kalerkantho

শনিবার । ২৫ মে ২০১৯। ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬। ১৯ রমজান ১৪৪০

বিশ্বব্যাংক-আইএমএফের বসন্তকালীন সভা

রোহিঙ্গা এসডিজিতে গুরুত্ব দিচ্ছে ঢাকা

আরিফুর রহমান, ওয়াশিংটন থেকে    

১২ এপ্রিল, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



রোহিঙ্গা এসডিজিতে গুরুত্ব দিচ্ছে ঢাকা

যুক্তরাষ্ট্রের গোপন নথি প্রকাশ করে বিশ্বে হৈচৈ ফেলে দেওয়া উইকিলিকসের প্রতিষ্ঠাতা জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জের গ্রেপ্তার এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। আর এ দিনই বহুজাতিক সংস্থা বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব নিলেন ডেভিড ম্যালপাস। তিনি একসময় বিশ্বব্যাংকের ঋণ কার্যক্রমের কঠোর সমালোচক ছিলেন। জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জের গ্রেপ্তার ও ডেভিড ম্যালপাসের দায়িত্ব নেওয়ার দিন গতকাল শুরু হয়েছে বিশ্বব্যাংক ও আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) বসন্তকালীন সভা।

বাংলাদেশ এ সভায় মিয়ানমার থেকে পালিয়ে এসে আশ্রয় নেওয়া প্রায় ১১ লাখ রোহিঙ্গাকে সহযোগিতা ও তাদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর গুরুত্ব তুলে ধরবে। এ ছাড়া বাংলাদেশের জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবেলায় উন্নত বিশ্বের সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের তাগিদ দেবে। এগুলোর পাশাপাশি জাতিসংঘ ঘোষিত ১৫ বছর মেয়াদি টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য (এসডিজি) বাস্তবায়নে উন্নত বিশ্বের সহযোগিতা চাইবে বাংলাদেশ।

সভায় অংশ নিতে ওয়াশিংটনে পৌঁছেছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালসহ বিশ্বব্যাংকের সদস্য ১৮৯টি দেশের অর্থমন্ত্রী ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নররা। এ ছাড়া অংশ নিচ্ছে দুই হাজার ৮০০ অতিথি, ৩৫০টি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি, ৮০০ সাংবাদিক ও সমাজের ৫৫০ জন প্রতিনিধি।

এবারের বসন্তকালীন সভায় সাইবার ঝুঁকি নিয়েও আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। বাংলাদেশ বিশ্ব নীতিনির্ধারকদের কাছে তুলে ধরে এসব ইস্যু। এ ছাড়া বাংলাদেশসহ সব দেশের প্রবৃদ্ধিকে আরো টেকসই করা, যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে বাণিজ্য যুদ্ধে উদ্বেগ কমিয়ে আনার কৌশলও খুঁজে বের করা হবে সভা থেকে। বাংলাদেশসহ বিশ্বের অন্য দেশগুলোর অর্থনৈতিক উন্নয়নে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর আস্থা ও বিশ্বাসকে শক্তিশালীভাবে গড়ে তোলার বিষয়টি প্রাধান্য পাচ্ছে।

সভা সম্পর্কে জানতে চাইলে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) সচিব মনোয়ার আহমেদ বলেন, বাংলাদেশের পক্ষ থেকে রোহিঙ্গা ইস্যু তুলে ধরা হবে। আসছে বর্ষায় টেকনাফ ও উখিয়ায় রোহিঙ্গা আশ্রয় শিবিরের ঘরবাড়ি ধসে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। বাংলাদেশ সরকার এরই মধ্যে তাদের ঘর তৈরি করে দিয়েছে। নতুন করে ঘর ধস হলে তা তৈরি করতে অর্থের প্রয়োজন হবে। এ বিষয়টি উন্নয়ন সহযোগীদের কাছে তুলে ধরা হবে। তিনি আরো বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবেলার পাশাপাশি এসডিজি বাস্তবায়নে বেসরকারি খাতের বিনিয়োগ খোঁজা হবে এই সভা থেকে। বিশ্বব্যাংক ও জাতিসংঘ যৌথ উদ্যোগে এ বিষয়ে একটি বৈঠকের আয়োজন করেছে। সেখানে বাংলাদেশসহ স্বল্পোন্নত দেশগুলো কিভাবে এসডিজি বাস্তবায়ন করবে, বেসরকারি বিনিয়োগ কারা করবে এ নিয়ে তুলে ধরা হবে বিশ্বের বড় বড় কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও উদ্যোক্তাদের কাছে। সে বৈঠকে বাংলাদেশ একটি প্রবন্ধ উপস্থাপন করা হবে।

এদিকে বসন্তকালীন বৈঠকে সন্ত্রাসী অর্থায়নে প্রতিরোধ, সাইবার ঝুঁকি, জলবায়ু পরিবর্তন ও আন্তর্জাতিক অভিবাসন নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। এখন বিভিন্ন দেশে সাইবার অপরাধ হচ্ছে। ব্যাংক হ্যাকিং হচ্ছে। এক দেশ থেকে অন্য দেশে প্রবেশ করে সার্ভার হ্যাকিং করছে। বাংলাদেশও এমন ঘটনার শিকার হয়েছে। বিশেষ করে বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ হ্যাকিংয়ের মাধ্যমে হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন দেশ মনে করছে, এসব ঝুঁকি মোকাবেলা একটি দেশের পক্ষে একা কাজ করা সম্ভব নয়। সম্মিলিতভাবে এসব ঝুঁকি মোকাবেলায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করতে হবে। কারণ আর্থিক খাতে এসব ঝুঁকি ভবিষ্যতে আরো বাড়বে।

মন্তব্য