kalerkantho

রবিবার। ১৬ জুন ২০১৯। ২ আষাঢ় ১৪২৬। ১২ শাওয়াল ১৪৪০

ছাত্রদল জয়ের কাছেও যেতে পারেনি

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৪ মার্চ, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



ছাত্রদল জয়ের কাছেও যেতে পারেনি

সদ্য শেষ হওয়া নির্বাচনের আগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) ও হল সংসদে নির্বাচন হয় ১৯৯০ সালের ৬ জুন। এতে ছাত্রদল মনোনীত আমান-খোকন পরিষদ নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়। কিন্তু গত ১১ মার্চ নির্বাচনে ছাত্রদল মনোনীত প্যানেলের প্রার্থীরা ডাকসু কিংবা হল সংসদের একটি পদেও জিততে পারেনি।

জানা যায়, কর্মীসংকটে ১৮টি হলের কোনোটিতেই পূর্ণাঙ্গ প্যানেল দিতে পারেনি সংগঠনটি। ছাত্র হলের ১১টিতে আংশিক প্যানেলে নির্বাচন করেছে আর পাঁচটি ছাত্রী হলে চারটিতেই কোনো প্রার্থী দিতে পারেনি। একটি হলে এক ছাত্রীকে মনোনীত করলেও তিনি পাসের ধারেকাছেও যেতে পারেননি।

২০০৮ সালের ২৯ জানুয়ারি জাতীয় নির্বাচনে রাজনৈতিক দলের ক্ষমতার পালাবদলের পর ক্যাম্পাস থেকে বিতাড়িত হয় ছাত্রদল। ১০ বছরের বেশি সময় ক্যাম্পাসে আসতে পারেনি সংগঠনটি। অছাত্র আর বাহিরাগত আখ্যা দিয়ে তাদের প্রবেশ ঠেকিয়েছে ছাত্রলীগ, কোনো কোনো সময় ছাত্রদল নেতাদের মারধর করার ঘটনাও ঘটেছে। দীর্ঘ সময় ক্যাম্পাসের বাইরে থাকায় নতুন ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীদের দলে ভেড়াতে পারেনি ছাত্রদল।

ক্যাম্পাসে কোনো অবস্থান না থাকলেও ২৮ বছরের বেশি সময় পর অনুষ্ঠিত ডাকসু নির্বাচনে পূর্ণাঙ্গ প্যানেল দেয় ছাত্রদল। ফলাফলে দেখা গেছে, কোনো পদে জেতা তো দূরের কথা, নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবেও নেই তারা। একটি পদেই শুধু প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পেরেছে তারা। ছাত্রদল প্যানেলের কমনরুম ও ক্যাফেটেরিয়া পদে কানেতা ইয়া-লাম পেয়েছেন সাত হাজার ১১৯ ভোট।

ডাকসুর ওয়েবসাইটে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ছাত্রদলের ভিপি পদপ্রার্থী মোস্তাফিজুর রহমান পেয়েছেন ২৪৫ ভোট, জিএস পদপ্রার্থী আনিসুর রহমান খন্দকার অনিক পেয়েছেন ৪৬২ ভোট আর এজিএস পদপ্রার্থী খোরশেদ আলম সোহেল পেয়েছেন ২৯৪ ভোট।

স্বাধীনতাসংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সম্পাদক পদে জাফরুল হাসান নাদিম পেয়েছেন ৩০০ ভোট। আন্তর্জাতিক সম্পাদক আশরাফুল ইসলাম ৭১৭ ভোট, সাহিত্য সম্পাদক শাহিনুল ইসলাম ৩০১ ভোট, সংস্কৃতি সম্পাদক কাউয়ুম উল হাসান ৩৯০ ভোট, ক্রীড়া সম্পাদক মনিরুজ্জামান মামুন ৪৩৫ ভোট, ছাত্র পরিবহন সম্পাদক মাহফুজুর রহমান চৌধুরী ৬৯০ ভোট, সমাজসেবা সম্পাদক তৌহিদুল ইসলাম ৪৫৮ ভোট।

হলগুলোর ফল বিশ্লেষণে দেখা গেছে, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু হলে ছাত্রদলের ভিপি পদপ্রার্থী আমান উল্লাহ পেয়েছেন ৭৭ ভোট। অন্যদিকে বিজয়ী প্রার্থী ছাত্রলীগের আকমত হোসেন পেয়েছেন ৯৭৯ ভোট। ভিপি পদের বাইরে আরো কোনো প্রার্থী দিতে পারেনি ছাত্রদল।

মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউর রহমান হলে ছাত্রদলের ভিপি পদপ্রার্থী তারেক হাসান পেয়েছেন ১৬৯ ভোট আর জিএস পদপ্রার্থী মোহাম্মদ ইমন পেয়েছেন ৪৬ ভোট। এই হলে ভিপি পদে বিজয়ী শরিফুল ইসলাম শাকিল পেয়েছেন ৮২৬ ভোট আর জিএস হাসিবুল হোসাইন শান্ত পেয়েছেন ৬৪৪ ভোট।

বিজয় একাত্তর হলে ছাত্রদলের ভিপি পদপ্রার্থী মো. কাউছার হোসেন পেয়েছেন ২০২ ভোট, জিএস পদপ্রার্থী বজলুর রহমান পেয়েছেন ৩০১ ভোট আর এজিএস পদপ্রার্থী তানজিল হাসান পেয়েছেন ৪১০ ভোট।

মাস্টারদা সূর্য সেন হলে ছাত্রদলের ভিপি পদপ্রার্থী এরশাদ মাহমুদ পেয়েছেন ৪৮ ভোট, জিএস পদপ্রার্থী মুহাম্মদ আব্দুল খালেক পেয়েছেন ১৫৭ ভোট আর সংস্কৃতি সম্পাদক পদপ্রার্থী তানভীর হাসান পেয়েছেন ৩১৪ ভোট। কবি জসীমউদ্দীন হলে ছাত্রদলের জিএস পদপ্রার্থী তৌহিদুর রহমান পেয়েছেন ৭১ ভোট।

হাজী মুহম্মদ মুহসীন হলে ছাত্রদলের ভিপি পদপ্রার্থী কাউছার আলম (রাসেল) পেয়েছেন ৩৫ ভোট, জিএস পদপ্রার্থী মাহাফুজুর রহমান পেয়েছেন ২৩ ভোট আর এজিএস পদপ্রার্থী কাউসার আহাম্মেদ পেয়েছেন ৫৭ ভোট।

সলিমুল্লাহ মুসলিম হলে ছাত্রদলের ভিপি পদপ্রার্থী নাহিদুজ্জামান পেয়েছেন ১০৪ ভোট, জিএস পদপ্রার্থী আল-আমিন পেয়েছেন ১২৮ ভোট আর এজিএস পদপ্রার্থী জুবায়ের আহাম্মেদ পেয়েছেন ১৯১ ভোট।

সার্জেন্ট জহুরুল হক হলের ভিপি পদপ্রার্থী আব্দুল্লাহ আল মামুন পেয়েছেন ১৬০ ভোট, জিএস পদপ্রার্থী ফেরদৌস আলম পেয়েছেন ৪৪ ভোট আর এজিএস পদপ্রার্থী মোহাম্মদ ইকরাম খান পেয়েছেন ৭২ ভোট।

ফজলুল হক মুসলিম হলের ভিপি পদপ্রার্থী মাসুম বিল্লাহ পেয়েছেন ৪২ ভোট, জিএস পদপ্রার্থী নূর আলম ভূইয়া পেয়েছেন ৯২ ভোট।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা