kalerkantho

বৃহস্পতিবার ।  ২৬ মে ২০২২ । ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯ । ২৪ শাওয়াল ১৪৪

চিত্রনায়িকা শিমু হত্যা: নোবেলের সঙ্গে হত্যায় ছিল আরেকজন

নিজস্ব প্রতিবেদক ও কেরানীগঞ্জ প্রতিনিধি   

২১ জানুয়ারি, ২০২২ ০২:২৯ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



চিত্রনায়িকা শিমু হত্যা: নোবেলের সঙ্গে হত্যায় ছিল আরেকজন

রাইমা ইসলাম শিমু

বাংলা চলচ্চিত্রের নায়িকা রাইমা ইসলাম শিমু হত্যায় তাঁর স্বামী সাখাওয়াত আলী নোবেলের সঙ্গে আরেকজন প্রত্যক্ষভাবে ছিলেন। দুই আসামির জবানবন্দিতে ওই ব্যক্তির ব্যাপারে তথ্য পেয়ে গ্রেপ্তারে অভিযান চালাচ্ছে পুলিশ। তবে গতকাল বৃহস্পতিবার রাত পর্যন্ত তার পরিচয় জানাননি তদন্ত সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তারা।  

এদিকে বৃহস্পতিবার ঢাকার নিম্ন আদালতে স্বামী নোবেল ও তাঁর বন্ধু এসএম ওয়াই আব্দুল্লাহ ফরহাদ ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

বিজ্ঞাপন

গতকাল ছিল তাদের তিন দিনের রিমান্ডের দ্বিতীয় দিন।

আদালতের আগে পুলিশের কাছে শ্বাসরোধে হত্যার পর ফরহাদের সহায়তায় লাশ ফেলার বর্ণনা দিয়েছেন নোবেল। সেখানে আরেকজনের সংশ্লিষ্টতার তথ্য মেলে। পাশাপাশি বেশ কিছু বিষয় নিয়ে দেখা দিয়েছে রহস্য। শিমু ও নোবেলের গ্রিন রোডের বাসার সিসিটিভি ফুটেজ দেখেছে পুলিশ। ঘটনার দিন রবিবার সকাল ১০টা ৩ মিনিট থেকে ১০টা ১৭ মিনিট পর্যন্ত ১৪ মিনিটের ফুটেজ সেখানে নেই।

পুলিশের সূত্র জানায়, ওই সময় বিদ্যুৎ ছিল না বলে জানায় বাড়ির লোকজন। তবে পুলিশ আশপাশের বাসা ও বিদ্যুৎ অফিসে খোঁজ নিয়ে জানতে পারে, ওইদিন এলাকায় বিদ্যুৎ যায়নি। এতে তদন্তকারীরা সন্দেহ করছেন, পরিকল্পিতভাবেই ভবনের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়। ওই সময় তৃতীয় ব্যক্তি চলে যায় এবং শিমুর লাশ বাসা থেকে বের করা হয়।
 
ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার (এসপি) মারুফ হোসেন সরদার কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আজ (গতকাল) শিমুর স্বামী নোবেল ও তার বন্ধু ফরহাদ হত্যার দায় স্বীকার করে বিজ্ঞ আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেছেন। তদন্তে কিছু বিষয় এসেছে। এগুলো বলা যাবে না। এগুলো নিয়ে কাজ চলছে। ’

কেরানীগঞ্জ মডেল থানার এসআই, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা চুন্নু মিয়া বলেন, গতকাল রিমান্ডের দ্বিতীয় দিনে দুই আসামি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। শিমুকে হত্যায় নোবেলের সঙ্গে তার আরেক সহযোগী ছিল বলে আমরা জানতে পেরেছি। তবে তদন্তের স্বার্থে এখনই তার নাম বলতে পারছি না। বাসার ১৪ মিনিটের ভিডিওর ব্যাপারে খোঁজ-খবর নেওয়া হচ্ছে। ’

পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে নোবেল জানিয়েছেন, রবিবার ভোরে তাদের মধ্যে ঝগড়া হয়। এক পর্যায়ে তাদের মধ্যে হাতাহাতি হয়। এরপরই রাগের মাথায় স্ত্রীকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেন। তাদের (শিমু ও নোবেল) মধ্যে পারিবারিক কলহ চলছিল। ভোরে শিমুকে হত্যার পর বন্ধু ফরহাদকে ফোন করেন নোবেল। পরে তারা দুজন মিলে লাশটি গুম করার চেষ্টা করেন।    

শিমু ও নোবেলের গ্রিন রোডের বাসার নিরাপত্তারক্ষী মো. তারিক বলেন, নোবেলের বন্ধু ফরহাদ প্রায়ই তাদের বাসায় আসতেন। শনিবার রাত সাড়ে ১০টা পর্যন্ত ফরহাদ ও নোবেলকে তিনি বাসার নিচে গ্যারেজে বিলিয়ার্ড খেলতে দেখেছেন। রবিবার সকাল ১০টায় লিফটের সামনে দাঁড়িয়ে তাকে ডেকে পাশের দোকান থেকে নাস্তা নিয়ে আসতে বলেন নোবেল। তখন ফরহাদকে সেখানে দেখা যায়নি। কিন্তু ১০ মিনিটের মধ্যে নাস্তা নিয়ে ফেরার পর গ্যারেজে ফরহাদকে দেখতে পান তারিক। নোবেল নিজেই গাড়িটি চালিয়ে বের হয়ে যান। পাশের সিটে ছিলেন ফরহাদ। বিকেল ৩টার দিকে তারা দুজনই গাড়ি নিয়ে বাসায় আসেন। সন্ধ্যার দিকে আবার বের হন।

পুলিশ ও পারিবারিক সূত্র জানায়, দুজন মিলে সাভার, আশুলিয়া ও মিরপুর বেড়িবাঁধের দিকে লাশ ফেলার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়। পরে কেরানীগঞ্জে লাশ ফেলে আসেন। ফুটেজে ফরহাদকে বাসায় ঢুকতে দেখা যায়নি। কিন্তু বের হতে দেখা যায়। সে রাতে শিমুর বাসার একটি কক্ষে তাদের ১৬ বছর বয়সী মেয়ে ঘুমিয়েছিল। অন্য কক্ষে ছিল তাদের সাত বছরের ছেলে, শিমু ও নোবেল। সে কক্ষেই শিমুর সঙ্গে ঝগড়া ও তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে বলে দাবি করেছে নোবেল। তবে দুই সন্তানই বলছে তারা কিছু টের পায়নি।  

নোবেল মাদকাসক্ত ছিলেন। বাসার ভেতরেই ইয়াবা, ফেনসিডিল সেবন করতেন। রবিবার সকালে নোবেল ও ফরহাদ গাড়িতে মরদেহ নিয়ে মিরপুরে আরেক বন্ধু গণির কাছে গিয়েছিলেন। সেখান থেকে ফিরে কলাবাগান থানায় নিখোঁজের জিডি করেন। পরে তারা তিন বন্ধু মিলেই সবাইকে ফোন করেন।

শিমুর ভাই শহীদুল ইসলাম খোকন বলেন, ‘আমরা শুনেছি নোবেল মেরেছে। কিন্তু সেটা তো এখনো সেভাবে নিশ্চিত না। কিভাবে কি হলো আমরা বুঝতে পারছি না। ’   



সাতদিনের সেরা