kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ২৩ মে ২০১৯। ৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬। ১৭ রমজান ১৪৪০

প্রধানমন্ত্রী বললেন

নুসরাতের খুনিরা ছাড় পাবে না

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৩ এপ্রিল, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



নুসরাতের খুনিরা ছাড় পাবে না

ফেনীর সোনাগাজীর মাদরাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফিকে যারা আগুনে পুড়িয়ে হত্যা করেছে, তাদের কেউ ছাড় পাবে না বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, ‘নুসরাতকে আগুনে পুড়িয়ে হত্যার নিন্দা জানানোর ভাষা নেই। যারা বোরকা পরে নুসরাতের শরীরে আগুন লাগিয়ে হত্যা করেছে, তারা কেউ ছাড় পাবে না। তাদের সবাইকে বিচারের আওতায় আনা হবে।’  

গতকাল শুক্রবার বিকেলে প্রধানমন্ত্রী তাঁর সরকারি বাসভবন গণভবনে আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামণ্ডলীর বৈঠকে দেওয়া সূচনা বক্তব্যে এসব কথা বলেন।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমরা মেয়েটিকে বাঁচাতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি। কিন্তু দুঃখজনক, মেয়েটি আমাদের ছেড়ে চলে গেল। তাকে হত্যা করা হয়েছে বোরকা পরে হাত-মুখ ঢেকে। ওকে আগুন দেওয়া হয়েছে। এরা কেউই ছাড় পাবে না।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা মেয়েটিকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে পাঠাতে চেয়েছিলাম। তবে তার শারীরিক অবস্থা সিঙ্গাপুরে নিয়ে যাওয়ার মতো ছিল না। সিঙ্গাপুরের চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলে, তাদের সঙ্গে পরামর্শ করে এখানে চিকিৎসা চলেছে। কিন্তু দুর্ভাগ্য মেয়েটিকে বাঁচানো গেল না। বিনা কারণে মেয়েটিকে হত্যা করা হলো। এর সঙ্গে জড়িত কাউকে ছাড়ব না। দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি তাদের পেতেই হবে।’

পুড়িয়ে মানুষ হত্যার পথ বিএনপি দেখিয়েছে অভিযোগ করে বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা বলেন, ‘এ ঘটনার শুরুটা কারা করেছিল? ২০১৩ সালে নির্বাচন পণ্ড করার নামে যে জ্বালাও-পোড়াও অগ্নিসন্ত্রাস করেছে। কিন্তু তারা নির্বাচন ঠেকাতে পারেনি। আবার ২০১৫ সালে সরকারকে উৎখাত করার নামে সারা দেশে অগ্নিসন্ত্রাস সৃষ্টি করে। এই দেশে এমন বীভৎস ঘটনা সেই পাকিস্তান আমলে আমরা দেখেছি। ১৯৭১ সালে পাক হানাদার বাহিনী যখন দেশের মানুষের ওপর হামলা শুরু করে তখন তারা বস্তিতে আগুন দিত। আগুন দেওয়ার পর যখনই তারা ঘর থেকে বেরিয়ে এলো তখনই তারা তাদের গুলি করে হত্যা করত। এভাবে তারা বহু মানুষ হত্যা করেছে। বিএনপির আমলেও এ রকম ঘটনা ঘটেছে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘একটি রাজনৈতিক দল বিএনপি ২০ দলীয় জোট করেছে। সেই ২০ দলে আছে স্বাধীনতাবিরোধী দল জামায়াত। এই বিএনপি-জামায়াত জীবন্ত মানুষের গায়ে পেট্রল ঢেলে আগুনে পুড়িয়ে মানুষ মেরেছে। এ ছাড়া বাসে, ট্রেনে, ট্রলারে আগুন দিয়েও মানুষ পুড়িয়েছে। এই যে যেখানে সেখানে মানুষ পুড়িয়ে মারা হচ্ছে এই পথটা তো বিএনপিই দেখিয়ে গেছে। আমি মনে করি এগুলো প্রতিহত করতে সামাজিক সচেতনতা সৃষ্টি হওয়া দরকার।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশ অর্থনৈতিকভাবে মন্দা ছিল, বর্তমানে আমাদের দেশের অর্থনীতি শক্তিশালী। দুর্বার গতিতে দেশ এগিয়ে যাচ্ছে, দেশ এগিয়ে যাবে—এই এগিয়ে যাওয়া কেউ প্রতিহত করতে পারবে না। জঙ্গিবাদ মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছিল, কিন্তু বর্তমান সরকার তা মোকাবেলা করে দেশকে জঙ্গিবাদ মুক্ত করেছে। আমাদের দেশের নানা সামাজিক সমস্যাও দেখা দিয়েছে। সবচেয়ে দুর্ভাগ্যের বিষয় হলো সব সমস্যায় যারা ভোগে তাদের বেশির ভাগই নিম্নবর্গের মানুষ।’

বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে নাটক-লেখালেখির বিষয়ে বঙ্গবন্ধুকন্যা বলেন, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জীবনীনির্ভর কোনো ধরনের নাটক নির্মাণ, লেখালেখি বা ক্রীড়ানুষ্ঠান-টুর্নামেন্ট আয়োজনের জন্য বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেমোরিয়াল ট্রাস্টের অনুমোদনের প্রয়োজন নেই।

বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন উপদেষ্টা পরিষদ সদস্য আমির হোসেন আমু, তোফায়েল আহমেদ, এইচ টি ইমাম, অ্যাডভোকেট ইউসুফ হোসেন হুমায়ুন, অধ্যাপক আব্দুল খালেদ, অধ্যাপক হামিদা বানু প্রমুখ।

মন্তব্য