kalerkantho

সোমবার ।  ১৬ মে ২০২২ । ২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯ । ১৪ শাওয়াল ১৪৪৩  

'শাটিকাপ'-এ চমক দেখাল একদল তরুণ

অনলাইন ডেস্ক   

২০ জানুয়ারি, ২০২২ ১৫:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



'শাটিকাপ'-এ চমক দেখাল একদল তরুণ

টিম শাটিকাপ

রাজশাহীর আঞ্চলিক শব্দ ‘শাটিকাপ’, মানে ঘাপটি মেরে বসে থাকা। একই নামের ওয়েব সিরিজে রাজশাহীর গল্প ও জীবনযাপন দেখিয়ে চমকে দিল একদল তরুণ। ১৩ জানুয়ারি চরকিতে আট পর্বের সিরিজটি মুক্তির পর থেকেই প্রশংসার জোয়ারে ভাসছেন পরিচালক মোহাম্মদ তাওকীর ইসলাম ও অপরিচিত একদল অভিনয়শিল্পী। তাঁদের গল্প শুনেছেন  এম আর হাসান

বাংলাদেশ-ভারতের সীমান্তবর্তী শহর রাজশাহী।

বিজ্ঞাপন

অবৈধ চোরাচালানের একাধিক চক্র এখানে সক্রিয়। রাজশাহী ও আশপাশের আরো বেশ কিছু এলাকার চোরাচালান নিয়ন্ত্রণ করে সোহেল। সোহেলের একচেটিয়া রাজত্বে ধাক্কা দেওয়ার পরিকল্পনা করে উঠতি দুই ব্যবসায়ী হান্নান আর জয়নাল। মিজু নামের এক ভাড়াটে ডাকাতের সহযোগিতায় গরুর একটি চালান লুট করে নেয় তারা। প্রভাবশালী মাদকসম্রাট সোহেলের গ্যাং ও তার পকেটে থাকা বিডিআই কর্মকর্তা আছে এক দিকে, অন্য পক্ষে মাথা গরম জয়নাল আর তীক্ষ্ণ বুদ্ধির হান্নান। কার হাতে থাকবে তুরুপের টেক্কা?  এ নিয়ে গল্প।

পরিচালক তাওকীর ইসলামের জন্ম ১৯৯৪ সালে, রাজশাহীতে। অষ্টম শ্রেণিতে পড়ার সময় চিলড্রেনস ফিল্ম সোসাইটি অব বাংলাদেশে তাঁর চলচ্চিত্র নির্মাণে হাতেখড়ি। পরে ভারতের এশিয়ান স্কুল অব মিডিয়া স্টাডিজ থেকে স্নাতক হয়ে রাজশাহী ফিরে নিজের প্রডাকশন হাউস শুরু করেন, নাম ফুটপ্রিন্ট ফিল্ম প্রডাকশন। সম্প্রতি বন্ধুদের সঙ্গে যৌথভাবে একটি বিজ্ঞাপনী সংস্থা চালু করেছেন, নাম ডুগডুগি মিডিয়া লিমিটেড। এ পর্যন্ত সাতটি স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র এবং বেশ কিছু তথ্যচিত্র নির্মাণ করেছেন তাওকীর। ‘শাটিকাপ’-এর আগে কখনো অ্যাকশন দৃশ্য শুট করেননি পরিচালক। বলেন, ‘অভিজ্ঞতা ছিল না অ্যাকশন ফিল্ম শুট করার। ২০২০-এর লকডাউনে ঘরবন্দি সময়ে মাথায় আসে, আমরা যদি এমন কিছু একটা করতে পারি। কোনো গল্প ছাড়াই শুটে নেমে পড়লাম। যখন দেখলাম কিছু একটা হচ্ছে, তখন প্রপার স্ক্রিপ্টে গেলাম।

রাজশাহীতে কলাকুশলী-শিল্পীদের বাড়ি, সেখানেই পরিচালকের অফিস। সেখানেই তৈরি হয়েছে সিরিজটি। ‘শুটিং শেষ করে আমরা প্রফেশনালদের কাছে গিয়েছি এডিট, কালার ও সাউন্ড কারেকশনের জন্য। সবাই রাজশাহীর। আমাদের কোর টিমের সবাই যার যেটা দরকার সেটা শিখেছি। যেমন—আমাদের স্ক্রিপ্ট রাইটার নেই। স্ক্রিপ্ট রাইটিংয়ের জন্য আমরা কোর্স করেছি। ইন্টারনেট ঘেঁটেছি। তারপর আমাদের মনের ভাবনাগুলো লিখেছি। যে সাউন্ড নিয়েছে সেও এভাবে নিজেকে তৈরি করেছে। আমার পড়াশোনা সিনেমাটোগ্রাফিতেই। সে ক্ষেত্রে আমরা নিজেরা ওয়ার্কশপ করে রেডি হয়েছি। এটা পুরোটা একটা স্কুলিং ছিল আমাদের জন্য। আমরা সবাই শিখে এটা করেছি। নিজেরা যে যতটুকু জানি সেটা অন্যকে জানানোর চেষ্টা করেছি। তবে আমরা খুব সুন্দরভাবে জিনিসটা তৈরি করার চেষ্টা করেছি। মাল্টিক্যাম দিয়ে শুটিং করেছি। আমরা একই সময়ে পাঁচটা পর্যন্ত ক্যামেরা চালিয়েছি। এমনও হয়েছে, যে অভিনয় করেছে তাকেও ক্যামেরা ধরতে হয়েছে। বলা যায় গেরিলা শুটিং হয়েছে,’ বললেন তাওকীর।

মূল চরিত্রগুলোতে অভিনয় করেছেন কোর টিমের সদস্যরা। বাকি চরিত্রগুলো বাছাই করা হয় অডিশনের মাধ্যমে। এরপর সব চরিত্রের শিল্পীদের নিয়ে ওয়ার্কশপ হয়। শুটের আগেই হয় মহড়া। ‘প্রায় ৬৩ দিন শুট হয়েছে। দেখা গেল, শুট করার পর একটা সিকোয়েন্স পারফেক্ট হয়নি, পরে আবার শুটিং করেছি,’ বললেন তাওকীর।

চরিত্রগুলো যেভাবে কথা বলে, অভিনয়শিল্পীরা সেভাবেই বলার চেষ্টা করেছেন। তাওকীর বলেন, ‘আমরা যদি কিছু এড়িয়ে যেতাম তাহলে গল্পটার সঙ্গে জাস্টিস হতো না। সুন্দর জিনিসটা পর্দায় না এলে এটা আমাদের গল্প হয়ে উঠত না। দর্শকও ভালোভাবে নিতেন না। ’

রেদওয়ান রনি  

এটাই দেশি গল্পের শক্তি

রেদওয়ান রনি  সিওও, চরকি

মূল ক্রেডিটটা অবশ্যই পরিচালক আর রাজশাহীর যারা ওখানে কাজ করেছে তাদের। পরিচালকের ভেতরে যে সততা আছে সেটা তাকে অনেক বড় জায়গায় নিয়ে যাবে। শুরুতে তারা একটা ধাপ কমপ্লিট করে আমাদের কাছে নিয়ে এসেছিল। আমাদের ভালো লাগে, তাই এটার সঙ্গে যুক্ত হয়েছি। পরে আবার নতুন করে কিছু শুট হয়। তাদের সঙ্গে চরকি আবার রি-এডিট করে। এই সময়ের খুবই ট্যালেন্টেড পরিচালক ও এডিটর সালেহ সোবহান অনীম সিরিজটা এডিট করেছেন। শোয়েব মিউজিক করেছেন, যেটা এমন একটা থ্রিলারের খুবই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। ‘শাটিকাপ’ নিয়ে এখন যে উন্মাদনা চলছে, এটা দারুণ একটা টিম ওয়ার্কের কারণেই হয়েছে। আমরা যখন চরকি করি তখন আমাদের অন্যতম মূল ভাবনা ছিল, বাংলাদেশি অরিজিনাল সিরিজ কেমন হতে পারে। আমাদের খাঁটি গল্পটা কেমন হতে পারে। ‘শাটিকাপ’-এর ফুটেজ দেখে আমাদের মনে হয়েছে, এটাই বাংলাদেশের খাঁটি গল্প। রাজশাহী অঞ্চলের অরিজিনালিটি মাথায় রেখেই সিরিজের ভাষা, কালচার ও চরিত্র—প্রতিটি জায়গায় খাঁটি জিনিসটা নিয়ে এসেছেন নির্মাতা। পরের ধাপে হয়তো আমরা ঢাকার মানুষরা যুক্ত হয়েছি। সেটা প্রডাকশনকে আরো সমৃদ্ধ করেছে। লোকাল ট্যালেন্টদের সম্মান জানানোর জন্য রাজশাহী গিয়ে আমরা ‘শাটিকাপ’-এর প্রিমিয়ার করি। সেখানে যে উচ্ছ্বাসটা দেখলাম সেটা এককথায় দুর্দান্ত। এটা হচ্ছে বাংলাদেশি গল্পের নিজস্বতার শক্তি। ‘শাটিকাপ’-এর এই সাফল্যের পর আমরা আঞ্চলিক খাঁটি গল্পগুলোর দিকে আরো নজর দেব।



সাতদিনের সেরা