kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ২৩ মে ২০১৯। ৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬। ১৭ রমজান ১৪৪০

মার্কিন সিনেটে নতুন বিল

গণহত্যার দায়ে মিয়ানমারে নিষেধাজ্ঞার প্রস্তাব

মেহেদী হাসান   

১৪ এপ্রিল, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



গণহত্যার দায়ে মিয়ানমারে নিষেধাজ্ঞার প্রস্তাব

মিয়ানমারে রোহিঙ্গা গণহত্যার দায়ে দেশটির ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের পার্লামেন্টের (কংগ্রেস) উচ্চকক্ষ সিনেটে একটি প্রস্তাব উঠেছে। ওয়াশিংটনের একটি সূত্র কালের কণ্ঠকে জানায়, গত বৃহস্পতিবার রাতে ওয়াশিংটনের ক্যাপিটল হিলে সিনেট অধিবেশনে সিনেটর বেঞ্জামিন কারডিন এ প্রস্তাব আনেন। প্রস্তাবের সহপৃষ্ঠপোষক হয়েছেন আরো অন্তত ১৪ জন সদস্য।

নতুন এই প্রস্তাবকে গণহত্যা ঠেকাতে ট্রাম্প প্রশাসনের ওপর চাপ সৃষ্টির জন্য আইন প্রণেতাদের সর্বশেষ উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

গত দেড় বছরে যুক্তরাষ্ট্র কংগ্রেসে বেশ কিছু প্রস্তাব উঠলেও সেগুলো গৃহীত হয়নি। তবে এবারের নিষেধাজ্ঞার প্রস্তাবটি অতীতের চেয়ে বেশ কঠোর।

প্রস্তাবটির পুরো খসড়া এখনো যুক্তরাষ্ট্র কংগ্রেসের ওয়েবসাইটে আসেনি। তবে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচের (এইচআরডাব্লিউ) ওয়াশিংটন অঞ্চলের পরিচালক সারাহ মারগন এক টুইট বার্তায় বলেছেন, রোহিঙ্গা ও মিয়ানমার ইস্যু নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের ভূমিকায় অসন্তুষ্ট হয়ে সিনেটে সরকারি ও বিরোধী উভয় পক্ষ মিলে একটি শক্তিশালী বিল এনেছে। ওই বিলে মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীর কর্মকর্তা ও তাঁদের দোসরদের বিরুদ্ধে কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপের প্রস্তাব করা হয়েছে।

জাতিসংঘসহ অনেক দেশ রোহিঙ্গাদের ওপর নিপীড়নকে গণহত্যা, যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে অভিহিত করলেও যুক্তরাষ্ট্র এগুলোর কোনোটিই করেনি। বরং দেশটি ‘এথনিক ক্লিনজিং’ বা ‘জাতিগত নির্মূল’ নামে একটি শব্দগুচ্ছ দিয়ে রোহিঙ্গা নিপীড়নকে অভিহিত করছে, যেটি আন্তর্জাতিক ফৌজদারি বিচারব্যবস্থায় তুলনামূলক নতুন। আর এই অপরাধের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষেত্রে এখনো সুনির্দিষ্ট কোনো বাধ্যবাধকতা তৈরি হয়নি।

গত মঙ্গলবার ওয়াশিংটনে সিনেটের পররাষ্ট্রবিষয়ক একটি উপকমিটির শুনানিতে রোহিঙ্গা গণহত্যাকে যুক্তরাষ্ট্রের স্বীকৃতি দেওয়ার এবং মিয়ানমারের ওপর চাপ বাড়ানোর ওপর জোরালো সুপারিশ এসেছে।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র সফরের সময়ও ওয়াশিংটনে পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেওসহ শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে রোহিঙ্গা গণহত্যাকে স্বীকৃতি দেওয়ার এবং মিয়ানমারের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপসহ চাপ সৃষ্টির ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন।

কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানিয়েছে, মিয়ানমারে গণতন্ত্র ও মানবাধিকার উৎসাহীকরণসহ অন্যান্য উদ্দেশ্যে ওই বিলটি আনা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ইহুদিদের একটি গ্রুপ এ ধরনের প্রস্তাব আনার জন্য আইন প্রণেতাদের উৎসাহিত করে আসছিল। তারাও ওই প্রস্তাবের প্রশংসা করেছে।

গত সপ্তাহে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে ব্রিফিং ও যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসে নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি সভার পররাষ্ট্রবিষয়ক কমিটির বাজেট শুনানিতে রোহিঙ্গা সংকট এবং এ কারণে বাংলাদেশের ওপর বোঝা সৃষ্টির প্রসঙ্গ এসেছে। জাতিসংঘ শরণার্থী সংস্থার (ইউএনএইচসিআর) প্রধান ফিলিপ্পো গ্র্যান্ডি নিরাপত্তা পরিষদকে সতর্ক করে বলেছেন, মিয়ানমারে ইতিবাচক পরিবর্তন না এলে বাংলাদেশ থেকে রোহিঙ্গারা ফিরবে না।

মন্তব্য