kalerkantho

বুধবার । ২৯ জুন ২০২২ । ১৫ আষাঢ় ১৪২৯ । ২৮ জিলকদ ১৪৪৩

কান ও বলিউড থেকে ফেরা বাঁধনের সঙ্গে এক সন্ধ্যা

আজমেরি হক বাঁধন। কান চলচ্চিত্র উৎসবে তাঁর অভিনীত রেহানা মরিয়ম নূর প্রশংসিত হয়েছে। উৎসবস্থলে চোখের জল, আবেগে ভাসিয়েছে দেশের মানুষকে। ফিরেই উড়ে গিয়েছিলেন মুম্বাই, বলিউডের একটি চলচ্চিত্রে কাজ করে দেশে ফিরেছেন। বাঁধন মুখোমুখি হয়েছিলেন গুলশানে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে এক আড্ডায়। সেখানে উপস্থিত ছিলেন মাহতাব হোসেন

মাহতাব হোসেন   

২ নভেম্বর, ২০২১ ১২:৫৮ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



কান ও বলিউড থেকে ফেরা বাঁধনের সঙ্গে এক সন্ধ্যা

রেহানা মরিয়ম নূর, এই নামটার আড়ালে যে মানুষটার ছবি সহজে দৃশ্যমান হয় তিনি আজমেরি হক বাঁধন। হ্যাঁ, আজমেরি হক বাঁধনের এখন বলার মতো অনেক গল্প কিংবা বাঁধনকে নিয়েই এখন অনেক গল্প। গল্পের বাইরে আবার উপস্থিত হয় গসিপ। বাঁধন তাঁর গল্পের পেছনের গল্পগুলো ভাগাভাগি করলেন গত সন্ধ্যায়, গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে।

বিজ্ঞাপন

‘রেহানা মরিয়ম নুর’-এর সফলতার রেশ না কাটতেই ছুটে গিয়েছিলেন মুম্বাই। বলিউডের নির্মাতা বিশাল ভরদ্বাজের ‘খুফিয়া‘ সিনেমার শুটিং করে ঢাকায় ফিরেছেন বাঁধন।   ছবির সহপ্রযোজনা প্রতিষ্ঠান সেন্সমেকারস প্রডাকশনের গুলশান ১ নম্বরের অফিসে সে আড্ডায় জানালেন চেনা গল্পের অচেনা রংগুলো। অবশ্য বিসিএস প্রসঙ্গও বাদ পড়েনি আড্ডায়। কেননা ৪৩তম বিসিএস প্রিলিমিনারি পরীক্ষায় দু-দুটি প্রশ্ন এসেছে।  

কানের লালগালিচা, বলিউড- এসবের মধ্যে 'ইনসাইড পিস' কী পেলেন বাঁধন? বাঁধনের ভাষ্য, ‘এখন যখন সবই আমাকে বলেন, বাঁধন এখন তোমার এত এত অ্যাচিভমেন্ট, তুমি এত কিছু করে ফেলতেছ, তুমি কানে চলে গেছ, তুমি বলিউডের বিশাল ভরদ্বাজের কাজ করছ। তোমাকে নিয়ে এত আলোচনা হচ্ছে,  এত বড় একটা অ্যাওয়ার্ডের জন্য নমিনেশন পেয়েছ। কিন্তু আমার সবচেয়ে বড় অর্জন হচ্ছে আমার মেয়ে আমাকে হেরে যেতে দেখছে না। আমি মনে করি, এটাই আমার বড় প্রাপ্তির জায়গা। ’

কান থেকে ফেরার পর মেয়ের অভিব্যক্তি কী? বাঁধন চোখেমুখে তৃপ্তির উজ্জ্বলতা ছড়িয়ে বললেন, 'আমার মেয়ে আমাকে বলতেছে- মা, তুমি সেলিব্রিটি হয়ে গেছ। সারা দিন টেলিভিশনে তোমার কথা বলতেছে। মা তুমি অনেক বড় কিছু হয়ে গেছে। তার উচ্ছ্বাস অন্য রকম। ' 

আজ এই বাঁধন হয়তো না থাকতে পারতেন। অন্তত সেটাই বললেন। কেননা লাক্স তারকা হওয়ারর আগে পারিবারিক সহিংসতার শিকার হয়েছিলেন তিনি। শুধু তাই নয়, বাঁধন বলেই ফেললেন, 'আমি সুইসাইডাল ছিলাম। ' আত্মহত্যা করতে গিয়েছিলেন? প্রশ্নটা কোনো সহকর্মী করে বসল। বাঁধনের দ্বিধা নেই বলতে। বাঁধন বলেন, 'এসব বলতে এখন আর আমার ভয় নেই। কারণ আমি আর এখন আগের দুর্বল বাঁধন নই। ’ 

সেটা ২০০৫ সালের কথা। বাঁধন বলেন, ‘সে সময় আমার সঙ্গে অনেক অবিচার হয়েছে,  এবং পারিবারিকভাবে অনেক সহিংসতার শিকার হয়েছি। সে কারণেই আমি দুইবার আত্মহত্যার চেষ্টা করেছি। তাই সব মিলিয়ে সে সময়টা আমার জন্য খুবই কঠিন একটা সময় ছিল। তখন যদি আমি মরে যেতাম অনেক নিউজ হতো। যে যুদ্ধ করতে করতে মরে গেল মেয়েটি। নির্যাতিত হতে হতে মারা গেল। যেহেতু মারা যাইনি, তাই আমি মনে করি এখন জীবিত ডাইনি হয়ে গেছি। ’ 

বাঁধন মনে করেন, তার এই মরতে মরতে বেঁচে যাওয়া জীবনটা এখন সমাজের অন্য নারী যারা বন্দিদশা থেকে মুক্তি চান তাদের জন্য অনুপ্রেরণার। সাহস সঞ্চয়ের।   বাঁধন বলেন, আমার আশপাশের নারীরা, যারা এই বন্দিদশা থেকে মুক্তি পেতে চান। তারা যখন আমাকে বলেন আমার কোনো অ্যাচিভমেন্টকে- এটা  তাদের অর্জন বলে মনে করে। এটা আমার কাছে অনেক ভালো লাগে এবং বড় প্রাপ্তির মনে হয়।  

বাঁধন বলেন, আমার বাচ্চাকে নিয়ে অনেক ঝামেলার মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে আমাকে। তখন আমার হাতে দুই বছর ছিল। ভাবলাম আর যা আছে কপালে এবার আমি বিসিএস দেবই। ফাইনালি আমি সিদ্ধান্ত নিলাম। আমার নিজের ওপর যত না কনফিডেন্স, তার চেয়ে বেশি কনফিডেন্স আমার শিক্ষকদের, আমার ফ্রেন্ডদের। কেননা আমি পড়াশোনায় খুবই ভালো ছিলাম। তারা বলল, তুমি দিলেই হয়ে যাবে। কোচিং সেন্টারে ভর্তিও হয়েছি। ফরম পূরণের সময় আমি প্রথম পছন্দ পুলিশ দিয়েছি, সেকেন্ড, সেটাও পুলিশ, আমি জিজ্ঞেস করলাম তিনটাই কি পুলিশ দেওয়া যায়? আমাকে বলল, যায় না। যা-ই হোক, ওই পড়ার ভলিউম দেখে, আর আমার বাচ্চাকে লালন-পালন, তা ছাড়া টাকাও ইনকাম করতে হবে। যার কারণে বিসিএসটা দেওয়া হয়নি। বাট ওই পরীক্ষায় আমার নাম থাকবে, আমার অভিনীত সিনেমার নাম থাকবে- এটা আমি কল্পনাও করিনি।

ট্রলকারীদের উদ্দেশে বাঁধন বলেন, যারা এটা নিয়ে ট্রল করতেছে, হাসাহাসি করতেছে, তাদের বোঝার জন্য এটার ভেতর দিয়ে তো যেতে হবে। মানে এই অনুভূতি বোঝার জন্য এই সিচুয়েশনটার ভেতর দিয়ে যেতে হবে। এটার সৌভাগ্য তো সবার হয় না। যারা জানেন না বা বোঝেন না হয়তো তারাই এমনটা করতেছেন।  

'রেহানা মরিয়ম নুর’  বাংলাদেশে  ১২ নভেম্বর মুক্তি পাচ্ছে।   সিনেমাটির নির্বাহী প্রযোজক এহসানুল হক বাবু  জানালেন এই তথ্য।



সাতদিনের সেরা