kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১ ডিসেম্বর ২০২২ । ১৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ ।  ৬ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৪

মালয়ালাম অভিনেতা দুলকার সালমান

ছিলেন চাকরিজীবী, এখন বাবার মতো তুখোড় অভিনেতা

বিনোদন ডেস্ক   

২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২২ ১৫:৪৮ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



ছিলেন চাকরিজীবী, এখন বাবার মতো তুখোড় অভিনেতা

অভিনেতা দুলকার সালমান

মালয়ালাম অভিনেতা দুলকার সালমান এ বছর বিনোদন জগতে নিজের এক দশক পূর্ণ করেছেন। এক দশকের অভিনয়জীবনে তিনি অসংখ্য দর্শকপ্রিয় সিনেমা উপহার দিয়ে বিশ্বজুড়ে বিশাল ভক্তকুল গড়ে তুলেছেন। সম্প্রতি তাঁর মুক্তিপ্রাপ্ত সিনেমা ‘চুপ’ বেশ আলোড়ন ফেলে দিয়েছে বলিউডে। সিনেমাটিতে দুলকারের সঙ্গে রয়েছেন সানি দেওল।

বিজ্ঞাপন

দর্শকরা ইতিমধ্যে বেশ প্রশংসায় ভাসাচ্ছেন এই জুটিকে। এর আগে দুলকারের সাড়া জাগানো সিনেমা ‘সীতা রামাম’ দর্শক ও সমোলোচক, সবার মন জয় করে নিয়েছে। সিনেমাটিতে তাঁর অভিনীত রামের চরিত্রটি দর্শকহৃদয়ে ঝড় তুলেছিল।

বছরের সবচেয়ে আলোচিত ও ব্যবসাসফল সিনেমা ‘সীতা রামাম’-এর একটি দৃশ্য

তবে অভিনেতা হওয়ার আগে দুবাইয়ের একটি নির্মাণ সংস্থায় কাজ করতেন দুলকার, এ বিষয়টি তাঁর ভক্তরা হয়তো জানেন না। হ্যাঁ, ঠিকই শুনেছেন। দক্ষিণ ভারতের অন্যতম শক্তিমান অভিনেতা মামুত্তির ছেলে দুলকার সালমান সিনেমা জগতে আসার আগে ছিলেন একজন চাকরিজীবী!

দুলকার একটি নির্মাণ কম্পানিতে আড়াই বছর কাজ করেছিলেন। একজন তারকার ছেলে হওয়ায় সাধারণ চাকরি তাঁকে বেশিদিন ধরে রাখতে পারেনি। তিনি বুঝতে পেরেছিলেন যে তিনি অফিসের কাজ উপভোগ করছেন না এবং তিনি প্রকৃতপক্ষে অভিনয় করতে চান। তাই চাকরি ছেড়ে মুম্বাইয়ের ‘ব্যারি জন অ্যাক্টিং স্টুডিও’তে তিন মাসের একটি কোর্সে ভর্তি হন দুলকার। পরে ২০১২ সালে মালয়ালাম অ্যাকশন ড্রামা সিনেমা ‘সেকেন্ড শো’ দিয়ে অভিনয় জগতে আত্মপ্রকাশ করেন। এরপর আর পেছনে তাকাতে হয়নি। ‘বেঙ্গালুরু ডেইজ’, ‘ওস্তাদ হোটেল’, ‘চার্লি’র মতো দর্শকনন্দিত সিনেমা উপহার দেন তিনি। মালয়ালামের গণ্ডি পেরিয়ে তামিল, তেলুগু এবং হিন্দি ভাষার চলচ্চিত্রেও অভিনয় করেছেন দুলকার।

দুলকারের ক্যারিয়ারসেরা চলচ্চিত্র ‘চার্লি’র একটি দৃশ্য

সম্প্রতি কার্লি টেলসের সঙ্গে একটি কথোপকথনে দুলকার নিজের অভিজ্ঞতার বিষয়ে শেয়ার করেন। একটি চলচ্চিত্র পরিবার থেকে আসা এবং অভিনয়ে আগ্রহ থাকা সত্ত্বেও দুবাইয়ে একটি নির্মাণ সংস্থায় কাজ করার কারণটি তিনি প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ‘আমি ভেবেছিলাম আমি এটা করতে পারব না। কেউ আমাকে দেখতে চাইবে না। আমি ধরে নিয়েছিলাম আমি অভিনয় করতে পারব না। আমি মঞ্চ এবং ক্যামেরা ভয় পেতাম। অন্য কোনো কিছুর জন্য নয়, বরং আমার বাবার সঙ্গে আমাকে তুলনা করার সন্দেহ এবং ভয় থেকেই আমি অভিনয় থেকে দূরে থেকেছি। আমি ভেবেছিলাম আমি সম্পূর্ণভাবে সরে যাব। কিংবদন্তি মামুত্তির (দুলকারের বাবা) সঙ্গে তুলনার চাপটা আমি নিতে ভয় পাচ্ছিলাম। ’ 

বাবা মামুত্তির সঙ্গে ছেলে দুলকার

এই অভিনেতা আরো বলেন, ‘আমি একসময় বুঝতে পেরেছিলাম যে আমি চাকরি করে খুশি নই। ৯টা থেকে ৫টা পর্যন্ত অফিস করা, এটা আমাকে কোনো আনন্দ দেয় না। এটা যান্ত্রিক কাজের মতো মনে হয়। তারপর আমি শর্ট ফিল্ম তৈরি শুরু করি। এমন বন্ধুদের সঙ্গে কাজ শুরু করি, যারা চলচ্চিত্রে প্রবেশ করার চেষ্টা করছিল এবং যাদের কোনো ফিল্ম ব্যাকগ্রাউন্ড ছিল না। ’ 

দুলকারের ‘স্যালুট’ সিনেমার একটি দৃশ্য

দুলকার আরো স্মরণ করেছেন যে তিনি মুম্বাইয়ে ‘ব্যারি জন’-এ পড়ার সময় বলিউডের কাস্টিং এজেন্টদের সঙ্গেও দেখা করেছিলেন। বাবার পরিচয় ছাড়াই তিনি বলিউডে কাজ পেতে মরিয়া ছিলেন। কিন্তু সেই সময় তাঁর একটি ভয়ানক চোখের সংক্রমণ হয়েছিল, যার ফলে তাঁকে কোচিতে ফিরে যেতে হয়েছিল এবং তিনি বলিউডে কাজ করার ইচ্ছা পেছনে ফেলে নিজের মাটিতে ফিরে যান। পরবর্তী সময়ে এই অভিনেতা ২০১৮ সালে ‘কারওয়ান’ দিয়ে হিন্দি চলচ্চিত্রে আত্মপ্রকাশ করেন, যেটিতে তাঁর সঙ্গে ছিলেন মিথিলা পালকার এবং প্রয়াত অভিনেতা ইরফান খান। তত দিনে দুলকার সালমান মালয়ালাম ও দক্ষিণী ইন্ডাস্ট্রির বড় একজন স্টার হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন।  

সূত্র : হিন্দুস্তান টাইমস।



সাতদিনের সেরা