kalerkantho

বুধবার । ২৬ জুন ২০১৯। ১২ আষাঢ় ১৪২৬। ২৩ শাওয়াল ১৪৪০

বাংলাদেশ প্রতিদিন ও নিউজটোয়েন্টিফোরের গোলটেবিল

মিয়ানমারের ওপর বৈশ্বিক চাপ বাড়াতে তৎপরতার পরামর্শ

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১০ সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ০০:০০ | পড়া যাবে ৯ মিনিটে



মিয়ানমারের ওপর বৈশ্বিক চাপ বাড়াতে তৎপরতার পরামর্শ

রোহিঙ্গা সংকট মোকাবেলায় মিয়ানমারের ওপর আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের চাপ বাড়াতে নিজস্ব কূটনৈতিক তৎপরতার বাইরেও রাজনীতিবিদ, সুধীসমাজ এবং বাংলাদেশে নিযুক্ত বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত ও হাইকমিশনারদের ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছেন বিশ্লেষকরা।

বিশ্লেষকরা বলছেন, জরুরি ভিত্তিতে একটি দক্ষ রাজনৈতিক প্রতিনিধিদলকে চীনে পাঠিয়ে দেশটির শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে এ বিষয়ে আলোচনার উদ্যোগ নিতে হবে।

বাংলাদেশের কৌশলগত মিত্র হওয়া সত্ত্বেও মিয়ানমারের পক্ষে ভারতের অবস্থান নেওয়ার প্রসঙ্গে তাঁরা বলেন, ভারতের মনোভাব পরিবর্তনে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। এরই মধ্যে যেসব দেশ বাংলাদেশের পাশে এসে দাঁড়িয়েছে তাদের সঙ্গে নিয়ে অন্যান্য দেশের সমর্থন আদায়ে সর্বোচ্চ তৎপরতা চালাতে হবে।

‘রোহিঙ্গা সংকটের শেষ কোথায়’ শিরোনামে আয়োজিত গোলটেবিল আলোচনায় বিশ্লেষকরা এ মত দেন। গতকাল শনিবার রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় ইস্ট ওয়েস্ট মিডিয়া গ্রুপ লিমিটেড (ইডাব্লিউএমজিএল) কনফারেন্স রুমে বাংলাদেশ প্রতিদিন ও নিউজটোয়েন্টিফোর এ আলোচনাসভার আয়োজন করে।

বক্তারা আরো বলেন, বিমসটেক ও আসিয়ানের বৈঠক আয়োজনের মাধ্যমে মিয়ানমারের ওপর আঞ্চলিক চাপ বাড়াতে হবে। আর এসব করতে হবে খুবই অল্প সময়ের মধ্যে, জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশন শুরুর আগেই। জাতিসংঘের সমর্থন নিয়ে কফি আনান কমিশনের প্রতিবেদনের সুপারিশ বাস্তবায়নে কার্যকর ভূমিকা রাখতে হবে। তাহলেই নির্যাতিত রোহিঙ্গারা নিজ ভূখণ্ডে ফিরে যেতে পারবে, এ সংকটের সমাধান হবে। অন্যথায় বাংলাদেশে আসা রোহিঙ্গা উদ্বাস্তুদের ফেরত নেবে না মিয়ানমার।  

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক এ কে আজাদ চৌধুরী বলেন, ভারত ও চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের কৌশলগত বন্ধুত্বের সম্পর্ক থাকা সত্ত্বেও রোহিঙ্গা ইস্যুতে তারা মিয়ানমারের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। দেশ দুটির মনোভাব পরিবর্তনে উদ্যোগ নিতে হবে। প্রয়োজনে চীনে উচ্চপর্যায়ের একটি প্রতিনিধিদল পাঠানো জরুরি। এ ছাড়া কূটনৈতিক তৎপরতা বাড়াতে হবে। ঢাকায় থাকা সব দেশের কূটনীতিকদের কাছে মিয়ানমারের ধ্বংসযজ্ঞ তুলে ধরে রোহিঙ্গাদের ফেরত নিতে চাপ সৃষ্টির উদ্যোগ নেওয়াও খুবই জরুরি। তিনি বলেন, চীন, মিয়ানমার, বাংলাদেশ—সবাই বিমসটেকের সদস্য। তাই এ সংস্থার জরুরি বৈঠক আয়োজনের উদ্যোগ নিয়ে সেখানে আলোচনা করতে হবে। বাংলাদেশ আসিয়ানের সদস্য না হওয়ায় মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়ার মাধ্যমে আসিয়ানের জরুরি বৈঠক আয়োজন করিয়ে সেখানেও এ বিষয়ে আলোচনা করাতে হবে। তাঁর মতে, রোহিঙ্গা সংকট সমাধানযোগ্য। তবে এ সংকট দীর্ঘকাল থাকার আশঙ্কা আছে। বাংলাদেশের চেষ্টা করতে হবে যত দ্রুত সম্ভব কফি আনান কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়নের মাধ্যমে এ সংকট সমাধানে উদ্যোগ অব্যাহত রাখা।

সংসদ সদস্য মইন উদ্দীন খান বাদল বলেন, রোহিঙ্গা সংকটের একমাত্র সমাধান মিয়ানমারের মধ্যে সেফ জোন (নিরাপদ অঞ্চল) গড়ে তোলা। কিন্তু ভারত ও চীন এ সমস্যার সমাধান করতে দেবে না। তারা অর্থনৈতিক স্বার্থে মিয়ানমার পরিচালিত জাতিগত নিধন সমর্থন করছে। সে কারণেই ইন্দোনেয়িশয়ার বালিতে যৌথ ঘোষণার বিরোধিতা করেছে ভারত। মিয়ানমার বাংলাদেশ সীমান্ত পর্যন্ত বৌদ্ধদের আবাস গড়ে তোলার চেষ্টা করছে। রোহিঙ্গারা এক হাজারেরও বেশি বছর ধরে আরাকানে বসবাস করছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, মানবিকতার কারণে বাংলাদেশ তাদের যে আশ্রয় দিয়েছে, তা বিশ্বে প্রশংসিত হয়েছে। এখন তাদের জন্য সেফ জোন প্রতিষ্ঠা করে ফেরত পাঠাতে সব ধরনের উদ্যোগ নিতে হবে।

জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী জি এম কাদের বলেন, সামরিক ও অর্থনৈতিক স্বার্থের কারণে চীন ও ভারত মিয়ানমারের নিধনযজ্ঞের বিরুদ্ধে অবস্থান নিচ্ছে না। তাই দেশটি গণহত্যা চালানোর সুযোগ পাচ্ছে। এতে বাংলাদেশও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, ভবিষ্যতে এ ক্ষতি আরো বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। তিনি বলেন, মানবিক কারণে বাংলাদেশ যেসব রোহিঙ্গাকে জায়গা দিয়েছে, তাদের ফেরত নিতে মিয়ানমারকে বাধ্য করতে এরই মধ্যে যেসব দেশ বাংলাদেশের প্রতি সহানুভূতি জানিয়েছে, তাদের সঙ্গে নিয়ে অন্য যেসব দেশ এখনো বাংলাদেশকে সমর্থন দেয়নি, তাদের সমর্থনও আদায় করতে হবে। জাতিসংঘকে সঙ্গে নিয়ে আনান কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিতে হবে।

সাবেক পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আবুল হাসান চৌধুরী বলেন, মিয়ানমার হিটলারি কায়দায় গণহত্যা চালাচ্ছে, তাতে বাংলাদেশ ভয়াবহ সংকটে পড়েছে। বাংলাদেশ সব সময়ই ভারত, চীন ও মিয়ানমারের সঙ্গে সুসম্পর্ক চেয়েছে। কিন্তু আজ শুধু মিয়ানমার নয়, তার পেছনের শক্তিগুলোও এ গণহত্যায় সমর্থন দিচ্ছে। তাদের মনোভাব পরিবর্তনে জাতিসংঘের অধিবেশন শুরুর আগেই জরুরি ভিত্তিতে বিমসটেকের বৈঠক হওয়া দরকার। তিনি বলেন, ‘রোহিঙ্গা ইস্যুতে ভারতের অবস্থান দুঃখজনক। নরেন্দ্র মোদি মিয়ানমারে গেলেন; কিন্তু এ নির্যাতনের বিরুদ্ধে কিছু বললেন না। বালিতে একমাত্র রাষ্ট্র হিসেবে ভারত যৌথ ঘোষণায় স্বাক্ষর করেনি। রোহিঙ্গা নির্যাতন বিষয়ে বাংলাদেশ কেন ভারতের সমর্থন অর্জনের চেষ্টা করেনি। আর সে চেষ্টা করে থাকলে ভারত কেন মিয়ানমারের পক্ষে অবস্থান নিচ্ছে তা বাংলাদেশের জানা দরকার।’

আবুল হাসান বলেন, রোহিঙ্গা ইস্যুতে চীন, ভারত ও রাশিয়াকে বোঝাতে হবে। এ জন্য শুধু কূটনীতিকদের ওপর ভরসা না রেখে রাজনীতিবিদ, সুধীসমাজ বা অন্য যাঁরা এসব কাজে সফল হতে পারবেন, তাঁদের কাজে লাগাতে হবে। তিনি বলেন, ভারতকে বোঝাতে হবে জঙ্গি ইস্যুতে বাংলাদেশের উদ্বেগ কম নয়, তাদেরও গভীর উদ্বেগ আছে। খুবই দ্রুতগতিতে বাংলাদেশকে অনেক কিছু করতে হবে। এখনো বাংলাদেশে নিযুক্ত সব দেশের রাষ্ট্রদূতদের কাছে ঘটনা তুলে ধরা হয়নি। এসব জরুরি ভিত্তিতে করা না হলে বিশ্বের দৃষ্টি বেশিদিন থাকবে না।

সাবেক সচিব ও কূটনীতিক ইনাম আহমেদ চৌধুরী বলেন, রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে জাতীয় ঐক্য জরুরি। এ জন্য সর্বদলীয় সভা করে মিয়ানমারসহ সব দেশকে বোঝাতে হবে যে এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশের সবাই একমত। কূটনৈতিক দিক থেকেও বাংলাদেশকে আরো সক্রিয় হতে হবে। রোহিঙ্গাদের ওপর চলমান নির্যাতনকে ‘জাতিগত নিধন’ উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘ভারতের কাছ থেকে জানা উচিত তারা কেন বাংলাদেশের পক্ষে নেই। এ ক্ষেত্রে ভয়ের কিছু নেই। কারণ আমরা সত্যের পক্ষে। ভারতসহ বিশ্বকে বোঝাতে হবে আরাকান রোহিঙ্গাদের দেশ, ওদের মাটি। ওখানে ওদের থাকার অধিকার আছে।’

সাবেক পররাষ্ট্রসচিব ও কূটনীতিক ওয়ালিউর রহমান বলেন, ১৯৮৭-৮৮ সালে তিন লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশ থেকে ফেরত পাঠানো সম্ভব হয়েছিল ওআইসির শক্তিশালী ভূমিকার কারণে। তখন ওআইসির প্রভাব ছিল বিশ্বজুড়ে। এখন তা নেই। বাংলাদেশের প্রস্তাব অনুযায়ী মিয়ানমারে সেফ জোন প্রতিষ্ঠা সম্ভব হবে কি না, তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘সেফ জোন হয় সংশ্লিষ্ট দেশের সম্মতি সাপেক্ষে। মিয়ানমার রাজি না হলে সেফ জোন সম্ভব হবে না। আর মিয়ানমার রাজি হওয়ার অর্থই হলো তারা যে গণহত্যা চালাচ্ছে, সেটি স্বীকার করে নেওয়া। এ কারণেই মিয়ানমার সেফ জোন প্রতিষ্ঠায় রাজি হবে না। বরং আমাদের চেষ্টা করা উচিত চীনে একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল পাঠিয়ে দেশটির প্রেসিডেন্ট শি চিনপিংয়ের সঙ্গে আলোচনা করা। একমাত্র চীন এ সমস্যার সমাধান করতে পারে, রাশিয়া এখানে গুরুত্বপূর্ণ নয়।’

সুশাসনের জন্য নাগরিক—সুজনের সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার বলেন, এখনই কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া না হলে রোহিঙ্গা সংকট আরো জটিল হতে পারে, পরিস্থিতি বাংলাদেশের নিয়ন্ত্রণের বাইরেও চলে যেতে পারে। সিরিয়ার মতো দিন দিন এখানে বহুদেশ, বহুপক্ষ সম্পৃক্ত হওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে। তিনি বলেন, ‘রোহিঙ্গা সংকটে বাংলাদেশের পাশে যাদের থাকার কথা ছিল, তাদের পাচ্ছি না। ভারত নেই, সৌদি আরবও নীরব। এ অবস্থায় বিশ্ব জনমত, বিশ্ব গণমাধ্যম ও বুদ্ধিজীবীদের আরো প্রভাবিত করা দরকার। এ জন্য দেশের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের কাজে লাগাতে হবে। ড. মুহাম্মদ ইউনূসের পশ্চিমা বিশ্বে প্রভাব রয়েছে। সরকার তাঁকেও কাজে লাগাতে পারে।’

নিরাপত্তা বিশ্লেষক মেজর জেনারেল (অব.) আব্দুর রশিদ বলেন, বাংলাদেশ মানবিক কারণে রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়েছে। তবে এ জন্য অর্থনৈতিক, সামাজিক ও নিরাপত্তা ঝুঁকি বাড়বে। ঝুঁকি মোকাবেলায় অভ্যন্তরীণ প্রস্তুতি নিতে হবে। রোহিঙ্গা ইস্যুতে আন্তর্জাতিক বিশ্ব কাঙ্ক্ষিত মাত্রার বেশি সাড়া দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র কঠোর বার্তা দিয়েছে, ডেসমন্ড টুটু চিঠি পাঠিয়েছেন, কানাডাও প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে। এ ক্ষেত্রে সরকারের সফলতা আছে। তবে বাংলাদেশের কৌশলগত মিত্র ভারত ও চীন সে রকম সাড়া দেয়নি। তিনি বলেন, বাংলাদেশ মিয়ানমারের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক বজায় রেখেই এর সমাধান চায়। সে জন্যই সক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও বাংলাদেশে বারবার ঢুকে পড়া মিয়ানমারের হেলিকপ্টারকে ভূপাতিত করা হয়নি। এ ছাড়া আঞ্চলিক শক্তি, বিশ্ব সংস্থা ও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমকে সরকার প্রভাবিত করার চেষ্টা করছে। এ ক্ষেত্রে সরকার সফলও হচ্ছে। বাংলাদেশ এ সংকট মোকাবেলায় সক্ষম।

সাবেক মন্ত্রী বীরবিক্রম কর্নেল (অব.) জাফর ইমাম বলেন, মিয়ানমার কখনো রোহিঙ্গাদের ফেরত নেবে না। আর চীন, ভারতও তাদের সঙ্গেই থাকবে। রোহিঙ্গা নির্যাতনের ঘটনায় বিশ্বের অনেক দেশই সোচ্চার হচ্ছে, সে তুলনায় বাংলাদেশই কম সোচ্চার। ভারতের অবস্থানের সমালোচনা করে তিনি বলেন, বাংলাদেশ ভারতের চেয়ে অনেক বেশি অসাম্প্রদায়িক। বাংলাদেশে কোনো দাঙ্গা হয় না। ইসরায়েল বার্মিজ সন্ত্রাসীদের অস্ত্র ও প্রশিক্ষণ দিচ্ছে। ওদের দিয়ে কক্সবাজার, চট্টগ্রামসহ বাংলাদেশে সন্ত্রাসী কার্যক্রম চালাবে।

সাবেক কূটনীতিক নজরুল ইসলাম বলেন, ‘মিয়ানমারে দায়িত্ব পালনকালে তিক্ত অভিজ্ঞতা অর্জন করেছি। বৌদ্ধরা নিজেদের মধ্যে বলাবলি করত রাস্তায় যদি একটি সাপ ও একজন রোহিঙ্গাকে দেখো, তাহলে প্রথমে রোহিঙ্গাটিকে খুন করো, পরে সাপটিকে মারো।’ তিনি বলেন, আরাকানে রোহিঙ্গাদের আবাস হাজার বছর আগে থেকে। তবু তারা তাদের ইতিহাস ভুলে গণহত্যা চালাচ্ছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. জিনাত হুদা বলেন, রোহিঙ্গা সংকটের সমাধান শুরুতে। মিয়ানমার ১৯৮২ সালে নাগরিকত্ব আইন করার আগ পর্যন্ত তারা মিয়ানমারের নাগরিক ছিল। তাদের সেই নাগরিকত্ব ফিরিয়ে দিয়ে বাংলাদেশ থেকে নিয়ে যেতে হবে। এ জন্য বাংলাদেশের সব ধরনের প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখতে হবে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক ড. দেলোয়ার হোসেন বলেন, ১৯৮২ সালে নাগরিকত্ব আইন করার পর ১১ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গার মধ্যে মাত্র ১৩ হাজারকে নাগরিকত্ব দেওয়ার উপযুক্ত মনে করছে মিয়ানমার। তাদের এ আইনের বিরুদ্ধে বিশ্বব্যাপী জনমত গড়ে তুলতে হবে।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. মীজানুর রহমান বলেন, সেনাবাহিনী মোতায়েন করে বাংলাদেশে আসা রোহিঙ্গাদের নিবন্ধন করার পাশাপাশি তাদের একটি নির্দিষ্ট গণ্ডির মধ্যে রাখতে হবে, যাতে সারা দেশে ছড়িয়ে পড়তে না পারে।

বাংলাদেশ প্রতিদিন সম্পাদক নঈম নিজামের সঞ্চালনায় গোলটেবিল আলোচনায় আরো বক্তব্য দেন নিরাপত্তা বিশ্লেষক মেজর জেনারেল (অব.) মোহাম্মদ আলী সিকদার, বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতির সাধারণ সম্পাদক ড. জামাল উদ্দিন আহমেদ, নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. এম আহিদুজ্জামান, স্থপতি মোবাশ্বের হোসেন, সাবেক সংসদ সদস্য মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান, নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক মোবাশ্বার হাসান প্রমুখ।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা