kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ২৩ মে ২০১৯। ৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬। ১৭ রমজান ১৪৪০

কলেজছাত্রীকে উত্ত্যক্ত, চাঁদপুরে ইমামের চোখে মরিচের গুঁড়া

চাঁদপুর প্রতিনিধি   

১৩ এপ্রিল, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



কলেজছাত্রীকে উত্ত্যক্ত, চাঁদপুরে ইমামের চোখে মরিচের গুঁড়া

চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জে মসজিদের ইমামের বিরুদ্ধে কলেজছাত্রীকে উত্ত্যক্ত করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। আর অভিযোগের প্রতিবাদ জানাতে গিয়ে আহত হয়েছেন ভুক্তভোগী ছাত্রীর বড় বোন। এদিকে ঘটনার পর গা ঢাকা দিয়েছেন অভিযুক্ত ইমাম ছৈয়দ আহম্মদ (২৬), যার বিরুদ্ধে এ ধরনের আরো অভিযোগ রয়েছে। তবে পলাতক থাকায় অভিযোগের ব্যাপারে ইমামের বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

ঘটনাটি ঘটে গত বুধবার ভোরে; ফরিদগঞ্জের সাহেবগঞ্জ বাজার মসজিদের সামনে। ভুক্তভোগী ছাত্রীর ভাষ্য, কলেজে যাওয়া-আসার পথে ছৈয়দ আহম্মদ তাঁকে প্রায়ই উত্ত্যক্ত করতেন; পিছুও নিতেন। এমনকি মাঝেমধ্যে  অশালীন ইঙ্গিতও করতেন। কয়েক মাস আগে তিনি এসব ঘটনা কলেজের এক শিক্ষক এবং মসজিদ কমিটির সভাপতিকে জানান। কিন্তু এরপর ইমামের আচরণ বেপরোয়া হয়ে ওঠে। ওই ছাত্রী বলেন, ‘এমন পরিস্থিতিতে বাধ্য হয়ে আমি এবং আমার বড় বোন ওই ইমামকে শায়েস্তা করতে মসজিদে গিয়েছিলাম।’

ঘটনার একাধিক প্রত্যক্ষদর্শী জানায়, বুধবার ভোরে বোরকা পরা দুই নারী মসজিদের সামনে আসেন। ফজরের নামাজ শেষ হওয়ার পর তাঁরা মসজিদের ইমাম ছৈয়দ আহম্মদকে ডাকেন। ইমাম বের হলে ওই দুই নারীর সঙ্গে কথাকাটাকাটি এবং একপর্যায়ে হাতাহাতিতে গড়ায়। এ সময় নারীদের একজন ইমামের চোখে মরিচের গুঁড়া ছুড়ে মারেন। এরপর ইমাম ও তাঁর সহযোগী রিপন বেপারী ওই দুই নারীকে এলোপাতাড়ি মারধর করেন। এতে এক নারীর (কলেজছাত্রীর বড় বোন) মাথা ফেটে যায়। একপর্যায়ে মসজিদে থাকা ৮-১০ জন মুসল্লি দুই নারীকে মসজিদে আটকে রাখে। এর কিছুক্ষণ পর এলাকার কয়েকজন উপস্থিত হয়ে আটক নারীদের মসজিদ থেকে ছাড়িয়ে বাড়ি পৌঁছে দেয়। এর মধ্যে বড় বোনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

সাহেবগঞ্জ বাজার মসজিদ কমিটির সভাপতি অধ্যাপক দেলোয়ার হোসেন জানান, ‘এর আগেও ইমাম সৈয়দ আহম্মদের নৈতিক চরিত্র নিয়ে কথা উঠেছিল। ওই সময় তাঁকে আমি এলাকা ছাড়ার নির্দেশ দিই। কিন্তু তার দুই দিন পরই ইমাম এলাকায় ফিরে আসেন।’ তিনি আরো বলেন, ‘গত দুই মাস ধরে সৈয়দ আহম্মদের পেছনে নামাজ পড়া বন্ধ করে দিয়েছি।’

সংরক্ষিত ওয়ার্ডের সদস্য রেনুয়ারা বেগম বলেন, ‘আমার পুত্রবধূকে (ভুক্তভোগীর বড় বোন) কেন মারধর করা হলো—এ জন্য ইউপি চেয়ারম্যানের কাছে লিখিতভাবে বিচার দাবি করেছি।’

ফরিদগঞ্জ থানার ওসি আবদুর রকিব জানান, তিনি বিষয়টি বিভিন্নজনের কাছ থেকে শুনেছেন। তবে এ নিয়ে বিবদমান দুই পক্ষের কেউ থানায় অভিযোগ দেয়নি। তার পরও ঘটনা খতিয়ে দেখতে এসআই গোপীনাথের নেতৃত্বে গতকাল বিকেলে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করার পাশাপাশি প্রাথমিক খোঁজখবর নিয়েছে। ওসি আরো বলেন, ঘটনার শিকার নারীদের পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ দিতে অপারগতা প্রকাশ করা হয়েছে।

গতকাল রাতে এ প্রতিবেদন লেখার সময় অভিযুক্ত ইমাম সৈয়দ আহম্মদের কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি। কারণ ঘটনার দিন (বুধবার) সকালেই তিনি এলাকা ছেড়ে গা ঢাকা দিয়েছেন। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ইমাম সৈয়দ আহম্মদের গ্রামের বাড়ি চাঁদপুরের হাইমচর উপজেলার গণ্ডামারা এলাকায়।

মন্তব্য