kalerkantho

বুধবার । ৭ আশ্বিন ১৪২৮। ২২ সেপ্টেম্বর ২০২১। ১৪ সফর ১৪৪৩

মাহির টাইমলাইনজুড়ে এখনো অপু

অনলাইন ডেস্ক   

১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২১ ১২:৪৮ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



মাহির টাইমলাইনজুড়ে এখনো অপু

চিত্রনায়িকা মাহিয়া মাহি বিয়ে করলেন সাবেক ছাত্রলীগ নেতা রাকিব সরকারকে। রাকিব সরকারের স্ত্রী রয়েছে, রয়েছে সন্তানও। সেই স্ত্রীর সঙ্গে ছাড়াছাড়িও হয়েছে কি না জানা যায়নি। রাকিব সরকার গাজীপুর মহানগর যুবলীগের আহ্বায়ক কামরুল আহসান সরকার রাসেলের ছোট ভাই। এদিকে মাহিরও এটি দ্বিতীয় বিয়ে। 

২০১৬ সালের ২৫ মে জমকালো আয়োজনে সিলেটের ব্যবসায়ী পারভেজ মাহমুদ অপুকে প্রথম বিয়ে করেছিলেন মাহিয়া মাহি। চলতি বছরের ২৪ মে তাদের পঞ্চম বিবাহবার্ষিকীর আগমুহূর্তে মাহি জানান, একসঙ্গে থাকছেন না আর তারা। অন্যদিকে প্রথম স্বামী অপুও জানালেন, তাদের মধ্যে বিচ্ছেদ ঘটেছে। এরপর গুঞ্জন ওঠে- মাহি কামরুজ্জামান সরকার রাকিব নামের এক রাজনীতিক-ব্যবসায়ীকে বিয়ে করছেন।

এদিকে স্বামী অপুকে ডিভোর্স দেওয়ার পরেও মাহির টাইমলাইনজুড়ে  স্বামী অপুর ছবি। গত মার্চে পোস্ট করা এই ছবিগুলো এখন অতীত। মাহি রবিবার দিবাগত রাতে বিয়ের ঘোষণা দিলেও একটি সূত্র জানাচ্ছে, মাসখানেক আগেই বিয়ে হয়েছে রাকিবের সঙ্গে। মাহির টাইমলাইনে হলুদের কয়েকটি ছবি দেখা যাচ্ছে, যেসব গত জুনে পোস্ট করা। গত মার্চে স্বামী অপুর সঙ্গে কোনো রিসোর্টে গিয়েছিলেন। সেই ছবিগুলো এখনো জ্বলজ্বল করছে। মাহি এখনো রেখে দিয়েছেন ছবিগুলো।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মাহির সদ্য বিবাহিত স্বামী রাকিবের প্রথম সংসারের দুই সন্তান সোয়াইব ও সাইয়ারা। তবে মাহির বর্তমান স্বামী সরকার রাকিবের সঙ্গে তার প্রথম স্ত্রীর ডিভোর্স হয়েছে কি না সেটি এখনো জানা যায়নি।

কিন্তু বিভিন্ন সময়ে মাহির শরীরের অংশবিশেষের ছবি নিজের সঙ্গে ফেসবুকে পোস্ট করেছেন সরকার রাকিব। এমন সম্পর্কের কারণেই কি প্রথম সংসারের দাম্পত্য জীবনের অশান্তি নেমে এসেছে কি না- এমনটাই প্রশ্ন নেটিজেনদের। একইভাবে এই সম্পর্কের জেরেই কি প্রথম স্বামী অপুর সঙ্গে বিচ্ছেদের ঘটনা ঘটেছে কি না? সেই প্রশ্নও অনেকের।

তথ্য পাওয়া গেছে, সরকার রাকিবের আবাস গাজীপুরে। সদ্য বিয়ে করা স্ত্রী চিত্রনায়িকা মাহিকে নিয়ে তিনি গাজীপুরেই আছেন। সঙ্গে রয়েছে তার প্রথম সংসারের দুই সন্তানও। সরকার রাকিব বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ কেন্দ্রীয় উপকমিটির সদস্য। এ ছাড়া তিনি গাড়ি ব্যবসায়ী, ‘সনি রাজ কার প্যালেস’ নামের একটি প্রতিষ্ঠান রয়েছে তার।

রবিবার (১২ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত ১২টা ২৫ মিনিটে অর্থাৎ ১৩ সেপ্টেম্বর (সোমবার) ফেসবুকে নিজের বিয়ের ছবি মাহি নিজেই প্রকাশ করেছেন। যেখানে দেখা যাচ্ছে, বিয়ের মঞ্চে ব্যবসায়ী (বর) কামরুজ্জামান সরকার রাকিবের পাশে বসে আছেন কনে মাহি। অভিনেত্রীর কাছ থেকে কাবিননামায় স্বাক্ষর নেওয়া হচ্ছে।

বিয়ের বিশেষ এই মুহূর্তের ছবিটি প্রকাশ করে মাহি জানান, সোমবার (১৩ সেপ্টেম্বর) ১২টা ৫ মিনিটে তাদের বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়েছে।

এর আগে গত ১১ জুন দিবাগত রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুকে একটি ছবি পোস্ট করেন তিনি। সেখানে মেহেদি রাঙা হাত, কপালে ছোট লাল টিপ, নাকে ছিল নাকফুল, পরনে লাল কাতান শাড়িতে নববধূর মতোই সেজেছিলেন মাহি। ক্যাপশনে এই নায়িকা লিখেছিলেন, ‘আমি তোমাকে গানে, সিনেমায় এমনকি সব জায়গায় অনুভব করি, আলহামদুলিল্লাহ।’

মাহির ছবি ও ক্যাপশন দেখে তার ভক্তদের মাথা ঘুরপাক খেতে শুরু করে। কেননা সেই পোস্টটি তার বিয়ের দিকেই ইঙ্গিত করে। তবে রাকিবের সঙ্গেই বিয়ের বিষয়টি স্পষ্ট হয় ওই ছবির কমেন্ট বক্সে। সেখানে রাকিব কমেন্ট করেছিলেন, ‘কে তুমি?’ জবাবে মাহি লিখেছিলেন, ‘বউ’।

পরবর্তী সময়ে মাহির ফেসবুক স্ট্যাটাসগুলো আরো রোমান্টিক হয়ে ওঠে। ১৪ জুন লেখেন, ‘মিসিং ইউ।’ ১৮ জুন লেখেন, ‘আমি সারা দুনিয়া ঘুরিয়া দেখি, সুখ তো আমার ব্যালকনিতেই ছিল।’ এরপর লেখেন, ‘একজন কেউ থাকুক যে তোমাকে ছাড়বে না।’ তিনি লিখেছেন, ‘আমি ১২ বছরের সম্পর্ক ভেঙে যেতে দেখেছি, আবার ১২ দিনের সম্পর্ক আজীবন টিকে যেতেও দেখেছি।’

এখানেই শেষ নয়। জুন মাসের শেষ সপ্তাহে মাহি ফেসবুকে তিনবার লেখেন, ‘আলহামদুল্লিলাহ’। আগস্ট মাসের ৬ তারিখে আবারও একইভাবে লেখেন, ‘আলহামদুল্লিলাহ’। তার সেসব স্ট্যাটাসের কমেন্টবক্সে রাকিবও লিখেছেন ‘আলহামদুলিল্লাহ’।

ব্যক্তিজীবনে ২০১৬ সালের ২৫ মে সিলেটের ব্যবসায়ী পারভেজ মাহমুদ অপুকে বিয়ে করেছিলেন মাহিয়া মাহি।  মাহি লেখেন, ‘এই পৃথিবীর সবচেয়ে ভালো মানুষটার সঙ্গে থাকতে না পারাটা অনেক বড় ব্যর্থতা।’



সাতদিনের সেরা