kalerkantho

মঙ্গলবার । ৬ আশ্বিন ১৪২৮। ২১ সেপ্টেম্বর ২০২১। ১৩ সফর ১৪৪৩

পরীমনি ও নজরুল রাজের সম্পর্ক কী?

অনলাইন ডেস্ক   

৫ আগস্ট, ২০২১ ১৬:২৭ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



পরীমনি ও নজরুল রাজের সম্পর্ক কী?

পরীমনিকে গ্ল্যামার জগতে নিয়ে আসেন প্রযোজক নজরুল  ইসলাম রাজ। সিনেমায় নাম লেখানোর আগে দীর্ঘদিন তার কাছেই থাকতেন পরী। আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর নজরুল নিজের জেলার পরিচয়ে বেপরোয়া হয়ে ওঠেন। র‌্যাব সূত্র এসব তথ্য নিশ্চিত করেছে। 

র‌্যাব বলছে, পরীর গডফাদার হিসেবে পরিচিত নজরুল রাজ একেক সময় একেক পরিচয়ে চলাফেরা করেন। কখনো চিত্রপরিচালক, কখনো ব্যবসায়ী আবার কখনো রাজনীতিবিদ। প্রতারণার মাধ্যমে তিনি অঢেল টাকার মালিক বনে গেছেন।

বুধবার রাতে বনানীর বাসা থেকে বিপুল পরিমাণ মাদকসহ ঢাকাই সিনেমার আলোচিত চিত্রনায়িকা পরীমনিকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব। পরে তাকে র‌্যাব সদর দপ্তরে নেওয়া হয়। এদিন পরীমনি ও পিয়াসার গডফাদার হিসেবে পরিচিত রাজকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব।

নজরুল তার প্রতারণা ও পর্নো ব্যবসায় দুই তরুণীকে ব্যবহার করে আসছেন। এদের একজনের ডাক নাম সেমি এবং অপরজন কাঁকন। দুজনই তার সার্বক্ষণিক সঙ্গী। এ দুই তরুণীকে দিয়ে তিনি ব্ল্যাকমেইলিংয়ের কাজ করতেন। পাশ্চাত্য পোশাকে অভ্যস্ত সেমি এবং কাঁকনকে নিয়ে হাজির হতেন সরকারি কর্মকর্তাদের ফ্ল্যাটে অথবা বাসায়। একপর্যায়ে অনেকেই তাদের প্রেমে পড়ে যেতেন। যেকোনো মূল্যে তাদের সান্নিধ্য পেতে চাইতেন।

এমন দুর্বলতার সুযোগ কাজে লাগিয়ে সরকারি কাজ বা তদবিরের টোপ ফেলতেন নজরুল। কোটি টাকা ঘুষের চেয়ে দ্রুততার সঙ্গে তার কাজ হয়ে যেত। এ ছাড়া এ দুই তরুণীকে ব্যবহার করে তিনি ক্যাসিনো সম্রাট ইসমাইল চৌধুরীর কাছাকাছি পৌঁছে যান। ঠিকাদারি কাজের ডন হিসেবে পরিচিত জিকে শামীমের সঙ্গেও তার সখ্য গড়ে ওঠে। সম্প্রতি তিনি জিকে শামীমকে কারাগারে বিশেষ সুবিধা পাইয়ে দিতে তদবির করছিলেন। শামীমের বোন সুবর্ণা মুস্তাফার সঙ্গে তিনি প্রতি সপ্তাহে নানা বিষয়ে সলাপরামর্শ করেন।

নজরুলের বেশ কয়েকটি ব্যাংক হিসাবের সন্ধান পাওয়া গেছে। এর মধ্যে ১৪টি হিসাবে ৯ কোটি টাকা লেনদেনের তথ্য পেয়েছে র‌্যাব। অবশ্য ব্যাংকের বাইরেও তার হাতে বিপুল পরিমাণ নগদ টাকা রয়েছে।

পরীমণিকে আটকের পর বুধবার রাতে বনানীর ৭ নম্বর রোডে প্রযোজক নজরুল ইসলাম রাজের বাসায় অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করে র‌্যাব। তদন্ত-সংশ্নিষ্ট সূত্র জানায়, পরীমনিকে জিজ্ঞাসাবাদের পর নজরুল ইসলাম রাজের নামটি সামনে চলে আসে। তার সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক পরীমনির। একাধিক সময় ফেসবুক লাইভে কথা বলার সময় রাজ অভিনেত্রীর পাশে ছিলেন। 

 রাত ৮টা ১০ মিনিটে পরীমণিকে তাঁর বাসা থেকে একটি সাদা মাইক্রোবাসে র‌্যাব সদর দপ্তরে নিয়ে যাওয়া হয়। ৮টা ৪৫ মিনিটে গাড়ি কুর্মিটোলায় র‌্যাব সদর দপ্তরে পৌঁছায়। সেখানে রাত ১২টা পর্যন্ত পরীমনিকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে র‌্যাব।

পরীমনিকে আটকের পর র‌্যাব গত রাত সাড়ে ৮টার দিকে আলোচিত প্রযোজক ও অভিনেতা নজরুল ইসলাম রাজের বাসায়ও অভিযান চালায়। অভিযান চলে রাত ১০টা ১৫ মিনিট পর্যন্ত।

অভিযানে রাজের বাসা থেকে মাদক ও সিসা সেবনের সরঞ্জাম জব্দ করা হয়। রাত ১০টার দিকে গণমাধ্যমকর্মীদের সামনে জব্দ করা মালপত্র নিয়ে আসা হয়। পরে রাজ ও তাঁর দুই সহযোগীকে আটক করে র‌্যাব সদর দপ্তরে নিয়ে যাওয়া হয়।

এর আগে গতকাল বিকেল ৪টার দিকে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেইজ থেকে লাইভে এসে পরীমনি জানান, তাঁর বাসায় কে বা কারা প্রবেশের চেষ্টা করছে। সিভিল পোশাকে এসে কেউ তাঁর বাসার দরজা খোলার জন্য বলছে। তাদের পরিচয় জানতে চাইলেও তারা পরিচয় দিচ্ছে না। একেকজনের একেক রকম পোশাক, চেহারা। তিনি আতঙ্কিত।



সাতদিনের সেরা