kalerkantho

মঙ্গলবার । ২১ মে ২০১৯। ৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬। ১৫ রমজান ১৪৪০

বিরোধ বাড়ছে জাপায়

লায়েকুজ্জামান   

২০ এপ্রিল, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



বিরোধ বাড়ছে জাপায়

জাতীয় পার্টিতে (জাপা) কোন্দল বাড়ছে। দলের চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ বেশ কিছুদিন ধরে অসুস্থ। একা চলাফেরা করতে পারেন না। সিদ্ধান্ত নিতে গিয়ে সহজেই অন্যের দ্বারা প্রভাবিত হয়ে পড়েন। ওই পরিস্থিতির সুযোগ নিতে চাইছেন দলের পরস্পরবিরোধী কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতা। তাঁরা চেষ্টা করছেন এরশাদকে দিয়ে নেতৃত্ব বদলের কিছু নির্দেশ আদায় করে নিতে। ওই নেতাদের কেউ রওশন এরশাদের পক্ষে আবার কেউ জি এম কাদেরের দিকে। রওশন ও জি এম কাদেরের বিরোধ পুরনো হলেও বর্তমানে তা নতুন রূপ নিয়েছে।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, জাপার উল্লেখযোগ্যসংখ্যক কেন্দ্রীয় নেতা এক সপ্তাহ ধরে প্রতিদিনই পালা করে বারিধারায় এরশাদের বাসভবনে হাজির হচ্ছেন। তাঁদের কেউ এরশাদের সঙ্গে সাক্ষাতের সুযোগ পাচ্ছেন আবার কাউকে কাউকে দীর্ঘ সময় ধরে নিচে বসে থেকে চলে আসতে হচ্ছে।

সূত্র মতে, রওশন এরশাদকে ঘিরে তাঁর অনুসারী নেতারা ঘন ঘন বৈঠকে মিলিত হচ্ছেন। তাঁরা এরশাদকে প্রভাবিত করে পার্টির চেয়ারম্যান পদের উত্তরসূরি হিসেবে রওশন এরশাদের নাম ঘোষণা করাতে চান। একই সঙ্গে মহাসচিব পদে ফিরিয়ে আনতে চান রুহুল আমিন হাওলাদারকে। এমন অবস্থায় থেমে নেই জি এম কাদের অনুসারীরাও।

জাপার একটি সূত্রে জানা যায়,  গত মঙ্গলবার দুপুরে রওশনপন্থী দুই প্রভাবশালী নেতা এরশাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে রওশনকে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব দিতে অনুরোধ করেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে এরশাদ ওই দুই নেতাকে বেরিয়ে যেতে বলেন। তাতেও হাল ছাড়েননি রওশনপন্থীরা। পরদিন একই বলয়ের আরো দুই নেতা এরশাদের সঙ্গে দেখা করে দল পরিচালনায় জি এম কাদেরের সীমাবদ্ধতা তুলে ধরেন কৌশলে। এরশাদ তাতে কোনো প্রতিক্রিয়া দেখাননি। একই দিনে এক নিকটাত্মীয় এরশাদের সঙ্গে দেখা করেন। ওই ব্যক্তি রওশনবিরোধী হিসেবে পরিচিত।

এরশাদের এক নিকটাত্মীয় কালের কণ্ঠকে বলেন, এরশাদের স্ত্রী রওশন ও ভাই জি এম কাদেরের মাঝে সমন্বয় দেখতে চান। সে লক্ষ্যেই জি এম কাদেরকে সরিয়ে বিরোধীদলীয় উপনেতার পদে বসিয়েছেন রওশনকে। আবার জি এম কাদেরকে সংগঠনের ভবিষ্যৎ চেয়ারম্যান হিসেবে ঘোষণা করেছেন। এ ছাড়া এরশাদ তাঁর ঘোষিত ট্রাস্টে রওশন বা কাদেরকে না রেখে পরিবারের অন্যদের রেখেছেন। ওই ট্রাস্ট পরিচালনা পর্ষদ নিয়ে এরশাদের ওপর ক্ষিপ্ত হয়েছেন রওশন। কারণ পর্ষদে বিদিশার সন্তান এরিখকে রাখা হলেও রওশনের ছেলে সাদকে রাখা হয়নি।

দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জি এম কাদের অবশ্য কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘জাতীয় পার্টি একটি বড় দল। আমরা জাতীয় সংসদে প্রধান বিরোধী দলের অবস্থানে আছি। এমন একটি বড় সংগঠনে নেতৃত্বের প্রতিযোগিতা থাকতেই পারে, এটাকে গৃহদাহ বলা ঠিক হবে না।’

জাতীয় পার্টির মহাসচিব মশিউর রহমান রাঙ্গা কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘জাতীয় পার্টিতে কোনো পন্থী নেই, সবাই এরশাদপন্থী। সব সিদ্ধান্তের মালিক তিনি। এরশাদ ছাড়া আমাদের কোনো নেতা নেই।’

দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য সৈয়দ আবু হোসেন বাবলাও বলেন, ‘আমাদের নেতা হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। তাঁর সিদ্ধান্ত আমরা সবাই মেনে নিয়েছি।’

দলের যুগ্ম মহাসচিব হাসিবুল ইসলাম বলেন, ‘আমাদের দেশে উত্তরাধিকারের রাজনীতির গুরুত্ব আছে। স্বাধীনতার পর থেকে দেখা যায়, রাজনৈতিক উত্তরাধিকার ও বংশ থেকে যারা নেতৃত্ব বেছে নিয়েছে তারা সফলভাবে টিকে আছে।’

জানা যায়, গত ৪ এপ্রিল জি এম কাদেরকে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান পদে পুনর্বহাল করার পর থেকে তাঁর অনুসারী হিসেবে পরিচিত বেশ কিছু কর্মী নিয়মিতভাবে এরশাদের বাসভবনের আশপাশে ‘পাহারা’ দিয়ে যাচ্ছেন।

 

মন্তব্য