kalerkantho

সোমবার। ১৭ জুন ২০১৯। ৩ আষাঢ় ১৪২৬। ১৩ শাওয়াল ১৪৪০

আবারও গভীর উদ্বেগ যুক্তরাষ্ট্রের

মিয়ানমারকে সহিংসতা বন্ধের তাগিদ ভারতের

কূটনৈতিক প্রতিবেদক   

১০ সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



মিয়ানমারকে সহিংসতা বন্ধের তাগিদ ভারতের

মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের পরিস্থিতি এবং ওই অঞ্চল থেকে বহির্মুখী ‘শরণার্থী’র ঢলে গভীর উদ্বেগ জানিয়ে আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দিয়েছে ভারত। বিবৃতিতে ‘বেসামরিক জনগোষ্ঠী’র কল্যাণের দিকে দৃষ্টি দিয়ে সংযম ও পরিপক্বতার সঙ্গে পরিস্থিতি সামাল দিতে মিয়ানমারের প্রতি তাগিদ দেওয়া হয়েছে। গতকাল শনিবার ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ওই বিবৃতি দেয়। রাখাইনে নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযান নিয়ে বৈশ্বিক সমালোচনার মধ্যে গত সপ্তাহে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি মিয়ানমারের রাজধানী নেপিডো সফর করেন। সফর শেষে গতকাল ভারতের এই বিবৃতির মধ্য দিয়ে রাখাইন ইস্যুতে ভারতের অবস্থান স্পষ্ট হলো।

কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানায়, বিবৃতিতে ভারত রাখাইনে নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর সন্ত্রাসী হামলার নিন্দা জানিয়েছে, পাশাপাশি নিপীড়িত রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর প্রসঙ্গও ‘বেসামরিক জনগোষ্ঠী’ শব্দগুচ্ছের মাধ্যমে তুলে ধরেছে।

ভারতের গতকালের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ভারত ও মিয়ানমার এর আগে রাখাইনে সন্ত্রাসী হামলার নিন্দা জানিয়েছিল। সন্ত্রাস মোকাবেলায় দুই দেশের অভিন্ন লক্ষ্য এবং কোনো যুক্তিতেই সন্ত্রাসকে প্রশ্রয় না দেওয়ার ব্যাপারে ঐকমত্য আছে। প্রধানমন্ত্রী মোদি তাঁর মিয়ানমার সফরে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের পাশাপাশি অন্য নিরপরাধ ব্যক্তিদের প্রাণহানিতেও উদ্বেগ জানিয়েছিলেন। তিনি শান্তি, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি, ন্যায়বিচার, সম্মান ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের জন্য সমাধানভিত্তিক প্রচেষ্টা চালাতে মিয়ানমারকে আহ্বান জানিয়েছিলেন।

ভারত জানায়, রাখাইন রাজ্য উন্নয়ন কর্মসূচির আওতায় মিয়ানমার সরকারের সঙ্গে মিলে ভারত সেখানে সহযোগিতা দেবে বলেও প্রধানমন্ত্রী মোদির সফরে সিদ্ধান্ত হয়েছে।

বিবৃতিতে ভারত আরো বলেছে, ‘নিরাপত্তা বাহিনীর পাশাপাশি বেসামরিক জনগণের কল্যাণের ওপর গুরুত্ব দিয়ে সংযম ও দক্ষতার সঙ্গে রাখাইন রাজ্য পরিস্থিতি সামাল দিতে আমরা আহ্বান জানাই। রাখাইন রাজ্যে অবিলম্বে সংঘাত বন্ধ ও স্বাভাবিকতা ফিরে আসা অপরিহার্য।’

গভীর উদ্বেগ যুক্তরাষ্ট্রের : এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র হিদার নুয়ার্ট গত রাতে এক বিবৃতিতে গত ২৫ আগস্ট থেকে মিয়ানমারের অন্তত দুই লাখ রোহিঙ্গার বাংলাদেশে প্রবেশের খবরে গভীর উদ্বেগ জানিয়েছেন। জাতিসংঘের তথ্যের বরাত দিয়ে তিনি বলেন, মিয়ানমারে সহিংস হামলা ও গ্রামের পর গ্রাম জ্বালিয়ে দেওয়াসহ ব্যাপক মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগের মধ্যে ওই রোহিঙ্গারা বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে।

বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের জরুরি সহায়তা দিতে যুক্তরাষ্ট্র জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা, আন্তর্জাতিক রেড ক্রস কমিটি ও আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থাসহ অন্য অংশীদারদের সঙ্গে নিবিড়ভাবে সমন্বয় অব্যাহত রেখেছে। গত বছর অক্টোবর থেকে যুক্তরাষ্ট্র মিয়ানমারের ভেতরে ও বাইরে ঝুঁকিতে থাকা জনগোষ্ঠীর জন্য প্রায় ছয় কোটি ৩০ লাখ ডলার দিয়েছে। এই মানবিক সংকট মোকাবেলায় মহানুভবতার জন্য যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের প্রশংসা করছে। রোহিঙ্গাদের জন্য সহায়তা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশের প্রচেষ্টারও প্রশংসা করছে যুক্তরাষ্ট্র।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা