kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ২৩ মে ২০১৯। ৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬। ১৭ রমজান ১৪৪০

ওয়েস্ট ইন্ডিজের সঙ্গে মাশরাফির খেলা নিয়ে সংশয়

ক্রীড়া প্রতিবেদক   

১৬ নভেম্বর, ২০১৮ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ওয়েস্ট ইন্ডিজের সঙ্গে মাশরাফির খেলা নিয়ে সংশয়

ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে মাশরাফি বিন মর্তুজা ওয়ানডে সিরিজ খেলবেন কি না, এই মুহূর্তে তা অবান্তর কোনো প্রশ্ন নয়। যেহেতু আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে প্রার্থী হতে নড়াইল-২ আসন থেকে আওয়ামী লীগের মনোনয়নপত্র তুলেছেন বাংলাদেশের ওয়ানডে অধিনায়ক, তাই স্বাভাবিকভাবেই উঠছে প্রশ্নটি। কারণ ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচন সামনে রেখে প্রার্থীদের নিজ এলাকায় গণসংযোগের ব্যাপারও আছে। এলাকায় সময় দিতে গেলে খেলায় অংশগ্রহণ বিঘ্নিত হওয়াও তাই বিচিত্র নয়।

যে ব্যাপারটি খুব ভালো করেই জানা বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) সভাপতি নাজমুল হাসানেরও। যিনি নিজেও আগে নির্বাচন করেছেন, করতে চলেছেন এবারও। তাই ক্যারিবীয়দের বিপক্ষে সিরিজে মাশরাফিকে পাওয়া যাবে কি যাবে না, তা নিয়ে প্রশ্নের মুখে তিনি নিজেও নিশ্চিত করে বলতে পারলেন না কিছু। গতকাল বাংলাদেশ-জিম্বাবুয়ের মিরপুর টেস্টের পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানের পর সংবাদমাধ্যমকে নাজমুল বলেছেন, ‘এটা তো কঠিন প্রশ্ন (ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজে মাশরাফিকে পাওয়া যাবে কি না)। কিন্তু বিশ্বকাপে পাওয়া যাবে, আমি যতটুকু জানি। ওর নির্বাচনের ইস্যু যেটা হচ্ছে, টাইমিং যদি দেখেন, ওর নমিনেশন পেপার সাবমিট করার তারিখ আছে। কবে ফরম পূরণ করবে, ওর ওখানে কী প্রগ্রাম করবে, আমি কিছু জানি না। আজকে ওর সঙ্গে আমার দেখা হবে মনে হয়। সম্ভাবনা আছে দেখা হওয়ার। যদি সুযোগ থাকে, অবশ্যই খেলবে (ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজে)। এটা আমার ধারণা। যদি এক দিনের জন্যও সুযোগ থাকে, অবশ্যই খেলবে। খেলাটা ওর কাছে সবচেয়ে বেশি প্রাধান্য পাবে।’

নির্বাচনী ব্যস্ততায় ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ৯, ১১ ও ১৪ ডিসেম্বরের ওয়ানডে তিনটি আদৌ মাশরাফির পক্ষে খেলা সম্ভব হবে কি না, সে প্রশ্নের উত্তর জানার জন্য আপাতত অপেক্ষায় থাকতেই হচ্ছে। তবে আওয়ামী লীগের মনোনয়নপত্র তোলার পর থেকেই মাশরাফিকে ঘিরে সাধারণ মানুষের বিভক্তিও স্পষ্ট হয়ে উঠছে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে। খেলা ছাড়ার আগেই তাঁর রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়ার ব্যাপারটি ভালো চোখে দেখছেন না অনেকেই। তবে বিসিবি সভাপতি এ ক্ষেত্রে কোনো সমস্যা দেখছেন না। তাঁর ভাষায়, ‘‘এটা (সমস্যা) আমি মনে করি না। সাকিবও (নির্বাচন) করতে চেয়েছিল। কিন্তু সে আরো চার-পাঁচ বছর খেলবে বলে আমরা মনে করি। এসব চিন্তা করে সাকিবকে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ‘তুমি এখন খেলো।’ কিন্তু মাশরাফির ব্যাপারটি একটু ভিন্ন। ও কত দিন খেলবে, আমরা এখনো নিশ্চিত নই। যে শারীরিক অবস্থায় খেলছে, এটাই তো অনেক। এখনো যে খেলছে, ও কিন্তু খেলোয়াড় হিসেবে খেলে না। অধিনায়ক হিসেবে মূলত আমাদের দলে রয়েছে। অধিনায়কত্বটাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ। কারণ ওর মতো অধিনায়ক আমরা আর পাচ্ছি না, পাব বলেও মনে হয় না।’’

ইংল্যান্ডে ২০১৯-এর বিশ্বকাপ খেলেই মাশরাফির অবসরে যাওয়ার ভাবনার কথাও এখন সাধারণ্যে অজানা নয়। সেই দৃষ্টিকোণ থেকে দেখলে মাশরাফির রাজনীতিতে জড়ানোর সিদ্ধান্তে যুক্তিও খুঁজে পাচ্ছেন বিসিবি সভাপতি, ‘সে হয়তো বিশ্বকাপের পরে অবসর নিতে চাইবে।

এটাই যদি হয়, তাহলে তো কয়েকটি মাসের ব্যাপার। যদি তা-ই হয়, এর চেয়ে ভালো প্রস্থান পরিকল্পনা আর হতে পারে না যে এখান (ক্রিকেট) থেকে গিয়ে রাজনীতিতে যাবে। ছয় মাস পর অবসর নিলে সে কী করবে পরের সাড়ে চার বছরে? এখন অন্তত আরেকটি লাইনে থাকল। এটা দিয়ে বরং সে ক্রীড়াক্ষেত্রে আরো জোরালোভাবে অবদান রাখতে পারবে। এটাই আমার বিশ্বাস।’

 

মন্তব্য