kalerkantho

বুধবার ।  ১৮ মে ২০২২ । ৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯ । ১৬ শাওয়াল ১৪৪৩  

ফোনালাপ বিতর্কে মুখ খুলে সুমন বললেন, যা করেছেন আবার করবেন

রংবেরং ডেস্ক   

২৯ জানুয়ারি, ২০২২ ১৩:৫৭ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



ফোনালাপ বিতর্কে মুখ খুলে সুমন বললেন, যা করেছেন আবার করবেন

নতুন বিতর্কে সুমন

একদিন আগেই ওপার বাংলায় ভাইরাল হয় একটি ফোনালাপ। ফোনের এক পাশে ছিলেন পশ্চিমবাংলার এক টিভি সাংবাদিক, অন্য কণ্ঠটি শুনে সবার ধারণা হয় সেটা প্রখ্যাত গায়ক কবীর সুমনের। যদিও সেটা যাচাই করা সম্ভব হয়নি। তবে ফোনালাপটি নিয়ে এতো আলোচনা, তর্ক-বিতর্কের মূল কারণ ছাপার অযোগ্য গালাগালি।

বিজ্ঞাপন

সুমনের মতো শুনতে কণ্ঠটি ফোনের অন্য পাশে থাকা সাংবাদিকটিকে যাচ্ছেতাই বলে গালগাল করেই শান্ত হয়নি, সেটা প্রচার করতেও বলে দেন। বাঙালি দর্শক তিন দশক ধরে সুমনের গান শুনে আসছে তাই ফোনের কণ্ঠটি যে ‘গানওয়ালার’ই সেটা প্রায় সবাই নিশ্চিত।

ঘটনার সূত্রপাত সন্ধ্যা মুখোপাধ্যায়ের পদ্মশ্রী পুরস্কার প্রত্যাখ্যানের মধ্য দিয়ে। ওই চ্যানেল প্রবীণ গায়িকা সন্ধ্যা মুখোপাধ্যায়কে কার্যত মেরে ফেলছে বলে অভিযোগ করেছিলেন সুমনসহ কয়েকজন বিশিষ্ট নাগরিক। তাঁদের বক্তব্য ছিল সন্ধ্যার মতো প্রবীণ গায়িকাকে ‘পদ্মশ্রী’ খেতাব দিতে চেয়ে কেন্দ্রীয় সরকার অন্যায় করেছে। এতে গায়িকা মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন। ঘটনাচক্রে, তার পরেই সন্ধ্যা কোভিডে আক্রান্ত হন। তিনি আপাতত শহরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

এদিকে আলোচনার ঝড়ের মধ্যে এ নিয়ে কথা বলেছেন স্বয়ং সুমন। আজ সকালে এক ফেসবুক পোস্টে তিনি লিখেছেন, ‘আব্রাহাম লিঙ্কন বলেছিলেন, কিছুর পক্ষে যুক্তি দিতে যেও না। তোমার বন্ধুদের তা দরকার পড়বে না। তোমার শত্রুরা তা বিশ্বাস করবে না। সাংবাদিক, সংবাদমাধ্যম, শিল্পীর কোনও আলাদা স্বাধীনতা থাকতে পারে বলে মনে করি না। যে কোনও মানুষের যে অধিকার, তাদের অধিকার ততটাই। একটি বিশেষ চ্যানেল ও তার সাংবাদিকরা দিনের পর দিন যা করে যাচ্ছে, তার জবাব দিয়েছি উপযুক্ত ভাষায়। সুরসম্রাজ্ঞীর অপমানের বিরুদ্ধে যে সাংবাদিক বৈঠক হয়েছিল সেখানে কোন চ্যানেলের কোন সাংবাদিক কী করেছে, বলেছে আমি ভুলিনি। ফোনে, হোয়াটসঅ্যাপ স্বাভাবিক ভাবেই আমি আক্রান্ত। এটাই হওয়ার কথা। আরও হবে। আমার যায়-আসে না। যা করেছি তা, দরকার হলেই, আবার করব। ’

তার পরে সুমন লিখেছেন, ‘সারা দুনিয়ায় সংবাদমাধ্যম ও সাংবাদিকরা তাদের ইচ্ছেমতো পথে চলে। যে কোনও উপায় নেয়। যার হাতে চ্যানেল-কাগজ কিছু নেই, সে-ও তার ইচ্ছেমতো উপায় নেবে। এ বিষয়ে যাঁদের আগ্রহ, জার্মান কাহিনিকার হাইনরিশ্ ব্যোল্ (Heinrich Boell)-এর লেখা The Lost Honour of Katharina Blum উপন্যাসটি পড়ুন। বইটি পড়া দরকার। এক প্রাক্তন সাংবাদিক ও নিয়মিত পাঠক হিসেবে বলছি। ’

তাঁর পোস্ট অবশ্য ‘ফ্রেন্ডস অনলি’ করে রেখেছেন সুমন, যার অর্থ বন্ধু ছাড়া কেউ দেখতে পারবে না।

ফোনালাপ নিয়ে যখন নানা ধরণের আলোচনা চলছে তখন নাম উল্লেখ না করে ঘটনাটি নিয়ে পোস্ট দেন কবি ও গীতিকার শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়।

নিজের পোস্টে তিনি বলেন, ‘শিল্প করলেই সকলের মাথা কিনে নেওয়া যায় না, এই শিক্ষা আমরা কোনওদিন পাইনি। শিল্পী হলেই যে-কারওর বাবা-মা তুলে চূড়ান্ত কুিসত কথা অবলীলায় উগরে দেওয়া যায় না, এই বোধও আমাদের কখনও হয়নি। আমরা মানে, নেহাতই এই বঙ্গদেশবাসী। বাকি দুনিয়ায় শিল্পীদের জন্য কিছু ছাড় থাকলেও, তাঁদের শত অন্যায়কে শিল্পের দোহাই দিয়ে অদেখা করার অলিখিত চুক্তি নেই। পশ্চিমে তো প্রশ্নই ওঠে না। সোজা ঘাড় ধরে কাঠগড়ায় তুলে দেবে, বাকি কথা তারপর। সে তুমি যত বড় শিল্পস্রষ্টাই হও, নিয়ম তোমার জন্যেও একই। ’

কবি ও গীতিকার শ্রীজাত

সুমনের গানের উদাহরণ দিয়েই তিনি বলেন, ‘‘মনে আছে, কবীর সুমন নিজের একখানা গানে লিখেছিলেন, ‘বিরোধীকে বলতে দাও, বিরোধীকে বলতে দাও, তোমার ভুলের ফর্দ দিক’। বাঙালি বোধহয় শুনেও এসব গানের অর্থ উপলব্ধি করতে পারেনি। পারলে আজ তার এই হাঁড়ির হাল হতো না। ‘তুমি গান গাইলে, বিশেষ কিছুই হল না, যা ছিল আগের মতো রয়ে গেল। বিস্ময়কর ভাবে, এ-গানও সুমনেরই রচনা। কী মিষ্টি সমাপতন, না?”

 



সাতদিনের সেরা