kalerkantho

শুক্রবার । ২ ডিসেম্বর ২০২২ । ১৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ ।  ৭ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৪

যে ১১ তারকার মৃত্যু আজও মেনে নিতে পারেনি ভক্তরা

বিনোদন ডেস্ক   

৩ অক্টোবর, ২০২২ ১৬:০৬ | পড়া যাবে ৭ মিনিটে



যে ১১ তারকার মৃত্যু আজও মেনে নিতে পারেনি ভক্তরা

হিথ লেজার (বামে), পল ওয়াকার (মাঝে) ও মাইকেল জ্যাকসন (ডানে)

জন্মালে মরতে হবেই, এটাই সত্য। তবে সেই মৃত্যু গভীর ছাপ রেখে যায় প্রিয়জনদের মনে। প্রিয়জনের চলে যাওয়া মানুষের জীবনে সবচেয়ে বেদনাদায়ক আঘাত। তারকাদের ক্ষেত্রেও এমনই।

বিজ্ঞাপন

ভক্ত-অনুরাগীদের হৃদয়ে বাস করা তারকারা যখন পৃথিবীর মায়া ছেড়ে চলে যান, তখন তাঁদের শূন্যতা ভক্তদের হৃদয়ে হাহাকার তৈরি করে। পর্দায় নিজের উপস্থিতি দিয়ে হাসানো বা কাঁদানো মানুষটা, বাস্তবে নিজের বিদায়ের সঙ্গে লাখো ভক্তকে কান্নার জলে ভিজিয়ে যান, সেটা তিনি কখনো জানতেও পারেন না।  

এমনই ১১ জন তারকার মৃত্যু নিয়ে এই লেখাটি, যাঁদের মৃত্যু এখন পর্যন্ত মেনে নিতে পারেনি ভক্ত-অনুরাগীরা। এত অল্প সময়ে তাঁদের প্রস্থান ভক্তকুলে হাহাকার রেখে গেছে। নিজেদের কর্মের মধ্যেই সকলের হৃদয়ে আজও বেঁচে আছেন তাঁরা।  

প্রয়াত অভিনেতা হিথ লেজার

হিথ লেজার : হিথ লেজার, একজন জনপ্রিয় অস্ট্রেলিয়ান অভিনেতা। ‘জোকার’ নামেই বেশি পরিচিত তিনি। ‘দ্য ডার্ক নাইট’ সিনেমায় জোকারের চরিত্রে অবিশ্বাস্য অভিনয়ের জন্য তিনি এখনো বিখ্যাত। জোকার চরিত্রটিকে তিনি এমন এক পর্যায়ে উপস্থাপিত করেছেন, যা বিশ্বজুড়ে প্রশংসিত। তাঁর অনবদ্য অভিনয় সকলের মনে গভীর ছাপ রেখে গেছে।  চরিত্রটির জন্য অস্কার পুরস্কার পান এই অভিনেতা। তবে সেই পুরস্কার নিজের হাতে নিতে পারেননি তিনি। তার আগেই পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করেন লেজার।

‘জোকার’ চরিত্রে হিথ লেজার

দুর্ঘটনাজনিত ওষুধের অতিরিক্ত মাত্রার কারণে হিথ লেজারের জীবন অপ্রত্যাশিতভাবে শেষ হয়ে যায়। অনেকেই দাবি করেন, সিনেমা মুক্তির পরেও জোকার চরিত্রটি থেকে বের হতে পারেননি তিনি। তাই মানসিক অবসাদে পড়েই মাত্রাতিরিক্ত ওষুধ সেবন করেছেন এই অভিনেতা। তাঁর অত্যন্ত বিখ্যাত একটি সংলাপ হলো―‘আমি বিশ্বাস করি, যা আপনাকে হত্যা করে না, তা কেবল আপনাকে অচেনা করে তোলে!’ এবং আরেকটি বিখ্যাত সংলাপ―‘এত সিরিয়াস কেন?’ তাঁর এই সংলাপগুলো চিরকাল শ্রোতাদের স্মৃতিতে গেঁথে থাকবে।

পল ওয়াকার

পল ওয়াকার : বিশ্বখ্যাত হলিউড মুভি ‘ফাস্ট অ্যান্ড দ্য ফিউরিয়াস’-এর অভিনেতা, পল ওয়াকার ২০১৩ সালের ৩০ নভেম্বর গাড়ি বিস্ফোরণে মারা যান। ক্যালিফোর্নিয়ার সান্তা ক্লারিটাতে বিধ্বস্ত হওয়ার পর তাঁর গাড়িটিতে আগুন ধরে যায়। সেখানেই মারা যান এই জনপ্রিয় অভিনেতা। তিনি ফিলিপাইনের টাইফুনে ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য অর্থ সংগ্রহের জন্য তাঁর অলাভজনক সংস্থার মাধ্যমে একটি দাতব্য গাড়ি শোর সঞ্চালনা করছিলেন। তিনি তাঁর ঘনিষ্ঠ বন্ধু রজার রোডাসের সাথে পোর্শে ওঠার কয়েক মিনিটের মধ্যে তাঁদের গাড়িটি বিধ্বস্ত হয় এবং মর্মান্তিকভাবে ঘটনাস্থলেই তাঁদের দুজনের মৃত্যু হয়।

চ্যাডউইক বোসম্যান 

চ্যাডউইক বোসম্যান : ‘ব্ল্যাক প্যান্থার’ অভিনেতা তাঁর লস অ্যাঞ্জেলেসের বাড়িতে মারা যান। ২০২০ সালের আগস্টে পুরো চার বছর ধরে ক্যান্সারের সাথে লড়াই করার পরে তাঁর জীবনের সমাপ্তি ঘটে। বোসম্যানের পরিবার প্রকাশ করেছে যে তাঁর ২০১৬ সালে কোলন ক্যান্সার ধরা পড়েছিল। যখন তিনি এটির সাথে লড়াই করছিলেন, ক্যান্সার তখন চতুর্থ পর্যায়ে চলে গিয়েছিল। শেষ পর্যন্ত মৃত্যুর কাছে হার মানেন এই অভিনেতা।  

কোবে ব্রায়ান্ট

কোবে ব্রায়ান্ট : ১৮ বারের এনবিএ অলস্টার কোবে ব্রায়ান্ট ২০২০ সালের জানুয়ারিতে ক্যালিফোর্নিয়ার ক্যালাবাসাসে তাঁর হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হয়ে মারা যান। কোবে এবং জনপ্রিয় এলএ লেকার্স প্লেয়ার জিয়ানা, তাঁর ১৩ বছর বয়সী মেয়ে এবং আরো সাতজন লোক তাঁর ব্যক্তিগত জেটে ভ্রমণ করছিলেন। হঠাৎ দুর্ঘটনার কবলে পড়ে হেলিকপ্টারটি দ্রুত নিচে নেমে যায় এবং মাটিতে আছড়ে পড়ে। এতে আরোহীরা সবাই মারা যান।

কেলি প্রেস্টন

কেলি প্রেস্টন : বিখ্যাত অভিনেত্রী ও জন ট্রাভোল্টার স্ত্রী কেলি প্রেস্টন, ২০২০ সালের ১২ জুলাই মারা যান। পুরো দুই বছর ধরে গোপনে স্তন ক্যান্সারের সাথে লড়াই করার পর কেলি প্রেস্টনের জীবন শেষ হয়ে যায়। জন ট্রাভোল্টা তাঁর স্ত্রীর মৃত্যুর হৃদয়বিদারক সংবাদটি ইনস্টাগ্রামের মাধ্যমে শেয়ার করে তাঁকে একজন সাহসী যোদ্ধা বলে অভিহিত করেছিলেন। তিনি ‘টুইনস’, ‘স্পেসক্যাম্প’, ‘ফর লাভ অব দ্য গেম’ এবং ‘জেরি ম্যাগুয়ার’-এর মতো সিনেমায় তাঁর ভূমিকার জন্য বিখ্যাত ছিলেন।  

অ্যামি ওয়াইনহাউস

অ্যামি ওয়াইনহাউস : অ্যামি ওয়াইনহাউস একজন ব্রিটিশ গায়িকা, যিনি ২০১১ সালের ২৩ ‍জুলাই লন্ডনে মারা যান। তিনি একটি ব্রিটিশ ব্যান্ডের নেতৃত্ব দিতেন এবং অত্যন্ত জনপ্রিয় একজন গায়িকা ছিলেন। তিনি তাঁর তৃতীয় অ্যালবাম দিয়ে রেকর্ড গড়েছিলেন। উচ্ছৃঙ্খল জীবনযাপন ও অ্যালকোহল বিষক্রিয়ার কারণে আকস্মিকভাবে মারা যান এই গায়িকা।  

ক্যামেরন বয়েস

ক্যামেরন বয়েস : ক্যামেরন বয়েস একজন ক্ষণজন্মা অভিনেতা, যিনি ‘দ্য ডিসেন্ডেন্টস’ এবং ‘গ্রোন আপস’-এ তাঁর দুর্দান্ত ভূমিকার জন্য বিখ্যাত হয়ে উঠেছিলেন। ২০১৯ সালের ৬ জুলাই উত্তর হলিউডে তাঁর বাড়িতে ঘুমের মধ্যে মারা যান। এই ডিজনি চ্যানেল তারকা মৃগী রোগে ভুগছিলেন এবং ঘুমের মধ্যে খিঁচুনিতে আক্রান্ত হন, যার ফলে তাঁর জীবনের আকস্মিক সমাপ্তি ঘটে।  

ব্রিটানি অ্যান মারফি 

ব্রিটানি অ্যান মারফি : একজন আমেরিকান জনপ্রিয় অভিনেত্রী এবং গায়িকা মারফি, যিনি ‘ক্লুলেস’, ‘৮ মাইল’ এবং ‘কিং অব দ্য হিল’-এ তাঁর ভূমিকার জন্য বিখ্যাত ছিলেন। তিনি ২০০৯ সালের ২০ ডিসেম্বর লস অ্যাঞ্জেলেসে নিজের বাড়িতে মারা যান। নিউমোনিয়ার সাথে দীর্ঘদিন ধরে লড়াই করছিলেন এই অভিনেত্রী। এর মাঝেই ড্রাগ সম্পর্কিত হৃদযন্ত্রের আক্রমণে মারা যান তিনি।  

রবিন উইলিয়ামস

রবিন উইলিয়ামস : রবিন উইলিয়ামস ছিলেন একজন বিশ্বমানের কমেডিয়ান এবং একজন অস্কার বিজয়ী অভিনেতা। দুঃখজনকভাবে, তিনি ২০১৪ সালের আগস্ট মাসে মারা যান। তাঁর ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন অনুসারে জানা যায়, রবিন উইলিয়ামস বিষণ্নতায় ভুগছিলেন এবং নিজেই নিজের জীবন নিয়েছিলেন। বিশ্বব্যাপী দারুণ জনপ্রিয় ছিলেন তিনি। তাঁর মৃত্যুতে শোক নেমে আসে হলিউডজুড়ে। ‘অ্যাওকেনিংস’, ‘দ্য ফিশার কিং’, ‘হুক’, ‘গুড উইল হান্টিং’-এর মতো বিশ্বখ্যাত সিনেমা দিয়ে ভক্তদের মনে চিরস্থায়ী জায়গা করে গেছেন তিনি।  

স্টিভ রবার্ট আরউইন

স্টিভ রবার্ট আরউইন : বিখ্যাত কুমির শিকারি স্টিভ রবার্ট আরউইন। টিভি চ্যানেল খুললেই যাকে প্রাণীদের নিয়ে গবেষণা ও দিনভর বনেজঙ্গলে ব্যস্ত থাকতে দেখা যেত। ছোট শিশু থেকে বয়স্ক ব্যক্তি, একাধারে সকলের প্রিয় ব্যক্তিত্ব ছিলেন এই মানুষটি। একজন বিখ্যাত টেলিভিশন ব্যক্তিত্ব, সংরক্ষণবাদী, পরিবেশবাদী এবং বন্য প্রাণী বিশেষজ্ঞ ছিলেন তিনি। ২০০৬ সালে স্টিভ আরউইন তাঁর একটি উন্মত্ত বন্য প্রাণী অ্যাডভেঞ্চারের চিত্র গ্রহণ করার সময় মারা যান। সমুদ্রে কিছু স্টিংরের ছবি তুলতে গিয়েই হৃৎপিণ্ডে গুরুতরভাবে আঘাত পান আরউইন। ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়। জানা যায়, আরউইনের মৃত্যুর গোটা ঘটনাটি ক্যামেরাবন্দি হয়েছিল। তবে ঠিক কিভাবে ও কোথায় তাঁর মৃত্যু হয় এবং আরউইনের শেষ মুহূর্তের সেই রেকর্ডিংটি এখন কোথায় আছে, পুরো বিষয়টা আজও রসহস্যের চাদরে ঢাকা।

মাইকেল জ্যাকসন

মাইকেল জ্যাকসন : বিশ্বখ্যাত পপ তারকা মাইকেল জ্যাকসনের আলাদা পরিচয় দেওয়ার প্রয়োজন পড়ে না। বিশ্বজুড়ে তাঁর তারকাখ্যাতি এতটাই সুবিশাল যে তাঁর মৃত্যুতে গোটা পৃথিবীতে নেমে এসেছিল শোকের ছায়া। বিনোদনসহ সব অঙ্গনের মানুষের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন তিনি। বিংশ শতাব্দীর সবচেয়ে প্রভাবশালী ব্যক্তি হিসেবেও তাঁকে আখ্যায়িত করা হয়। তাঁর অকালমৃত্যু আজও মেনে নিতে পারেনি ভক্তরা। প্রোপোফোল ড্রাগের অতিরিক্ত মাত্রায় হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে মারা যান বিশ্বের সবচেয়ে বড় এই সুপারস্টার। ২০০৯ সালের ২৫ জুন বিশ্বজুড়ে ভক্তদের কাঁদিয়ে না-ফেরার দেশে চলে যান এই তারকা।  

সূত্র : ইন্টারনেট



সাতদিনের সেরা