kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ৫ কার্তিক ১৪২৮। ২১ অক্টোবর ২০২১। ১৩ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

শোকে মুহ্যমান লাকি ইনাম কান্নায় ভেঙে পড়লেন

অনলাইন ডেস্ক   

১২ অক্টোবর, ২০২১ ১৬:২১ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



শোকে মুহ্যমান লাকি ইনাম কান্নায় ভেঙে পড়লেন

স্বামীকে হারিয়ে শোকে মুহ্যমান লাকি ইনাম। সোমবার বেইলি রোডের বাসায় আকস্মিকভাবে মারা যান বরেণ্য অভিনেতা ও নাট্যকার ড. ইনামুল হক। ড. ইনামুল হকের মরদেহ গতকাল সন্ধ্যায় নেওয়া হয়েছিল রাজধানীর শিল্পকলা একাডেমিতে। সেখানে এই গুণী নাট্যজনকে শেষবারের মতো একনজর দেখতে ছুটে আসেন সতীর্থ ও নাট্যকর্মীরা। নাট্যব্যক্তিত্বের প্রয়াণে স্মৃতিচারণা করে শোকে ভাসেন তারা।

উপস্থিত ছিলেন শোকে মুহ্যমান হয়ে পড়া স্ত্রী নাট্যজন লাকী ইনাম। স্বামীর মরদেহ সামনে রেখে চোখের জলে তিনিও  প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। সংস্কৃতি অঙ্গনে ড. ইনামুল হকের অবদান স্মরণ করে আবেগঘন বক্তব্য দেন লাকী ইনাম। তিনি বলেন, ‘আমি বুঝতে পারছি না উনি ছাড়া কিভাবে বাকি জীবনটা কাটাব, থিয়েটার করব? আমার বিশ্বাস হচ্ছে না এই মানুষটি চলে গেছে। এত দেশপ্রেমী, এত মানবপ্রেমী, সবাইকে ভালোবাসতেন। কেউ তার সামনে বদনাম করতে পারত না। বলতেন, তোমরা হয়তো জানো না তার গুণ কোথায়।' 

থিয়েটারের ছেলে-মেয়েরা তার প্রাণ ছিল। তাকে ছাড়া আমি একা একা কী করে থিয়েটার করব, আমার সংগ্রাম কী করে চালাব আমি জানি না। আমি জানি, আমার সব কাজে তোমাকে পাশে পাব, পাশে পাব তোমাকে। তুমি আমাকে ছেড়ে যেতে পারো না, কখনো না।

শোকসভায় বক্তব্য দেন নাট্যব্যক্তিত্ব আসাদুজ্জামান নূর, শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক লিয়াকত আলী লাকিসহ অনেকে।  সোমবার বিকেলে রাজধানীর বেইলি রোডের নিজ বাসায় মারা যান ড. ইনামুল হক। বর্ষীয়ান এই নাট্যজনের চিরবিদায়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে সংস্কৃতি অঙ্গনে। জীবনের প্রায় পুরোটা সময় নাটকের সঙ্গেই থেকেছেন তিনি। ছাত্র অবস্থায় নটর ডেম কলেজে পড়াশোনাকালীন প্রথম মঞ্চে আগমন ঘটে তার। ফাদার গাঙ্গুলীর নির্দেশনায় তখন তিনি ‘ভাড়াটে চাই’ নাটকে প্রথম অভিনয় করেন। ১৯৬৮ সালে প্রতিষ্ঠিত ‘নাগরিক নাট্যসম্প্রদায়’-এর অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ছিলেন। দলটির ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন ড. ইনামুল হক। এই দলের হয়ে প্রথম তিনি মঞ্চে অভিনয় করেন আতাউর রহমানের নির্দেশনায় ‘বুড়ো শালিকের ঘাড়ে রোঁ’ নাটকে।

এরপর এই দলের হয়ে ‘দেওয়ান গাজীর কিসসা’, ‘নূরল দীনের সারা জীবন’সহ আরো বহু নাটকে অভিনয় করেন। ১৯৯৫ সালে তিনি এই দল থেকে বের হয়ে প্রতিষ্ঠা করেন ‘নাগরিক নাট্যাঙ্গন’। সর্বশেষ দলটির প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন গুণী এই নাট্যজন। নাট্যাঙ্গনে বিশেষ অবদানের জন্য ২০১২ সালে সরকার তাকে একুশে পদকে ভূষিত করে।

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে তিনি দীর্ঘ ৪৩ বছর শিক্ষকতা পেশায় নিয়োজিত থাকার সময় ১৫ বছর রসায়ন বিভাগের চেয়ারম্যান এবং দুই বছর ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ডিন হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। ইনামুল হকের জন্ম ১৯৪৩ সালের ২৯ মে ফেনী সদর উপজেলার মোটবী ইউনিয়নে। তার বাবা ওবায়দুল হক ও মা রাজিয়া খাতুন।

ড. ইনামুল হকের পুরো পরিবারই বাংলা নাটকের সঙ্গে জড়িয়ে আছেন। তার দাম্পত্য সঙ্গী নাট্যজন লাকী ইনাম। তাদের সংসারে দুই মেয়ে হৃদি হক আর প্রৈতি হক। দুই জামাতা অভিনেতা লিটু আনাম ও সাজু খাদেম।

ফেনী পাইলট হাই স্কুল থেকে এসএসসি, ঢাকার নটর ডেম কলেজ থেকে এইচএসসি এবং পরবর্তী সময়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে রসায়ন বিভাগ থেকে তিনি বিএসসি ও এমএসসি সম্পন্ন করেন। পরে ম্যানচেস্টার ইউনিভার্সিটি থেকে পিএইচডি লাভ করেন।



সাতদিনের সেরা