kalerkantho

শুক্রবার । ২৪ মে ২০১৯। ১০ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬। ১৮ রমজান ১৪৪০

আ. লীগ নেতা রুহুল আমিনের অপতৎপরতা প্রথম থেকেই

ফেনী প্রতিনিধি   

১৭ এপ্রিল, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ১০ মিনিটে



আ. লীগ নেতা রুহুল আমিনের অপতৎপরতা প্রথম থেকেই

রুহুল আমিন

ফেনীর সোনাগাজীতে মাদরাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফিকে আগুনে পুড়িয়ে হত্যার ঘটনায় নতুন নতুন তথ্য বেরিয়ে আসছে। ঘটনার আগে-পরে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি রুহুল আমিনের সম্পৃক্ততার বেশ কিছু প্রমাণ পাওয়া গেছে। ঘটনাটি ভিন্ন খাতে নিতে রুহুল আমিন ও তখন সোনাগাজী থানার ওসি মোয়াজ্জেম অপপ্রচারের কৌশল অবলম্বন করেন। এতে সহযোগিতা করেন ওয়ার্ড কাউন্সিলর মাকসুদ আলম। ছয়জন সংবাদকর্মীকে এ কাজে নিয়োজিত করা হয়। এ ছাড়া ঘটনার পর পুলিশ ও সংবাদমাধ্যমের কাছে যাতে কোনো শিক্ষার্থী ও শিক্ষক মুখ খুলতে না পারেন সে ব্যবস্থাও করেন রুহুল আমিন ও তাঁর সহযোগীরা।

রাফিকে পুড়িয়ে হত্যা মামলার অন্যতম প্রধান দুই আসামি নুর উদ্দিন ও শাহাদাত হোসেন শামীম গত রবিবার রাতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন। তাঁদের জবানবন্দিতে ১৩ থেকে ১৪ জনের নাম উল্লেখ আছে বলে জানানো হলেও ধারণা করা হচ্ছে ২৫ থেকে ২৬ জন জড়িত।

গতকাল মঙ্গলবার মামলাটির তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা, পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) সূত্র ও আদালত সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র এসব বিষয় নিশ্চিত করেছেন।

উল্লেখ্য, গত ৬ এপ্রিল সোনাগাজীর ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদারাসা পরীক্ষা কেন্দ্রে ওই মাদরাসার আলিম পরীক্ষা নুসরাত জাহান রাফিকে ছাদে ডেকে নিয়ে গায়ে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। পিবিআই বলেছে, জেলে বসে রাফিকে হত্যার নির্দেশ দেন মাদরাসার অধ্যক্ষ (বর্তমানে বরখাস্ত) সিরাজউদদৌলা। ওই নির্দেশের পর পরিকল্পনা করে রাফির গায়ে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। গত ১০ এপ্রিল ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাফি মারা যায়।

এ ঘটনায় ১৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এদের এজাহারভুক্ত আটজনের মধ্যে সাতজনকেই গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আর হামলায় সরাসরি জড়িত নুর ও শামীমসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আরেকজন হলো কামরুন নাহার মণি। গতকাল তাকেসহ দুই ছাত্রীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

হামলার আগে রাফির শ্লীলতাহানির মামলায় গ্রেপ্তার অধ্যক্ষ সিরাজের মুক্তি দাবি করে বিক্ষোভ সংগঠন, হামলায় সহযোগিতা করা, হামলার পর দুর্বৃত্তদের পালিয়ে যাওয়ার জন্য পরামর্শ দেওয়া এবং পরে ঘটনাটি ভিন্ন খাতে নেওয়ার তৎপরতা—এ সবকিছুতে আওয়ামী লীগ নেতা ও মাদরাসা পরিচালনা কমিটির সহসভাপতি রুহুল আমিনের জড়িত থাকার নানা তথ্য উঠে আসছে।

বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, রাফির গায়ে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার পর একে আত্মহত্যা বলে প্রচারের বিষয়টি সমন্বয় করেন ওসি মোয়াজ্জেম ও রুহুল আমিন। সহযোগিতা করেন কাউন্সিলর ও পৌর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মাকসুদ আলম। এ কাজে দায়িত্ব দেওয়া স্থানীয় সাংবাদিকদের প্রত্যেককে ৫০ হাজার থেকে ৬০ হাজার টাকা করে দেওয়া হয়। তাঁদের দায়িত্ব ছিল নিজ নিজ গণমাধ্যমে এ ঘটনাকে আত্মহত্যা বলে প্রচার করা এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে নিজ নিজ আইডি থেকে অপপ্রচার চালানো। তাঁদের মধ্যে তিনজন জাতীয় দৈনিকের উপজেলা সংবাদদাতা ও অন্য তিনজন স্থানীয় গণমাধ্যমের সংবাদকর্মী।

ঘটনার কিছুক্ষণ নিজের ফেসবুক আইডিতে পোস্ট দেন দৈনিক ‘সমকাল’-এর উপজেলা সংবাদদাতা আবুল হোসেন রিপন।

রিপন লেখেন, ‘সোনাগাজীতে শরীরে পেট্রল ঢেলে ছাত্রীর আত্মহত্যার চেষ্টা। সোনাগাজী ফাজিল মাদরাসার ছাদে উঠে আত্মহত্যার চেষ্টা চালায় নুসরাত জাহান নামের এক ছাত্রী। সকাল ১০টার দিকে ঘটনাটি ঘটে বলে জানায় প্রত্যক্ষদর্শীরা। গুরুতর আহত ছাত্রীকে প্রথমে ফেনী সদর হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করেন। সোনাগাজী হাসপাতালের প. প. (পরিবার পরিকল্পনা) কর্মকর্তা জানান, ছাত্রীর শরীরের ৬০ শতাংশ পুড়ে গেছে। গত কিছুদিন আগে ওই ছাত্রী মাদরাসার অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ আনে। সেই অভিযোগে অধ্যক্ষ বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সোহেল পারভেজ জানান, তিনি খবরটি শুনে দ্রুত গিয়ে জানতে পারেন ওই ছাত্রী মাদরাসার ছাদে উঠে গায়ে আগুন দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করে।”

সূত্র মতে, রাফির গায়ে আগুন দেওয়ার আগের দিন অর্থাৎ ৫ এপ্রিল মাদরাসার ভেতরের পুকুর থেকে পরিচালনা কমিটির সদস্য মাকসুদ আলম ও জামশেদ আলমের উপস্থিতিতে সোয়া এক লাখ টাকার মাছ বিক্রি করা হয়, যা ব্যবহার করা অপপ্রচার চালানোর কাজে। এর বাইরে কাউন্সিলর মাকসুদ, সিরাজের স্ত্রী ফেরদৌস আক্তার ও এক ব্যাংক কর্মকর্তা টাকা দিয়েছিলেন বলে নুর ও শামীম জবানবন্দিতে উল্লেখ করেছেন। কেফায়েত উল্লাহ জনি নামের ওই ব্যাংক কর্মকর্তা সিরাজের মুক্তি আন্দোলনের জন্য পাঁচ হাজার টাকা দিয়েছিলেন। গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে জনিও রয়েছে।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার পর রুহুল আমিন ও শামীমের মধ্যে ছয় থেকে সাত সেকেন্ডের ফোনালাপের নিশ্চিত তথ্য পিবিআই কর্মকর্তাদের কাছে রয়েছে। তবে কোনো কর্মকর্তা এ ব্যাপারে কোনো তথ্য দিতে রাজি হননি।

একটি সূত্রে জানা গেছে, হামলার পর শামীম মোবাইল ফোনে রুহুল আমিনকে ‘কাজ হয়ে যাওয়ার’ বার্তা পাঠান। এ সময় রুহুল ফোন করে বলেন, ‘আমি জানি। তোমরা সরে যাও।’

সোনাগাজীর স্থানীয় একাধিক সূত্র মতে, ঘটনার পর সংবাদমাধ্যম ও পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সামনে যেন ওই মাদরাসার কোনো শিক্ষার্থী বা শিক্ষক মুখ খুলতে না পারেন সেই চেষ্টাও করেন রুহুল আমিন ও তাঁর সহযোগীরা। এর অংশ হিসেবে ঘটনার পরদিন পুলিশের অতিরিক্ত উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) আবুল ফয়েজ ঘটনাস্থল পরিদর্শনে এলে আগেই কয়েকজন সাংবাদিক ও মাদরাসার শিক্ষক-শিক্ষার্থীকে ঘটনাটিকে আত্মহত্যার চেষ্টা বলে বর্ণনা করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। অতিরিক্ত ডিআইজি উপস্থিত সাংবাদিকদের সামনে বক্তব্য দেওয়ার পর কয়েকজন সংবাদকর্মী একে ‘আত্মহত্যার চেষ্টা’ বলে ভিন্ন খাতে নেওয়ারও চেষ্টা করেন। কিন্তু ঢাকা ও চট্টগ্রাম থেকে বেশ কয়েকজন সাংবাদিক চলে আসায় তা আর সম্ভব হয়নি। রাফির মৃত্যুর পর গত ১১ এপ্রিল বৃহস্পতিবার ফেনী জেলা প্রশাসনের গঠিত তদন্তদল ওই মাদরাসায় যায়। একই দিন ওখানে বেশ কয়েকজন জাতীয় গণমাধ্যমের সাংবাদিকও উপস্থিত হন। তার আগের রাতে বেশ কয়েকজন ছাত্রীর বাড়িতে গিয়ে পরদিন এ ব্যাপারে তদন্তদল ও সংবাদমাধ্যমের কাছে কোনো কথা বলতেও নিষেধ করা হয়। এ কারণে ওই দিন পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর অনেকেই গণমাধ্যমের সামনে কথা বলতে প্রথমে রাজি হননি। কিন্তু পরে রাজধানী থেকে আসা কয়েকজন সাংবাদিকের অনুরোধে কয়েকজন ছাত্রী সাক্ষাৎকার দিতে রাজি হন।

ওই সময় কালের কণ্ঠে এ প্রতিনিধিকে কয়েকজন ছাত্রী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেছিলেন, সবাই শুধু সাক্ষাৎকার দেওয়ার অনুরোধ করছেন। কিন্তু আজ বাদে কাল সাংবাদিকরা চলে যাবেন। পরে তাঁদের সমস্যা হবে।

১১ এপ্রিল সারা দিন রুহুল আমিন ও তাঁর সহযোগীরা মাদরাসা ক্যাম্পাসে অবস্থান করেন। কে কার কাছে কী বক্তব্য দিচ্ছেন তা সামনে দাঁড়িয়ে প্রত্যক্ষ করেন তাঁরা। একই দিন দুপুরে জেলা প্রশাসনের গঠিত তদন্তদলের প্রধান, ফেনী জেলা প্রশাসক (সার্বিক) ও মাদরাসা পরিচালনা কমিটির সভাপতি পি কে এম এনামুল করিম অফিস কক্ষে বসে যখন প্রত্যক্ষদর্শী পরীক্ষার্থীদের বয়ান নিচ্ছিলেন তখনো সেখানে ভেতরে ঢুকে বসে ছিলেন রুহুল আমিন ও তাঁর সহযোগীরা। পরে এনামুল করিমের অনুরোধে তিনি বাইরে চলে যান। ওই দিন রুহুলের উপস্থিতিতে তাঁর কয়েকজন সহযোগী ফেনী ও ঢাকা থেকে আসা কয়েকজন সাংবাদিককে মাদরাসা ক্যাম্পাসের ভেতরে একপাশে ডেকে ঘুষ দেওয়ারও চেষ্টা করেন। কিন্তু তাতে তাঁরা সফল হননি।

জবানবন্দিতে নুর ও শামীম স্বীকার করেছে যে গত ২৭ মার্চ তারিখে ওই মাদরাসার অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলা যৌন হয়রানির দায়ে গ্রেপ্তার হলে আওয়ামী লীগ নেতা রুহুল আমিন, পৌর কাউন্সিলর মাকসুদ আলম ‘সিরাজ উদ দৌলা সাহেব মুক্তি পরিষদ’ গঠন করেন। মিছিল-সমাবেশের আয়োজন করেন এবং ব্যাপক বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি করেন। এসব নিয়ে স্থানীয় আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতা ক্ষোভ প্রকাশ করলেও তাঁরা বলেছেন, অধ্যক্ষকে যেকোনোভাবে মুক্ত করতে হবে।

ফেনীর আদালত ও পিবিআইয়ের একাধিক সূত্র মতে, রাফির হত্যাকাণ্ডে নানাভাবে প্রভাবশালী আওয়ামী লীগ নেতা রুহুল আমিনের নাম চলে এসেছে। এরই মধ্যে বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিষয়টি আলোচিত হচ্ছে।

এসব বিষয়ে জানতে গতকাল মঙ্গলবার ফেনী শহরের হাজারী সড়কে পিবিআই দপ্তরে গিয়ে সংস্থার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনিরুজ্জামানের বক্তব্য জানার চেষ্টা করা হয়। কিন্তু অভ্যর্থনা ডেস্কে দায়িত্বরত কনস্টেবল জানান, ‘স্যার বাইরে আছেন’।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও ফেনী পিবিআইর পরিদর্শক শাহ আলম কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমরা একটি অভিযানে রয়েছি। সহসা ভালো কিছু খবর দিতে পারব।’ রুহুল আমিনের বিষয়ে দুই আসামির জবানবন্দি সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘দেখুন নানাভাবে কয়েকজনের কথা এসেছে। এগুলো তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। এসব বিষয়ে গণমাধ্যমকে পরে বিস্তারিত জানানো হবে বলে তিনি জানান।’

ঘটনার পর ফেসবুকে পোস্ট দেওয়ার কথা স্বীকার করে সোনাগাজীর স্থানীয় সংবাদকর্মী আবুল হোসেন রিপন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আসলে ঘটনার সময় আমি সোনাগাজীর বাইরে ছিলাম।’ ওসি মোয়াজ্জেমের কথায় তিনি ঘটনাটিকে আত্মহত্যার চেষ্টা বলে পোস্ট দিয়েছিলেন বলে জানান।

ফেনী জেলা জজ আদালতের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) হাফেজ আহাম্মদ বলেন, ‘এটা আসলে খুবই স্পর্শকাতর মামলা। এরই মধ্যে দুই গুরুত্বপূর্ণ আসামির ১৬৪ ধারায় দেওয়া বয়ান লিপিবদ্ধ করা হয়েছে এবং তা জেলা জজ মহোদয়ের দপ্তরে এসেছে।’

রুহুল আমিন বলেন, ‘এসব অভিযোগ একেবারেই সত্য নয়। এগুলো আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার মাত্র।’ তিনি বলেন, ‘২৭ মার্চ অভিযুক্ত অধ্যক্ষকে আমি পুলিশে সোপর্দ করি। তাহলে আমি কেন তাকে বাঁচাতে যাব।’

দুই ছাত্রীকে আটক: রাফিকে পুড়িয়ে হত্যা মামলায় জড়িত সন্দেহে দুই ছাত্রীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেছে পিবিআই।

আমাদের সোনাগাজী প্রতিনিধি ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদরাসা পরীক্ষা কেন্দ্রের কেন্দ্রসচিব নুরুল আফসার ফারুকীর উদ্ধৃতি দিয়ে জানান, গতকাল দুপুরে আলিম পরীক্ষা শেষে মাদরাসার পরীক্ষার্থী জান্নাতুল আফরোজ মণিকে মাদরাসা কেন্দ  থেকে জিজ্ঞাসাবাদের কথা বলে আটক করা হয়। এর আগে সোমবার রাতে সোনাগাজী পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের ইমান আলী হাজি বাড়ি থেকে কামরুন নাহার মণি নামের আরেক ছাত্রীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করে পিবিআই।

তবে কামরুন নাহার মণিকে আটকের বিষয়টি সাংবাদিকদের নিশ্চিত করেননি পিবিআই’র দায়িত্বশীল কোনো কর্মকর্তা।

এদিকে গতকাল বিকেলে পিবিআই’র একটি দল মাদরাসার বিভিন্ন কক্ষ, স্থাপনা ও ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে শিক্ষকদের কাছ থেকে লিখিত জবানবন্দি নিয়েছে। এ সময় পিবিআই’র পরিদর্শক ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা শাহ আলম উপস্থিত ছিলেন।

সপরিবারে পালিয়েছে কাদের : অন্যদিকে মামলার এজাহারভুক্ত ৭ নম্বর আসামি হাফেজ আবদুল কাদের ওরফে মানিক ঘরে তালা লাগিয়ে সপরিবারে পালিয়েছেন। তিনি সোনাগাজী উপজেলার আমিরাবাদ ইউনিয়নের পূর্ব সফরপুর গ্রামের আবুল কাসেমের ছেলে। তাঁর বাবা স্থানীয় সাহেবেরহাট বাজারের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী। চার ভাই ও তিন বোনের মধ্যে কাদের পঞ্চম। তাঁর বাবা স্থানীয় আওয়ামী লীগের কর্মী হলেও কাদের শিবিরের রাজনীতিতে সরাসরি জড়িত ছিলেন। তিনি মাদরাসার হেফজ বিভাগের শিক্ষক ও ফাজিল দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র। তিনি অধ্যক্ষ সিরাজের অনুগত হিসেবে মাদরাসার ছাত্রাবাসে থাকতেন। নূর ও শামীমের জবানবন্দিতেও কাদেরের জড়িত থাকার বিষয়টি এসেছে। ঘটনার দিন কাদের মাদরাসার ফটকে পাহারায় ছিলেন এবং ঘটনার আগের দিন রাতে খুনের পরিকল্পনার বৈঠকেও ছিলেন।

রাফিকে অগ্নিদগ্ধ করার পর প্রথম দিন সে মাদরাসায় অবস্থান করলেও ৭ এপ্রিল ছাত্রাবাস ত্যাগ করেন হাফেজ আবদুল কাদের। পরদিন ৮ এপ্রিলও তাঁর গ্রামের বাড়িতে ছিলেন। মামলাটি পিবিআইতে স্থানান্তরের খবর জানতে পেরে বাড়ি ত্যাগ করে আত্মগোপনে চলে যান হাফেজ আবদুল কাদের মানিক।

মন্তব্য