kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ২০ জুন ২০১৯। ৬ আষাঢ় ১৪২৬। ১৬ শাওয়াল ১৪৪০

‘ইউনিভার্স বস একজনই’

ক্রীড়া প্রতিবেদক   

১৩ ডিসেম্বর, ২০১৭ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



‘ইউনিভার্স বস একজনই’

অন্যদের সঙ্গে তাঁর পার্থক্যটা এভাবেই ব্যাখ্যা করছিলেন মাশরাফি বিন মর্তুজা, ‘অন্য ব্যাটসম্যানদের ওভারে ১২ রান তুলতেও কষ্ট হয়। আর গেইলের ক্ষেত্রে মাথাটা তুলে ব্যাটটা একটু নড়ালেই হয়।’ এমন আয়েশেই ব্যাট চালিয়ে ছক্কার পর ছক্কা মারেন ক্রিস গেইল।

স্বঘোষিত ‘ইউনিভার্স বস’ বিপিএল ফাইনালেও মারলেন তেমনই একেকটি ছক্কা। তাতে খড়কুটোর মতো ঢাকা ডায়নামাইটসকে উড়িয়ে প্রথমবারের মতো রংপুর রাইডার্সের মাথায়ও উঠল শ্রেষ্ঠত্বের মুকুট। এলিমিনেটর ম্যাচে আরেকটি খুনে সেঞ্চুরিতে খুলনা টাইটানসকে একাই বিদায় করা

 এই জ্যামাইকান ফাইনালে খেললেন ৬৯ বলে অপরাজিত ১৪৬ রানের ইনিংস। ম্যাচ-ভাগ্য গড়ে দেওয়া এমন দুটো দানবীয় ইনিংসের পর বিপিএলের সম্ভাব্য সব পুরস্কারই প্রায় তাঁর নামে বরাদ্দ হয়ে গেল।

১১ ম্যাচে দুটো করে ফিফটি আর সেঞ্চুরিতে ৫৩.৮৮ গড়ে টুর্নামেন্ট সর্বোচ্চ ৪৮৫ রান তাঁর। ফাইনাল তো বটেই, জিতলেন টুর্নামেন্ট সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কারও। রংপুরকে কানায় কানায় ভরিয়ে দেওয়া ব্যাটিং করার পথে কালকের ফাইনালে করেছেন আরেকটি সেঞ্চুরিও। সেটি বিপিএলে ছক্কার সেঞ্চুরি। ৬২ ম্যাচ খেলে বিপিএল ইতিহাসের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৪৭ ছক্কা যেখানে সাব্বির রহমানের, সেখানে মাত্র ২২ ম্যাচেই নিজের মারা ছক্কার সংখ্যা ১০৭-এ তুলে নিলেন টি-টোয়েন্টির ‘কিং’।

যে রাজার রাজত্বে হানা দেওয়ার সক্ষমতা এই মুহূর্তে আর কারো আছে কিনা, ম্যাচ-পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে সেই প্রশ্ন তুললেন একজন। জবাবটা দিলেন হাসতে হাসতেই, ‘না, না, না...ইউনিভার্স বস কেবল একজনই আছে।’ সঙ্গে জুড়ে দিলেন এ কথাও, ‘(এভিন) লুইস তৈরি হচ্ছে। ওর থেকে সাবধান।’ যদিও তাঁর থেকে সাবধান থাকার সব চেষ্টাই ব্যর্থ ঢাকা ডায়নামাইটসের। টি-টোয়েন্টি ইতিহাসে এক ম্যাচে সর্বোচ্চ ১৮ ছক্কা হাঁকালেন কাল। অথচ এতগুলো ছক্কা মেরে ফেলার ব্যাপারটি নাকি তাঁর জানাই ছিল না।

প্রশ্নকর্তাকে তাই পাল্টা প্রশ্ন, ‘কয়টি? ৮টি নাকি ১৮টি? আমি কিন্তু এটা জানতামই না।’ তাঁর ছক্কা মারার ঐশ্বরিক ক্ষমতাই হয়ে গেছে টি-টোয়েন্টি ব্যাটিং বিনোদনের শেষ কথাও। যে জন্য তাঁকে ‘টি-টোয়েন্টির ব্র্যাডম্যান’ বললেও বাড়িয়ে বলা হয় না। তিনি নিজেও তাই মনে করেন কি না, এমন প্রশ্নে রসিকতা করার সুযোগও হাতছাড়া করলেন না, ‘আমি তো সর্বকালেরই সেরা খেলোয়াড়।’ সব ফরম্যাটে না হোন, টি-টোয়েন্টিতে তো অবশ্যই।

এই ফরম্যাটেই হয়ে গেছে তাঁর ২০টি সেঞ্চুরি। এর মধ্যে কালকের অপরাজিত ১৪৬ রানের ইনিংসটি এ কারণেই তাঁর সেরা পাঁচে থাকছে, ‘আমাকে তো বিবেচনা করতে হবে যে কোথায় এটা করলাম। বিশেষ করে বড় এক উপলক্ষেই এই সেঞ্চুরিটা করলাম। কাজেই আমি এটাকে সেরা পাঁচেই রাখব।’ আর সেরা? সেটি অবশ্যই ২০১৩ সালের আইপিএলে বেঙ্গালুরু রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্সের হয়ে পুনে ওয়ারিয়র্সের বিপক্ষে খেলা ১৭৫ রানের ইনিংসটি, ‘১৭৫ রানের ইনিংসটা অবশ্যই বিশেষ, কারণ ওটা টি-টোয়েন্টির সর্বোচ্চ।’

এই ফরম্যাটে কালই প্রথম ব্যাটসম্যান হিসেবে ১১ হাজার রানের মাইলফলক পেরিয়ে যাওয়া গেইলের নামের পাশে শত শত ছক্কা। সেই সঙ্গে আরো কত রেকর্ডও। নিজেকে কোন উচ্চতায় নিয়ে যেতে চান তিনি? এমন প্রশ্নের জবাবে বললেন, ‘১১ হাজার রান দারুণ একটা অর্জন। সত্যি কথা বললে মানুষের জন্যই আমি এমন ব্যাটিং করি। এখন বয়স ৩৮। আমার কাছে লোকে এ রকম ব্যাটিংই দেখতে চায়। যত দিন সম্ভব মানুষকে এই ব্যাটিং বিনোদন দিয়ে যেতে চাই। সেই সঙ্গে যে দলের হয়েই খেলি না কেন, তাদের কাপ জেতাতে চাই।’

যেমন জেতালেন রংপুরকে। আসল সময়ে জ্বলে উঠতে পারা নিয়েও তাঁর সন্তুষ্টি কম নয়, “এটা ছিল বড় ম্যাচ, বড় উপলক্ষ। এই সময়ে দাঁড়িয়ে যাওয়া এবং সেঞ্চুরি করা, পেছন ফিরে তাকালে নিজেকে ‘ওয়েলডান’ই বলতে হয়। দলকে জেতাতে পেরেছি বলে ইনিংসটি আরো বিশেষ হয়ে গেছে।” ঠিক সময়ে জ্বলে ওঠাকেও দিলেন সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব, ‘টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্টে ঠিক সময়ে ঝলসে উঠতে পারাটাই হলো আসল কথা। যখন সবচেয়ে বেশি দরকার ছিল, সেই সময়েই ছেলেরা ফর্মে ফিরেছে। ম্যাশও দলটিকে সামলেছে দারুণ। বোলাররাও দুর্দান্ত করেছে। ছেলেরাও এই ট্রফির জন্য ক্ষুধার্ত ছিল খুব।’

এলিমিনেটর ম্যাচের পর ফাইনালেও তাঁর ব্যাটিং বলে দিচ্ছে সবচেয়ে বেশি ক্ষুধার্ত ছিলেন আসলে ‘ইউনিভার্স বস’ই। যিনি কেবল একজনই! 

মন্তব্য