kalerkantho

বুধবার । ২২ মে ২০১৯। ৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬। ১৬ রমজান ১৪৪০

স্বস্তির জয়ে ট্রফি ভাগাভাগির অস্বস্তি

মাসুদ পারভেজ   

১৬ নভেম্বর, ২০১৮ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



স্বস্তির জয়ে ট্রফি ভাগাভাগির অস্বস্তি

মেহেদী হাসান নেন ৫ উইকেট। ছবি : লুৎফর রহমান

কাছাকাছি সময়ের মধ্যেই আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ১০ হাজার রানের মাইলফলক পেরিয়েছেন তাঁরা তিনজন। বাংলাদেশ-জিম্বাবুয়ে টেস্ট সিরিজের পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানেই তাঁদের আলাদাভাবে তাই সম্মানিত করার উদ্যোগ নিয়েছিল বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। ব্যক্তিগত কাজে সাকিব আল হাসান অনুপস্থিত থাকলেও তামিম ইকবাল এসে ম্যাচসেরা মুশফিকুর রহিমের সঙ্গে সেই সম্মাননার ব্লেজার নিলেন। সেই সঙ্গে পেলেন সোনাখচিত ক্রেস্টও।

সোনাখচিত না হলেও টেস্ট সিরিজের ট্রফিও সোনালি রঙেরই। সিলেটে হেরে আসায় মিরপুরে ২১৮ রানে জিতেও তাই সেই ট্রফিতে একক অধিকার ছিল না বাংলাদেশ অধিনায়ক মাহমুদ উল্লাহর। সেটি ভাগাভাগি করতে হলো জিম্বাবুয়ের অধিনায়ক হ্যামিল্টন মাসাকাদজার সঙ্গে। একটু পরে সংবাদ সম্মেলনে সেই ভাগাভাগির প্রসঙ্গ তুলে যেন মাহমুদ উল্লাহর আফসোস আরো উসকেই দিলেন প্রশ্নকর্তা, ‘প্রথম টেস্টে (সিলেটে) আমরা খুব বাজে ক্রিকেট খেলেছি। শুরু থেকে দুটি ম্যাচই জেতার লক্ষ্য ছিল আমাদের। সব সময় চাই, নিজেদের কন্ডিশনের সুবিধা কাজে লাগিয়ে যেন আমরা সিরিজ জিততে পারি। সেদিক থেকে বললে ট্রফিটা শেয়ার করতে খুবই খারাপ লেগেছে।’

সে জন্যই পঞ্চম দিনের চা বিরতির আগেই জয় নিশ্চিত করেও উদ্যাপনের ছবি দেখা গেল না। যা দেখা গেল, সেটি চোখে-মুখে স্বস্তির ছাপ। সেটিই বরং স্বাভাবিক। সিলেটের অপ্রত্যাশিত হারে দেয়ালে পিঠ ঠেকা অবস্থায় ঢাকায় ফেরা দলের জয়ের বিকল্প ছিল না। ২১৮ রানের জয়টি টেস্টে রানের হিসাবে বাংলাদেশের দ্বিতীয় সবচেয়ে বড় জয়। সবচেয়ে বড় জয়ও এই জিম্বাবুয়ের বিপক্ষেই। ২২৬ রানের সেই জয়টি ২০০৫ সালে চট্টগ্রামে। যেটি আবার টেস্ট ক্রিকেটে বাংলাদেশের প্রথম জয়ও।

প্রথম জয়ের নায়ক ছিলেন বাঁহাতি স্পিনার এনামুল হক জুনিয়র। এই জয়েও বোলিংয়ে স্পিনাররাই ছিলেন চালিকাশক্তি। প্রথম ইনিংসে বাঁহাতি স্পিনার তাইজুল ইসলাম নিয়েছিলেন ৫ উইকেট। দুই টেস্টে ১৮ উইকেট নিয়ে সিরিজসেরার পুরস্কারও তাঁর ভাগ্যেই লেখা ছিল। দ্বিতীয় ইনিংসে অবশ্য ক্যারিয়ারে পঞ্চমবারের মতো ৫ উইকেট নিয়ে জিম্বাবুয়েকে ২২৪ রানে গুটিয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় ভূমিকা মেহেদী হাসান মিরাজেরই।

৮ ম্যাচ পর বাংলাদেশের আরেকটি টেস্ট জয়ের পথে চিন্তার কারণ হয়ে থাকা ব্রেন্ডন টেলর-পিটার মুর জুটিও ভেঙেছেন ৩৮ রানে ৫ উইকেট নেওয়া এই অফস্পিনারই। সেটি ভাঙতেই স্বাগতিকদের জয় নিয়ে অনিশ্চয়তারও অবসান। যদিও যোগ্য সঙ্গীর অভাবে শেষ পর্যন্ত একাই লড়ে গেছেন এই টেস্টে জোড়া সেঞ্চুরি করা টেলর। জিম্বাবুয়ের প্রথম ব্যাটসম্যান হিসেবে এই নিয়ে দ্বিতীয়বার এক টেস্টে জোড়া সেঞ্চুরি করলেন তিনি। এর আগে ২০১৩ সালে হারারে টেস্টের দুই ইনিংসে সেঞ্চুরি করেছিলেন বাংলাদেশের বিপক্ষেই। প্রথম ইনিংসে ১১০ রান করা টেলর এবার ১৬৭ বলে ১০ বাউন্ডারিতে ১০৬ রান করে অপরাজিত ছিলেন।

কাইল জার্ভিসকে নিজের পঞ্চম শিকার বানিয়ে মিরাজ সফরকারীদের ইনিংসের ইতি টানার আরো আগেই অবশ্য লড়াইয়ে নিঃসঙ্গ হয়ে পড়েছিলেন টেলর। জিম্বাবুয়ে ৭৬ রানে ২ উইকেট নিয়ে শেষ দিন শুরুর পর স্বাগতিকদের প্রথম ব্রেক থ্রু অবশ্য দিয়েছেন মুস্তাফিজুর রহমান। দারুণ ডেলিভারিতে শন উইলিয়ামসকে (১৩) বোল্ড করাই এই টেস্টে ‘কাটার মাস্টার’-এর একমাত্র উইকেট হয়ে থেকেছে। এরপর সিকান্দার রাজাও (১২) তাইজুলকে ফিরতি ক্যাচ দিয়ে ফেরেন দ্রুতই। সেখান থেকে টেলর-মুরের ৬৬ রানের পার্টনারশিপে স্বাগতিক শিবিরে ছড়িয়ে পড়া দুশ্চিন্তার মুক্তি মিরাজের বলে। ডিফেন্স করতে গিয়ে মুরের (১৩) ব্যাটের কানায় লেগে উঠে যাওয়া ক্যাচ ইমরুল কায়েস শর্ট লেগে দ্বিতীয় প্রচেষ্টায় ধরতেই জয়ের চৌকাঠে পা দিয়ে ফেলে বাংলাদেশ।

সেটি পেরিয়ে স্বস্তির জয়ে অবশ্য ট্রফি ভাগাভাগির অস্বস্তিও মিশে থাকল!

মন্তব্য