kalerkantho

সোমবার। ২৭ মে ২০১৯। ১৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬। ২১ রমজান ১৪৪০

মসজিদে খুতবা

বিতর্কিত বিষয় বয়ান না করার নির্দেশনা অমান্য

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৪ এপ্রিল, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



বিতর্কিত বিষয় বয়ান না করার নির্দেশনা অমান্য

গত শুক্রবার জুমার নামাজের সময় অনেক মসজিদে খুতবা ও বয়ানে ইমামরা তুলে ধরেন বর্ষবরণ অনুষ্ঠানের নেতিবাচক নানা দিক। মুসলমানদের এসব অনুষ্ঠান পরিহার করার আহ্বানও জানান তাঁরা। জুমার নামাজের খুতবাসহ বয়ানে ‘বিতর্কিত’ বিষয় এড়িয়ে চলার জন্য নির্দেশনা ছিল ইসলামিক ফাউন্ডেশনের। গোয়েন্দা সংস্থাসহ বিভিন্ন মাধ্যমে সরকার বিষয়টি মনিটর করে আসছিল। কিন্তু গত দুই সপ্তাহে রাজধানীর বেশ কয়েকটি মসজিদে জুমার নামাজে খুতবার সময় মঙ্গল শোভাযাত্রা নিয়ে ‘আপত্তিজনক’ মন্তব্য করা হয়েছে বলে অভিযোগ মিলেছে।

তেজগাঁও এলাকায় বসবাসরত আলী আকবর জানান, গত ৫ এপ্রিল জুমার নামাজ আদায় করতে গিয়ে তিনি বিব্রতকর অবস্থায় পড়েন। নামাজ শেষে ইমাম নিজ বয়ানে নববর্ষ ও মঙ্গল শোভাযাত্রা নিয়ে আপত্তিকর কথা বলেন। পরিস্থিতি বিবেচনায় তাৎক্ষণিক প্রতিবাদ না করলেও তিনি বন্ধুদের বিষয়টি জানান। এরপর বয়ানের রেকর্ড করা অংশ পুলিশের কাছে জমা দেন তিনি। তবে গত শুক্রবার নামাজের সময় অন্য প্রসঙ্গে বয়ান করা হলেও নববর্ষবিরোধী কোনো বক্তব্য দেননি ইমাম।

রাজধানীর আদাবর মনসুরাবাদ আবাসিক এলাকার বাসিন্দা আব্দুর রাজ্জাক খান জানান, নিয়মিত নামাজ আদায় করেন যে মসজিদে সেখানে হঠাৎ করেই গত শুক্রবার নববর্ষবিরোধী বক্তব্য শুনে অবাক হয়েছেন তিনি। সংস্কৃতিমানা এই ব্যক্তি বলেন, ‘বয়ান দিতে গিয়ে ইমামরা বিতর্কিত বক্তব্য উপস্থাপন করছেন কি না তা মনিটরিং করা হয় বলে শুনেছি। গত দুই বছরে উসকানিমূলক তেমন বক্তব্য শুনিনি। কিন্তু গত জুমার নামাজের সময় মঙ্গল শোভাযাত্রা নিয়ে বিরূপ মন্তব্য করেন ইমাম। অনেক মুসল্লির বিষয়টি নিয়ে আপত্তি থাকলেও মসজিদে কেউ কথা বলেননি। পরে বাইরে এ নিয়ে সমালোচনা হয়েছে।’

রাজধানীর অনেক মসজিদেই বাংলা বর্ষবরণ অনুষ্ঠান ও মঙ্গল শোভাযাত্রাবিরোধী বয়ান করা হয়েছে বলে মুসল্লিরা জানান। বিষয়টি নিয়ে সংক্ষুব্ধদের অনেকে পুলিশে অভিযোগ করেছেন। তবে পরিচয় প্রকাশ করে মামলা দায়েরে রাজি হননি কেউ। পুলিশ প্রশাসন অনেক স্থানেই ইমামদের ‘বিতর্কিত’ বিষয় নিয়ে বয়ান না করার জন্য অনুরোধ জানান। এর পরও অনেক ইমাম বিতর্ক উসকে দেন।

এ বিষয়ে জানতে ইসলামিক ফাউন্ডেশনে যোগাযোগ করা হলে মহাপরিচালক সামীম মোহাম্মদ আফজাল দেশের বাইরে আছেন বলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান। কেউ ‘স্পর্শকাতর’ বিষয়টিতে মন্তব্য প্রদানে রাজি হননি।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ আব্দুর রশীদ কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘মঙ্গল শোভাযাত্রা যদি হয় দেশ ও জাতির শুভ কামনার জন্য তাহলে কারো আপত্তি থাকার কথা না। তবে নিজ কর্ম এবং উদ্দেশ্য যেন শরিয়তবিরোধী না হয় সেদিকে মুসলমানদের খেয়াল রাখতে হবে। আলেমসমাজের অনেকে বিষয়টি ব্যাখ্যা না করে শুধু মন্তব্য করেন, যা বিভ্রান্তির জন্ম দেয়।’

মন্তব্য