kalerkantho

শুক্রবার । ২৪ মে ২০১৯। ১০ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬। ১৮ রমজান ১৪৪০

মার্কিন সেনাদের যুদ্ধাপরাধ তদন্তে পিছটান আইসিসির

♦ রাষ্ট্রের সহযোগিতা ও প্রমাণের ঘাটতির অজুহাত
♦ প্রভাব পড়তে পারে ‘রোহিঙ্গা গণহত্যার’ ক্ষেত্রেও

কূটনৈতিক প্রতিবেদক   

১৩ এপ্রিল, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



মার্কিন সেনাদের যুদ্ধাপরাধ তদন্তে পিছটান আইসিসির

যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নিষেধাজ্ঞা আরোপসহ অন্যান্য হুমকির পটভূমিতে অবশেষে মার্কিন সেনাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ তদন্ত থেকে পিছু হটল আন্তর্জাতিক ফৌজদারি আদালত (আইসিসি)। তদন্ত শুরুর জন্য আইসিসি কৌঁসুলির আবেদন গতকাল শুক্রবার খারিজ করে দেওয়ার কারণ হিসেবে আইসিসি বলেছে, এত বছর পর জোরালো প্রমাণ ও সংশ্লিষ্ট রাষ্ট্রের কাছ থেকে সহযোগিতা পাওয়ার সম্ভাবনা খুব কম।

আইসিসির সংশ্লিষ্ট কৌঁসুলি আফগানিস্তানে যুক্তরাষ্ট্রসহ অন্য পক্ষগুলোর যুদ্ধাপরাধের অভিযোগের প্রাক-অনুসন্ধানে প্রায় এক দশক সময় নিয়েছিলেন। এরপর ২০১৭ সালের নভেম্বর মাসে আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু করতে তিনি আইসিসির অনুমতি চান। আইসিসির প্রাক-বিচারিক চেম্বার-২ গতকাল সর্বসম্মতিক্রমে এক রায়ে বলেছেন, ‘চেম্বার এই মর্মে সিদ্ধান্ত নিচ্ছে যে আফগানিস্তান পরিস্থিতি নিয়ে এই পর্যায়ে কোনো তদন্ত ন্যায়বিচার নিশ্চিত করবে না এবং এ কারণে আবেদন (তদন্ত শুরুর আবেদন) প্রত্যাখ্যান করা হলো।’

আন্তর্জাতিক ফৌজদারি আদালত আরো বলেছেন, বিচারিক এখতিয়ার ও গ্রহণযোগ্যতার শর্ত পূরণ হওয়া সত্ত্বেও আফগানিস্তানে বর্তমান প্রেক্ষাপটে অভিযোগের সফল তদন্ত ও বিচারের সুযোগ খুবই সীমিত।

উল্লেখ্য, গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র আইসিসির কৌঁসুলি ফেতু বেনসুদার ভিসা বাতিল করেছে। এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে আইসিসির তদন্তের সঙ্গে সম্পৃক্ত কাউকে ট্রাম্প প্রশাসন তাদের দেশে ঢুকতে না দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে।

এমন পটভূমিতে আইসিসির গতকালের সিদ্ধান্তের বেশ সুদূরপ্রসারী প্রভাব আছে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন। আমস্টারডাম ইউনিভার্সিটির আন্তর্জাতিক ফৌজদারি আইনের সহযোগী অধ্যাপক কেভিন জন হেলার বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে বলেন, আইসিসির এই সিদ্ধান্ত আগামী দিনগুলোতে যেকোনো মামলার সফল নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে বড় ধরনের বাধা সৃষ্টি করবে।

রাষ্ট্রের সহযোগিতার বিষয়টিতে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, ‘এটিই যদি শর্ত হয় তাহলে তারা কোনো দিনই কোনো তদন্ত শুরু করতে পারবে না।’

মার্কিন সেনাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধের বিচার নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র যে আচরণ করেছে তার সঙ্গে মিয়ানমার কর্তৃপক্ষের আচরণের সাদৃশ্য রয়েছে। মিয়ানমারে সামরিক বাহিনীর বিরুদ্ধে রোহিঙ্গাদের ওপর গণহত্যা, যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধ চালানোর মতো গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। রোহিঙ্গাদের গণবাস্তুচ্যুত হয়ে বাংলাদেশে আসার প্রেক্ষাপট কী ছিল তার প্রাক-অনুসন্ধান শুরুর নির্দেশ আইসিসি দিলেও মিয়ানমার তা প্রত্যাখ্যান করেছে। মিয়ানমার সরকারও আইসিসিকে কোনো ধরনের সহযোগিতা না করার এবং তদন্তসংশ্লিষ্ট কাউকে তাদের দেশে ঢুকতে না দেওয়ারও ঘোষণা দিয়েছে।

গত মাসে আইসিসি প্রতিনিধিদল বাংলাদেশ সফর শেষে বলেছে, মিয়ানমারের আইসিসি সদস্য না হওয়া বিচারে বাধা হবে না। প্রাক-অনুসন্ধান শেষে আইসিসি কৌঁসুলি যদি মনে করেন তদন্তের মতো যথেষ্ট উপাদান আছে তাহলে তিনি আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরুর জন্য আইসিসির কাছে আবেদন করবেন। আইসিসি সেই আবেদন মঞ্জুর করলেই তদন্ত শুরু হবে।

মিয়ানমার রোহিঙ্গা গণহত্যা চালানোর পাশাপাশি এর আলামতগুলো ধ্বংসের চেষ্টা চালাচ্ছে। তা ছাড়া মিয়ানমারে তদন্তের জন্য আইসিসি বা জাতিসংঘ আদৌ ঢুকতে পারবে কি না, সে বিষয়টি এখনো বড় অনিশ্চিত হয়ে আছে। শুধু বিচার নয়, তদন্ত ও রায় কার্যকরের জন্যও আইসিসি তার সদস্যসহ অন্য রাষ্ট্রগুলোর ওপর নির্ভরশীল। আইসিসির নিজস্ব কোনো বাহিনী নেই।

মন্তব্য