kalerkantho

শনিবার । ২৫ মে ২০১৯। ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬। ১৯ রমজান ১৪৪০

মাসুদ উদ্দিন যেভাবে লাঙল পেলেন

আবদুল্লাহ আল মামুন   

১৬ নভেম্বর, ২০১৮ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



মাসুদ উদ্দিন যেভাবে লাঙল পেলেন

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন করার জন্য প্রথমে আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেন তিনি। পরে গত সোমবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে গণভবনে গিয়ে সাক্ষাৎও করেন। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী তাঁকে জানিয়ে দেন, নৌকা প্রতীক দেওয়া সম্ভব নয়। তিনি এক-এগারোর সময়কার প্রভাবশালী সেনা কর্মকর্তা লে. জেনারেল (অব.) মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী। সরকারি দলের সংসদ সদস্য প্রাথী হিসেবে ফেনী-৩ (দাগনভূঞা-সোনাগাজী) আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার প্রস্তুতি নিয়েছিলেন তিনি।

গণভবনসংশ্লিষ্ট সূত্র কালের কণ্ঠকে জানায়, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সাবেক সেনা কর্মকর্তা ও অস্ট্রেলিয়ায় বাংলাদেশের সাবেক হাইকমিশনার মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীকে বলেছেন তাঁকে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন দেওয়া সম্ভব নয়। তবে তিনি যাতে এমপি হতে পারেন, সে ব্যবস্থা করা হবে। জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান, সাবেক রাষ্ট্রপতি এইচ এম এরশাদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পরামর্শ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা তাঁকে বলেন, ‘উনাকে বলে দিচ্ছি, আপনাকে মহাজোটের প্রার্থী করা হবে।’ এরপর গত বুধবার লোক মারফত জাপা চেয়ারম্যানের বনানী কার্যালয় থেকে জাতীয় পার্টির মনোনয়ন ফরম কেনেন এক-এগারোর প্রভাবশালী সাবেক এই সেনা কর্মকর্তা।

জানতে চাইলে লে. জেনারেল (অব.) মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী গতকাল বৃহস্পতিবার কালের কণ্ঠকে জানান, তিনি গত ১২ নভেম্বর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে দেখা করেছেন। তাঁরা একান্তে কথা বলেন বলেও জানান তিনি। আমরা জানতে পেরেছি, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আপনাকে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান এইচ এম এরশাদের সঙ্গে যোগাযোগের পরামর্শ দিয়েছেন—এমন প্রশ্ন করা হলে কোনো জবাব না দিয়ে নীরব থাকেন মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী। 

এদিকে লে. জেনারেল (অব.) মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীকে জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার সাবেক রাষ্ট্রপতি ও জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ গঠনতন্ত্রের ২০/১/ক ধারা মোতাবেক মাসুদ চৌধুরীকে প্রেসিডিয়াম সদস্য হিসেবে নিয়োগ দেন। একই সঙ্গে তিনি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের প্রতিরক্ষাবিষয়ক উপদেষ্টা হিসেবেও দায়িত্ব পালন করবেন, যা এরই মধ্যে কার্যকর হয়েছে।

২০০৪ সালে বিএনপি সরকার সংবিধান সংশোধন করে সাবেক প্রধান বিচারপতি কে এম হাসানকে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান করতে চাইলে তৎকালীন বিরোধী দল আওয়ামী লীগসহ অন্য বিরোধী দলগুলো তীব্র আন্দোলন গড়ে তোলে। এই অবস্থায় জনমত উপেক্ষা করে রাষ্ট্রপতি ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদ নিজেকে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান ঘোষণা দিয়ে উপদেষ্টাদের নিয়োগ করে ২০০৭ সালের ২২ জানুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তারিখ নির্ধারণ করেন। ওই বছর ৩ জানুয়ারি নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দেয় আওয়ামী লীগসহ সম্মিলিত বিরোধী দল। তারা তীব্র আন্দোলন গড়ে তুললে ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদের সরকার দমন-পীড়ন শুরু করে। নৈরাজ্যকর পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে ওই সময় দেশে জরুরি অবস্থা জারি করে সশস্ত্র বাহিনী। ফখরুদ্দীন আহমদের কাছে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দায়িত্ব হস্তান্তর করেন রাষ্ট্রপতি ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদ। সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার ক্ষমতা নিয়ে এক কোটি ২০ লাখ ভুয়া ভোটার তালিকা সংশোধন ও দেশকে নৈরাজ্যকর অবস্থা থেকে স্থিতিশীল অবস্থায় ফিরিয়ে নিয়ে যায়। তখন সেনাবাহিনীর ৯ ডিভিশনের (সাভার) জিওসি ছিলেন মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী। বলা হয়, তাঁর সাহসী ভূমিকায় ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদের তত্ত্বাবধায়ক সরকার উত্খাত হয়। পরবর্তী সময়ে ফখরুদ্দীন আহমেদের নেতৃত্বাধীন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়ে গুরুতর অপরাধ দমনসংক্রান্ত জাতীয় কমিটির প্রধান সমন্বয়কারীর দায়িত্ব পালন করেন মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী। সেনা সমর্থিত ওই তত্ত্বাবধায়ক সরকারের নেতৃত্বে সুষ্ঠু নির্বাচন হলে ক্ষমতায় আসে আওয়ামী লীগ। পরে মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীকে অস্ট্রেলিয়ায় বাংলাদেশ দূতাবাসের হাইকমিশনারের দায়িত্ব দেওয়া হয়।

ফেনী-৩ আসনের বর্তমান স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য হাজী রহিমউল্লাহ। ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে এ আসনে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোটের প্রার্থী ছিলেন রিন্টু আনোয়ার। জাতীয় পার্টিকে আসনটি ছেড়ে দেওয়ায় আওয়ামী লীগের কোনো প্রার্থী নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেননি। হাজী রহিমউল্লাহ মহাজোটের প্রার্থী রিন্টু আনোয়ারকে পরাজিত করে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।

 

মন্তব্য