবাদী মনোভাব ক্রমেই জোরালো হচ্ছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সংখ্যালঘু খ্রিস্টান ও মুসলমানদের সঙ্গে তাদের উত্তেজনা বাড়ছে। গত বছর মার্চ মাসে ক্যান্ডিতে একটি মসজিদে বৌদ্ধ বিক্ষোভকারীদের হামলার পর সরকার জরুরি অবস্থা জারি করেছিল। এমন প্রেক্ষাপটে সন্ত্রাসী হামলার পর জরুরি অবস্থা জারি করে নাগরিক অধিকার সীমিত করার উদ্যোগ নেওয়া সহজ হবে। আর এর বিপদ অনিবার্য।

দ্বিতীয় লক্ষ্য হলো অর্থনৈতিক ক্ষতিসাধন করা। নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা বলছেন, পশ্চিমা পর্যটকরা থাকে এমন হোটেলগুলো করে তো নয়ই, বেসামরিক জনগণকে লক্ষ্য করেও এমন আত্মঘাতী হামলা অতীতে তাঁরা কখনো দেখেননি।

যুদ্ধপরবর্তী শ্রীলঙ্কার অর্থনৈতিক পুনর্গঠনে পর্যটন খাত বড় ভূমিকা রাখছে। ২০০৯ সালে শ্রীলঙ্কায় বিদেশি পর্যটকের সংখ্যা ছিল পাঁচ লাখ। সেটি এখন চার গুণ বেড়ে ২০ লাখ ছাড়িয়েছে। সাম্প্রতিক রাজনৈতিক সংকটের পটভূমিতে দেশটির অর্থনীতি যেখানে ধুঁকছে সেখানে এই হামলা পর্যটন খাতের জন্য বড় বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে।

হামলাকারীরা সম্ভবত আশা করছে, শ্রীলঙ্কার অকার্যকর অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক ব্যবস্থা পরিস্থিতি সামাল দিতে কঠোর পথ বেছে নেবে। গত বছর সাবেক প্রেসিডেন্ট মাহিন্দা রাজাপক্ষে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে রনিল বিক্রমাসিংহের স্থলাভিষিক্ত হওয়ার চেষ্টা করলে সাংবিধানিক সংকটে শ্রীলঙ্কার সরকার অকার্যকর হয়ে পড়ে। এবার সরকারের অকার্যকারিতা আরো স্পষ্ট হয়েছে যখন বিক্রমাসিংহে বিস্ময়করভাবে দাবি করেন যে হামলার ব্যাপারে নিরাপত্তা বাহিনীর কাছে আগাম তথ্য ছিল। কিন্তু তারা ওই তথ্য তাঁকে বা তাঁর সরকারের কাউকে জানাতে পারেনি। 

লেখক : ব্রিটিশ দৈনিক টেলিগ্রাফের জ্যেষ্ঠ বৈদেশিক সংবাদদাতা

[টেলিগ্রাফ থেকে ভাষান্তর মেহেদী হাসান]

মন্তব্য