kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ২৩ মে ২০১৯। ৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬। ১৭ রমজান ১৪৪০

স্বাগত ১৪২৬

আগুনপাখির মতো জেগে ওঠে বাঙালি

নওশাদ জামিল   

১৪ এপ্রিল, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



আগুনপাখির মতো জেগে ওঠে বাঙালি

বৈশাখী মেলার প্রস্তুতি হিসেবে গতকাল রাজধানীর দোয়েল চত্বরে পসরা সাজিয়ে বসে দোকানিরা। ছবি : কালের কণ্ঠ

বাঙালির ভাগ্য যেন পৌরাণিক সেই ফিনিক্স পাখির মতো। ফিনিক্স পাখি যতবার আগুনে ঝাঁপ দেয়, ততবারই নতুন করে বেঁচে ওঠে। বাঙালিরও যতবার দেয়ালে পিঠ ঠেকে, ততবারই শক্তিশালী হয়ে জেগে ওঠে। বায়ান্নতে ঘুরে দাঁড়িয়েছিল বীর বাঙালি। পিঠ ঠেকে গিয়েছিল একাত্তরে। বীরদর্পে ঘুরে দাঁড়ায় তখনো। ছিনিয়ে আনে গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস। চারদিকে অনাচার, অস্থিরতা, আগুনপোড়া হাহাকার থেকেও আগুনপাখির মতো, রূপকথার মতো জেগে উঠছে দেশ, জেগে উঠছে বাঙালি। এভাবেই নতুন দিনের প্রত্যাশায়, শান্তি ও সমৃদ্ধির বারতায় বাঙালি জাতি বরণ করে নেবে তার সবচেয়ে বড় অসাম্প্রদায়িক উৎসব—পহেলা বৈশাখ।

আজ রবিবার। বাংলা নববর্ষের প্রথম দিন, পহেলা বৈশাখ, বঙ্গাব্দ ১৪২৬। আরেকটি নতুন বছরের পরিক্রমা শুরু হলো বাঙালির বর্ষপঞ্জিতে। আজ নতুন দিনের সূর্যোদয়ের আলোকচ্ছটায় রাঙা হবে গোটা দেশ, নেচে উঠবে মানুষের মন; ঘর ছেড়ে প্রাণের টানে বেরিয়ে আসবে বাঙালি জাতি।

আজকের দিন শুধু আনন্দ-উচ্ছ্বাসই নয়, সব মানুষের জন্য কল্যাণ কামনারও। অকল্যাণের বিরুদ্ধে, অনাচারের বিরুদ্ধে সুখ-শান্তি-সমৃদ্ধি ও কল্যাণের প্রত্যাশা, মানুষের মাঝে শুভবোধ জাগ্রত করার আশা নিয়েই মহা ধুমধামের সঙ্গে বাঙালি উদ্‌যাপন করে নববর্ষ। নিত্যনৈমিত্তিক সড়ক দুর্ঘটনা, হত্যা, খুন, ধর্ষণসহ নানা অনাচার ও অস্থিরতার মধ্যেও তাই একে অন্যকে বলি—শুভ নববর্ষ। বঙ্গাব্দ ১৪২৫-এর আনন্দ-বেদনা, হাসি-কান্নার হিসাব চুকিয়ে আজ মানুষ একসঙ্গে গাইবে ‘এসো হে বৈশাখ এসো এসো’।

বাঙালির জীবনে পহেলা বৈশাখ এক প্রেরণারও দিন। তা খাঁটি বাঙালি হওয়ারও প্রেরণা জোগায়। ধর্ম-বর্ণ-নির্বিশেষে সব শ্রেণির মানুষ একই হৃদয়াবেগে মিলিত হবে। পহেলা বৈশাখ ছাড়া এত বড় সর্বজনীন উৎসব তো আর নেই। এ উৎসবের মধ্য দিয়ে বাঙালি জাতি যেমন জেগে উঠবে আনন্দ-উচ্ছলতায়, তেমনি শপথ নেবে অন্যায়, অনাচারের বিরুদ্ধে নতুন আলোয় জেগে ওঠার।

দেশের নানা জায়গায় আজ উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে নববর্ষবরণ হবে। আজ খুব সকালেই নগরবাসী ঘর থেকে বেরিয়ে পড়বে সুসজ্জিত হয়ে। মেয়েরা পরবে লাল-সাদা শাড়ি, পুরুষের পরনে নকশা করা পাঞ্জাবি-ফতুয়া। মা-বাবার সঙ্গে উৎসবে যোগ দিয়ে আনন্দে মেতে উঠবে শিশু-কিশোরের দল। সকাল থেকেই শহরজুড়ে থাকবে নানা আয়োজন।

নববর্ষ উপলক্ষে টেলিভিশন ও রেডিও চ্যানেলগুলো প্রচার করবে বিশেষ অনুষ্ঠানমালা। সংবাদপত্রগুলো প্রকাশ করেছে ক্রোড়পত্র ও বিশেষ নিবন্ধ।

অন্যান্য বছরের মতো এবারও সরকারিভাবে পালিত হচ্ছে পহেলা বৈশাখ। বাংলা নববর্ষ উদ্‌যাপন উপলক্ষে বিভাগীয় শহর, জেলা শহর ও সব উপজেলায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজনসহ আলোচনাসভা ও গ্রামীণ মেলার আয়োজন করেছে স্থানীয় প্রশাসন। ইউনেসকো কর্তৃক মঙ্গল শোভাযাত্রাকে অপরিমেয় সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়টিকে গুরুত্বারোপ করে প্রতিটি জেলা ও উপজেলায় পহেলা বৈশাখে মঙ্গল শোভাযাত্রার আয়োজন করা হচ্ছে। এ ছাড়া জেলা-উপজেলা থেকে শুরু করে গ্রামবাংলার হাট-বাজারেও আজ থাকবে হালখাতা ও উৎসবের আমেজ।

বাঙালির বর্ষবরণ মানেই ছায়ানটের প্রভাতী আয়োজন। ‘অনাচারের বিরুদ্ধে জাগ্রত হোক শুভবোধ’—এই আহ্বান নিয়ে সাজানো হয়েছে রমনা বটমূলের প্রভাতী আয়োজন। আজ ভোর সোয়া ৬টায় বছরের প্রথম সূর্যোদয়কে স্বাগত জানানো হবে রাগালাপ দিয়ে।

সকাল ৯টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় চারুকলা অনুষদ থেকে বেরোবে মঙ্গল শোভাযাত্রা। এবারের প্রতিপাদ্য ‘মস্তক তুলিতে দাও অনন্ত আকাশে’। বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে ভোর সাড়ে ৫টায় শুরু হবে চ্যানেল আই ও সুরের ধারার যৌথ বর্ষবরণ অনুষ্ঠান। সকাল সাড়ে ৭টায় শিশু পার্কের পাশে নারকেলবীথি চত্বরে রয়েছে ঋষিজ শিল্পীগোষ্ঠীর বর্ষবরণ অনুষ্ঠান।

এ ছাড়া বাংলা একাডেমি, শিল্পকলা একাডেমি, জাতীয় জাদুঘর, শিশু একাডেমি, বেঙ্গল ফাউন্ডেশন, জাতীয় প্রেস ক্লাব, ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি, কেন্দ্রীয় কচি-কাঁচার মেলা, বেণুকা ললিতকলা কেন্দ্রসহ বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃৎতিক সংগঠন বর্ষবরণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে।

নিরাপত্তাজনিত কারণে এবার বিকেল ৫টার মধ্যে বর্ষবরণের সব অনুষ্ঠান শেষ করার নির্দেশনা দিয়েছে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। বর্ষবরণে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নেওয়া হয়েছে কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা। রাজধানীর উৎসবস্থলগুলো সিসিটিভি ক্যামেরার আওতায় থাকবে এবং তা সার্বক্ষণিক মনিটর করবে র‌্যাব।

মন্তব্য