kalerkantho

বুধবার । ২২ মে ২০১৯। ৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬। ১৬ রমজান ১৪৪০

দাদাবাড়ি বেড়াতে এসে পাকিস্তানি তরুণী ধর্ষিত

নাটোরে শিক্ষকের বিরুদ্ধে ছাত্রী ধর্ষণের অভিযোগ স্ত্রীর, আড়াইহাজারে শিশু ধর্ষণ

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

২০ এপ্রিল, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



দাদাবাড়ি বেড়াতে এসে পাকিস্তানি তরুণী ধর্ষিত

মায়ের সঙ্গে বাংলাদেশে দাদাবাড়ি বেড়াতে এসে প্রথমে অপহরণ এবং পরে ধর্ষণের শিকার হয়েছে এক পাকিস্তানি তরুণী। ঘটনাটি ঘটেছে টাঙ্গাইলের গোপালপুর ও জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলার মহিষাকান্দি গ্রামে। নাটোরের চন্দ্রকোলা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব কলেজের এক শিক্ষক তাঁর এক ছাত্রীকে ধর্ষণ করেছেন বলে অভিযোগ করেছেন খোদ ওই শিক্ষকের স্ত্রী। নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে এক শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। কালের কণ্ঠ’র প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর—

ভূঞাপুর (টাঙ্গাইল) : ওই তরুণীকে (১৭) মঙ্গলবার রাতে গোপালপুর থেকে অপহরণ করে সরিষাবাড়ীর মহিষাকান্দি গ্রামে নিয়ে ধর্ষণ করে তার এক আত্মীয়। গত বৃহস্পতিবার ভোরে তরুণীকে মহিষাকান্দি থেকে উদ্ধার করে গোপালপুর থানার পুলিশ। এ ঘটনায় তরুণীর মা প্রধান অভিযুক্ত আল আমীনের (১৯) বিরুদ্ধে গোপালপুর থানায় মামলা করেছেন। মামলায় আরো আসামি করা হয়েছে আল আমীনের মা আনোয়ারা বেগম ও এক অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিকে। পুলিশ আনোয়ারাকে গ্রেপ্তার করেছে। বৃহস্পতিবার বিকেলে ওই তরুণীর টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে স্বাস্থ্য পরীক্ষা হয়েছে। হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক নারায়ণ চন্দ্র সাহা জানিয়েছেন, প্রতিবেদন দিতে সময় লাগবে।

জানা যায়, গোপালপুরের এক ব্যক্তি ২২ বছর আগে পাকিস্তানের করাচিতে যান। সেখানে তিনি এক পাকিস্তানি নারীকে বিয়ে করেন। গত নভেম্বর মাসে এই গার্মেন্টস ব্যবসায়ীর স্ত্রী মেয়েকে নিয়ে বাংলাদেশে শ্বশুরবাড়িতে বেড়াতে আসেন। সেখানে আল আমীন মেয়েটিকে উত্ত্যক্ত করছিলেন। বিষয়টি ফয়সালার চেষ্টাও করা হয়। এদিকে ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ায় ওই নারী ও তাঁর মেয়ে পাকিস্তানে ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। এতে আল আমীন ক্ষুব্ধ হন এবং মেয়েটিকে অপহরণের পর ধর্ষণ করেন। অপহরণে সহযোগিতা করে তাঁর কয়েকজন বন্ধু।

গোপালপুর থানার ওসি হাসান আল মামুন জানান, মেয়েটি উর্দুভাষী হওয়ায় তার জন্য আদালতের কাছে দোভাষী চাওয়া হয়েছে। তার বক্তব্য ২২ ধারায় রেকর্ড করা হবে। আল আমীনকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

নাটোর : গত ১২ এপ্রিল চন্দ্রকোলা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব কলেজের ইসলামের ইতিহাস বিভাগের শিক্ষক আব্দুল জলিলের স্ত্রী মিমি খাতুন কলেজ অধ্যক্ষের কাছে তাঁর স্বামীর বিরুদ্ধে এক ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ করেন। অভিযোগে বলা হয়, তাঁর অনুপস্থিতিতে জলিল ওই ছাত্রীকে নিয়ে নাটোর শহরে ভাড়া করা বাসায় যান। একপর্যায়ে ওই ছাত্রীকে ধর্ষণ করেন। তখন ছাত্রীর চিৎকারে বাসার মালিক এসে ছাত্রীকে উদ্ধার করেন। কলেজ কর্তৃপক্ষ গঠিত তদন্ত কমিটি ঘটনার সত্যতা পেয়েছে বলে জানা গেছে।

কলেজ ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি সাবেক প্রতিমন্ত্রী আহাদ আলী সরকার বলেন, তদন্তকালে অভিযুক্ত শিক্ষকের স্ত্রী, ভিকটিম ও ভিকটিমের মায়ের বক্তব্য নেওয়া হয়েছে। ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেছে। দায়ী শিক্ষকের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

কলেজটির অধ্যক্ষ মৌসুমী পারভীন বলেন, ঘটনার প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ায় ১৬ এপ্রিল আব্দুল জলিলকে সাত দিনের মধ্যে কারণ দর্শাতে বলা হয়েছে।

আড়াইহাজার (নারায়ণগঞ্জ) : উপজেলার কালাপাহাড়িয়া ইউনিয়নে গত মঙ্গলবার এক শিশুকে (১৪) ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। বৃহস্পতিবার রাতে শিশুটির ভাই আড়াইহাজার থানায় একটি মামলা করেছেন। মামলার প্রধান আসামি বিবিরকান্দী গ্রামের সাজন মিয়ার ছেলে জুয়েল মিয়া (২২)। আড়াইহাজার থানার ওসি আক্তার হোসেন জানান, আসামিদের গ্রেপ্তারের জন্য চেষ্টা চলছে।

হাতীবান্ধায় ‘যৌন নিপীড়নের’ অভিযোগ, বিপাকে ছাত্রীর পরিবার হাতীবান্ধা (লালমনিরহাট) প্রতিনিধি জানান, হাতীবান্ধায় ধুবনীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সুলতান আহমেদ শিপুর সঙ্গে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির দ্বন্দ্ব চলছে। এরই মধ্যে শিপুকে অন্যত্র বদলি করতে এক ছাত্রীকে ‘যৌন নিপীড়নের’ অভিযোগ তুলে মিটিং ডেকে রেজল্যুশন করে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটি। রেজল্যুশনসহ ছাত্রীকে ‘যৌন নিপীড়নের’ দায়ে প্রধান শিক্ষকের শাস্তির দাবি জানিয়ে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ করেন স্কুল কমিটির সভাপতি মোশারফ হোসেন।

এদিকে ওই ছাত্রীর বাবা বলেছেন, অভিযোগটি মিথ্যা। এটি করে তাঁর পরিবারের মানহানি করা হয়েছে উল্লেখ করে গত বৃহস্পতিবার উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ করেন তিনি।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সোলেমান মিয়া বলেন, ‘দুটি অভিযোগ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

মন্তব্য