kalerkantho

বুধবার । ৭ আশ্বিন ১৪২৮। ২২ সেপ্টেম্বর ২০২১। ১৪ সফর ১৪৪৩

‘সুরক্ষায় থাকুন, সুস্থ থাকুন’ লাইভ

দৃশ্যগুলো করার সময় মানসিক ও শারীরিকভাবে বিধ্বস্ত হতাম : বাঁধন

অনলাইন ডেস্ক   

২ আগস্ট, ২০২১ ১০:৪৪ | পড়া যাবে ১২ মিনিটে



দৃশ্যগুলো করার সময় মানসিক ও শারীরিকভাবে বিধ্বস্ত হতাম : বাঁধন

কালের কণ্ঠ ও বীকনের যৌথ উদ্যোগে 'সুরক্ষায় থাকুন, সুস্থ থাকুন' স্লোগানে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম ফেসবুকে লাইভ অনুষ্ঠান হয়েছে। গতকাল রবিবার সন্ধ্যা ৭টায় অনুষ্ঠানটি শুরু হয়ে প্রায় এক ঘণ্টা ধরে চলে। কালের কণ্ঠের ফেসবুক পেইজ, ইউটিউব ও কালের কণ্ঠের ওয়েবসাইটে অনুষ্ঠানটি সরাসরি দেখানো হয়।

'সুরক্ষায় থাকুন, সুস্থ থাকুন' শিরোনামের এ অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আজমেরী হক বাঁধন এবং সঞ্চালনা করেছেন কালের কণ্ঠ'র সহকারী ফিচার সম্পাদক দাউদ হোসাইন রনি। অনুষ্ঠানটি স্পন্সর করেছে হাইজিনেক্স।

আজমেরী হক বাঁধন একজন অভিনেত্রী ও মডেল। বাংলাদেশ মেডিক্যাল কলেজ থেকে পড়াশোনা শেষ করে ২০০৬ সালে দেশীয় একটি সৌন্দর্য প্রতিযোগিতায় রানারআপ হয়ে ক্যারিয়ার শুরু করেন। এরপর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। সম্প্রতি 'রেহানা মরিয়ম নূর' নামের একটি সিনেমায় নাম ভূমিকায় অভিনয় করে বাজিমাত করেন আজমেরী হক বাঁধন। তাঁর ছবি 'রেহানা মরিয়ম নূর' প্রদর্শিত হয়েছিল কানে 'আঁ সেত্রা রিগা' বিভাগে। এই প্রথম কোনো বাংলাদেশি ছবি কানের মতো আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে প্রদর্শনের আমন্ত্রণ পায়। বাঁধনও প্রথম বাংলাদেশি অভিনেত্রী, যিনি কানের রেড কার্পেটে হাঁটেন।

কালের কণ্ঠ : বাঁধন কেমন আছেন?

আজমেরী হক বাঁধন : আমি ভালো আছি। আপনি কেমন আছেন?

কালের কণ্ঠ : আমি বেশ ভালো আছি। তবে এই করোনাভাইরাস মহামারির সময়ে ভালো থাকাটা একটু আপেক্ষিক ব্যাপার। নিজেদের সুস্থ ও সুরক্ষিত রাখাটা একটু কঠিন, আমরা সেই সময়টা পার করছি। আপনার কাছে জানতে চাই, আপনি এই সময়টা কিভাবে কাটাচ্ছেন?

বাঁধন : প্রথমে ধন্যবাদ জানাই এ জন্য যে, আপনি সুন্দর করে আমার ব্যাপারে ইন্ট্রো দিয়েছেন। আপনি আমাকে সুন্দরভাবে অবজার্ভ করেছেন। এত সুন্দর করে ভেবে বলেছেন এবং আমাকে আপনাদের সঙ্গে কানেক্ট করার জন্য ধন্যবাদ। এই সময়টা তো আসলে আমরা সবাই স্ট্রেসের মধ্য দিয়ে কাটাচ্ছি। নিজেকে সুস্থ রাখা এবং পরিবার পরিজন সুস্থ আছে, এটাই আসলে অনেক বড় ব্যাপার এবং আশেপাশে যারাই আছেন, আসলে সুস্থতাই এখন সবচেয়ে বড় ব্যাপার; নিরাপত্তা এবং সুস্থতা। এখন আমি বাসায় আছি এবং যেহেতু লকডাউন চলছে, আমার ওইভাবে কোনো কাজ নেই। যে ইন্টারভিউগুলো দিচ্ছি, যে কাজগুলোই করছি, বাসা থেকে জয়েন করছি। যেহেতু আমাদের টেকনোলজি অনেক এগিয়ে গেছে। গত এক বছরে আমরা অনেক বেশি টেকনোলজিনির্ভর হয়ে গেছি। সেটার ওপর নির্ভর করেই চলছি এই কদিন। এই আর কি। চেষ্টা করছি যতটা সম্ভব নিজেকে নিরাপদ রাখার, পরিবারের মানুষকে নিরাপদে রাখার।

কালের কণ্ঠ : আপনার ছবি রেহানা মরিয়ম নূর, আপনার, সাদের, আপনার টিমের সবার ছবি। সেই ছবি, বাংলাদেশের ছবি, প্রথমবারের মতো কানে গেল। সেখানে গিয়েও কিন্তু আপনি কোয়ারেন্টিনে ছিলেন। সেখানে কেমন কোয়ারেন্টিন ছিলো? আমাদের এখানে যেভাবে কোয়ারেন্টিন হয় সেরকমই নাকি, সেখানে আরো বেশি কড়াকড়ির ব্যাপার ছিল কি? নাকি সারাবিশ্বে একই রকম পরিস্থিতি?

বাঁধন : প্রথমত হচ্ছে- এই সিনেমাটা আমাদের সবার। অবশ্যই এটা আমাদের টিমের অর্জন। কিন্তু এই অর্জন আমাদের দেশের সবার এবং এটা আমাদের দেশের সবার সিনেমা, এটা বাংলাদেশের সিনেমা। দ্বিতীয়ত, কোয়ারেন্টিনে যেটা হয়েছে- আমাদের যাওয়ার আগে প্রচণ্ড স্ট্রেস ছিল। আমাদের ভিসা হবে কি না, ট্রাভেলিং এতো রেস্ট্রিক্টেড ছিল, তারপর ওখানে গিয়ে আমাদের ১০ দিন কোয়ারেন্টিন করতে হবে। একদম অ্যাম্বাসি থেকে আমরা আসলে ওই ফর্মে সিগনেচার করেই গিয়েছিলাম। আমরা আসলে চেষ্টা করেছি, যেভাবে আমাদেরকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে সেটা মেনে চলতে। এজন্য আমরা আসলে খুব বেশি বাইরেও যাইনি খুব দরকার না হলে। আমাদের যে প্রডিউসার এহসানুল হক বাবু, সে হয়তো খুব বেশি দরকার হলে একদিন দুইদিন বাইরে গেছে। তাও খুব সেফটি এবং সিকিউরিটি মেইনটেইন করে গেছে। যেখানে আসলে না গেলেই না এরকম পরিস্থিতিতে। কিন্তু আমরা চেষ্টা করে গেছি- যেভাবে আমাদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, যেহেতু আমরা এতো বড় রেসপনসিবিলিটি নিয়ে ওখানে গিয়েছি এবং আল্লাহ না করুক, কারো যদি আসলে পজিটিভ চলে আসতো, তখন আমরা কেউই ফেস্টিভ্যালে যোগ দিতে পারতাম না। ওই ভয়টা ছিল। আমরা আসলে ১০দিন বাসাটাতেই ছিলাম। প্যারিসে সুন্দর একটা বাসায় ছিলাম আমরা। পেছনে খোলা জায়গা ছিল, সামনে লন ছিল। ওইখানেই থেকেছি এবং ১০ দিন কিভাবে কেটে গেছে আমরা আসলে বুঝতেই পারিনি। সবাই একসাথে ছিলাম। আর এই টিমটার সাথে তো আমি অনেকদিন ধরে কাজ করেছি, একসাথে রিহার্সেল করেছি; ওদের সঙ্গে আমার আলাদা আন্ডারস্ট্যান্ডিং আছে। ওদের ওদের আলাদা আন্ডারস্ট্যান্ডিংতো আছেই। ওরা সবাই আসলে বন্ধু। যার জন্য খুব বেশি আসলে আমাদের সমস্যা হয়নি।

কালের কণ্ঠ : ওই কোয়ারেন্টিন থেকে যখন প্রিমিয়ারে যান, তার আগ পর্যন্ত আমরা আপনার বিভিন্ন ছবি দেখেছি ফেসবুকে। ওই সময় আপনার মানসিক অবস্থা, আপনার ছবি বা এক্সপ্রেশন আমরা যা দেখলাম; প্রিমিয়ারের পরে আপনার কান্নার দৃশ্য আমরা দেখতে পেলাম, সারা বাংলাদেশের মানুষ দেখলো, সারা পৃথিবীর মানুষ তো দেখলো, বাংলাদেশের মানুষ বেশি করে দেখলো, কারণ, বাঁধন আমাদের মেয়ে। সেই কান্নার সময়ে আসলে আপনার মনের মধ্যে কী চলছিল?

বাঁধন : আসলে সত্যি কথা কি, আমাদের এখানে কেউ যেহেতু সিনেমাটা এখনো দেখেনি, তারা অনেকেই হয়তো বুঝতে পারবে না। কাজের প্রসেসটাই আমার জন্য ভীষণ পেইনফুল ছিল। সিনেমাটা একদম এরকমের না যে, এটা দেখে মানুষের খুব আনন্দ হবে। সে কারণে সিনেমাটা দেখাটাই মানুষের কাছে এক ধরনের স্ট্রেস।  আমি পুরো সিনেমাটা একসাথে দেখিনি। যেহেতু আমাদের লোকেশন সাউন্ড নেওয়া হয়েছে। আমার ডাবিংয়ের জন্য যেতে হয়নি। দুয়েকটা লাইন একটু আমাকে গিয়ে দিতে হয়েছে। আমাকে সাদ আসলে পুরো সিনেমাটা একসাথে দেখতেও দেয়নি। কারণ, ওইটা দেখাও আমার জন্য ভীষণ পেইনফুল। আমরা যখন রিহার্সেল করেছি, রিহার্সেলেও আমার ব্রেকডাউন হয়েছে। শুটিংয়ের সময়েও তিন-চারটা দৃশ্য রয়েছে, যেগুলো ধারণ করার সময় একদিনে একটা দৃশ্যই হতো এবং ওই দৃশ্যগুলো করার সময় আমি মানসিক এবং শারীরিক ভীষণভাবে বিধ্বস্ত হতাম। সেই ইফেক্টটা আমাদের পুরো ইউনিটে পড়তো। ওই ধরনের দৃশ্য আবার স্ক্রীনে দেখা, নিজের কষ্টটা আবার দেখা, রেহানাকে আবার দেখা আমার জন্য অনেক পেইনফুল ছিল। তো আমি পুরো সিনেমাটা যখন দেখছিলাম, তখন এমনিতেই আমি কান্না করছিলাম। শুধু আমি না, ওখানে তো আসলে আমরা কেউই ওই ঘটনার জন্য প্রস্তুত ছিলাম না, যেটা আসলে প্রিমিয়ারের পরে ঘটেছে। ওখানে আমি অনেকের ফোঁপানো কান্নার শব্দ শুনতে পাচ্ছিলাম। কারণ, পর্দার রেহানা-বাঁধন এবং ওখানে বসে থাকা দর্শক আসলে মিলেমিশে একাকার হয়ে যাচ্ছিল। আমি তো কান্না করছিলামই আর শেষ দৃশ্যটা হচ্ছে আমাদের সিনেমার সবচেয়ে আলোচিত দৃশ্য। যাদের সাথে আমার দেখা হয়েছে, যতো বড় বড় ডিরেক্টর বলেন আক্টর বলেন কিংবা ওখানে যারা দর্শক ছিল, সবচাইতে বেশি যে দৃশ্যটা নিয়ে সবাই কথা বলেছেন; সেটা শেষ দৃশ্য। যেটা খুবই ভয়ংকর; আমার জন্য তা দেখা, করতে পারাটা এবং ওই কষ্টটা, তো আমি ওইটার ভেতরেই ছিলাম। সেই অবস্থায় লাইটটা যখন পড়েছে আমাদের ওপর, সবাই আসলে হইচই করা শুরু করেছে, সবাই দাঁড়িয়ে গেছে, এতোগুলো মানুষ যখন একসাথে দাঁড়িয়েছে, ওই শব্দটা এবং আমি যেদিকে তাকাচ্ছি সবাই শুধু আরো জোরে চিৎকার করছে। একে তো আমার প্রচণ্ড কষ্ট হচ্ছিল, সাথে আমার পুরো জীবন এক সেকেন্ডের মধ্যে ভেবে চলে এসেছি। আমার সমস্ত সাফারিং, আমার সঙ্গে ঘটে যাওয়া সমস্ত ইনজাস্টিস, আমার সাফোকেশন, রেহানার সাফোকেশন- সবকিছু  একাকার হয়ে গেছে। তার সাথে আরেকটা জিনিস অ্যাড হয়েছে, সেটা অর্জনের আনন্দ। আমার কাছে মনে হয়ে যে, ওরা সবাই মিলে আমার দেশকে সম্মান দিচ্ছে। ওই মুহূর্তে আমার আরো কান্না পাচ্ছিল। আমি আসলে কী এক্সপ্রেস করবো, বুঝতে পারছিলাম না। আমি যেদিকে তাকাচ্ছি, হাত নাড়ছি, সবাই জোরে জোরে চিৎকার করছে। যেই মুহূর্তের ভিডিও আপলোড হয়েছে, সেটা কিন্তু একেবারে শেষের মুহূর্তের ভিডিও। কারণ, ওখানে যারা সাংবাদিক ছিলেন, কিংবা আমাদের টিমের যারা ছিলেন, আমরা সবাই হতবাক হয়ে তাকিয়েছিলাম- এটা আসলে কী হচ্ছে! আমরা বুঝতে পারিনাই যে, এতো ভালোভাবে বা এইভাবে আমাদের সম্মানিত করবে কানের দর্শক। কারণ, ওনারা কিন্তু আসলে ইংলিশটাও ঠিক করে বোঝেন না। ওখানে সাবটাইটেল ইংলিশ এবং ফ্রেঞ্চ ছিল। তবে সাবটাইটেল দেখে একটা সিনেমার সঙ্গে এইভাবে নিজেকে কানেক্ট করে ফেলাটা আমার কাছে মনে হয়েছে খুবই রেয়ার। আমি যখন সিনেমা দেখি, সাবটাইটেল দেখে সিনেমা বোঝার জন্য মিনিমাম দুইবার সিনেমা দেখতে হয় গভীরভাবে বোঝার জন্য। সে কারণে আমার ভালো লাগাটা অন্য লেভেলে ছিল। অর্জনের খুশি আর সাথে অনেক কিছু মিলে এমনটা হয়েছে। আর কিছুই না। এতো অসম্মানিত হয়েছি সারাজীবন, ওই সম্মানটা হয়তো এক্সপ্রেস করেছি কান্না দিয়ে। কিন্তু এটা আমার জীবনের বড় একটা অর্জন।

কালের কণ্ঠ : উৎসবের বাকি দিন যে কয়টা ছবি দেখেছি আপনার, যে ভিডিওগুলো দেখেছি; সেই সময়ে বাঁধনের চেহারা, এক্সপ্রেশন, হাসিমুখ আর আগের চেহারা, এক্সপ্রেশন, হাসিমুখ আকাশ-পাতাল পার্থক্য। গত দুই বছর ধরে আপনি এই সময়টার জন্যই অপেক্ষায় ছিলেন।

বাঁধন : আমি এই সময়টার জন্য অপেক্ষায় ছিলাম না আসলে। এই সময়টার জন্য অপেক্ষার সাহসও আমার কোনো দিন ছিল না। এই সম্পূর্ণ অর্জনের পুরো কৃতিত্ব আমার ডিরেক্টরের এবং আমার পুরো টিমের। টিমের প্রত্যেকটা মেম্বারের এই কৃতিত্ব। তবে আপনি অনেক গভীরভাবে অবজার্ভ করেছেন। আমার অ্যানাউন্সের দুইদিন পর থেকে ভীষণ ব্রেকডাউন হচ্ছিল। আমি ডিপ্রেশনের পেশেন্ট। আমি অ্যান্টি-ডিপ্রেশন খাওয়াও শুরু করেছিলাম। প্রিমিয়ারে যাওয়ার আগে আমি মেকাপ করতে পারিনি, চোখে কাজলও দিতে পারিনি। প্রিমিয়ার হয়ে যাওয়ার পর আমাকে অনেক বুস্টআপ করেছে। 

কালের কণ্ঠ: আপনার পাশে সাদকে একেবারে বিপরীত দেখাচ্ছিল। সাদ একেবারে শান্ত, শুধু হাত একবার উঠাতে দেখা গেছে।
 
বাঁধন: ও মোটেই শান্ত না। ওর রিঅ্যাকশন আমার কাছে খুবই অবাক করা ছিল। কারণ, ও সাধারণত এরকম না। আমি পরে দেখে অবাক হলাম। ঠিক আছে, যে যার মতো করে এক্সপ্রেস করেছে আসলে। কারণ, সবাই মিলে তো আসলে এরকম করা যাবে না।

কালের কণ্ঠ:

বাঁধন,  এই রেহানা মরিয়ম নূর নিয়ে আপনি পুরো কৃতিত্ব সাদকে দিচ্ছেন এবং সাদ এমনই একজন পারসন আমাদের গণমাধ্যমের সঙ্গে উনি কথা বলতে একদমই স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন না। আপনি সাদের কাছ থেকে এতো কিছু শিখলেন, অনেক চেতনা তার মধ্যে থেকে আপনার মধ্যে এসেছে, ফিল্মি জ্ঞান- কাজ করার যে নতুন ধরন তার কাছ থেকে আপনি শিখলেন; আপনি সাদকে কিছু শেখাননি যে, কিভাবে মিডিয়া হ্যান্ডেল করতে হয়? আপনি তো এই ব্যাপারে অনেক সাবলীল।

বাঁধন : আমি কাউকে কিছু শেখাতে জানি না। আমি মনে করি যার যার নিজস্বতা আছে। ও হয়তো ওইভাবেই স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করে। ও ওইটা থেকে হয়তো বের হতে চায় না। আমি যেমন মনে করেছি, আমার এই জায়গাটা পরিবর্তন করা দরকার। আমি যখন ওর বা ওর টিমের সান্নিধ্যে এসেছি, আমার ওই জায়গাগুলোর পরিবর্তন করেছি, সেটা আমার প্রয়োজনে করেছি। কারণ, আমি প্রয়োজন মনে করেছি। এখন ও যদি প্রয়োজন মনে না করে এবং সেটা যদি তার ব্যক্তিগত পছন্দ হয়; এটা একান্তই তার ব্যাপারে। এটা নিয়ে আসলে আমার বলার কিছু নাই যে, আরেকজন কেন এই রকম বা কেন শিখবে না। আমি আসলে শেখাতে পারিনি।

কালের কণ্ঠ : উনার লাইভ ফ্রম ঢাকা যখন রিলিজ করে, তখন উনাকে কয়েকবার ফোন দিলে তিনি ফোন ধরেননি। রেহানা মরিয়ম নূরের সময়ও ধরেননি।

বাঁধন: আমি লাইভ ফ্রম ঢাকার সময় মাত্র আমাকে কাস্ট করা হয়েছে দুই আড়াই মাস হয়েছে। আমি একদিন-দুইদিন গিয়েছি এরকম বা একদিন-দুইদিন রিহার্সেল করেছি এরকম। ওই সিনেমা দেখার পরই আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছি- আমি আসলে আর কিছু করবো না। আমি জীবন দিয়ে কাজটাই করতে চাই। যখন ওইটা চার-পাঁচদিন মাত্র হলে থাকলো এবং এটা মানুষ দেখতে পারলো না, এই আফসোসে আমি মারা যাচ্ছিলাম। ওদের এটা নিয়ে কোনো মাথাব্যথাই ছিল না। স্পেশালি সাদের কথা হচ্ছে যে- যে কয়জন দেখেছে, তাতেও ও অনেক খুশি নাকি। ওর কথা হচ্ছে- ওই কয়েকজন মানুষ কতদিন এই সিনেমাটার কথা মনে রাখবে, সেটা ওর কাছে গুরুত্বপূর্ণ।সিনেমাটা ওই মানুষের মাথায় কয়টা প্রশ্ন জাগিয়ে তুলবে সেটা ওর কাছে ইম্পরটেন্ট। একেজনের ফিলোসফি একেক রকম। ওই সময়ে এইসব কথা আমার কাছে খুবই আজগুবি মনে হয়েছে, এখন আর মনে হয় না। কারণ, এখন আমি যখন অন্য মানুষদের দেখি এবং অন্য মানুষদের পড়ি। আমার মনে হয়- একেক জনের একেক ধরনের স্বকীয়তা থাকতে পারে। আমার কাছে মনে হয়- কেন দেখবে না এতো সুন্দর একটা সিনেমা, এতো ভালো একটা কাজ মানুষ কেন দেখবে না। মানুষ আসলে সবাই তো একই রকমের হবে না। এটা ওর ব্যক্তিগত ব্যাপার। 



সাতদিনের সেরা