kalerkantho

রবিবার । ১১ আশ্বিন ১৪২৮। ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২১। ১৮ সফর ১৪৪৩

ওপার বাংলা থেকেও অভাবনীয় সাড়া পাচ্ছি : ফারহান

মাহতাব হোসেন   

২৮ জুলাই, ২০২১ ১৩:৩১ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



ওপার বাংলা থেকেও অভাবনীয় সাড়া পাচ্ছি : ফারহান

মুশফিক আর ফারহান

আপনি যদি কঠোর পরিশ্রম করেন, সেটা কখনো বৃথা যাবে না। কথাটা হয়তো বহুল প্রচলিত, তবে আমি খুব গভীরভাবে বিশ্বাস করি আপনি যদি পরিশ্রম করতে থাকেন, করতেই থাকেন তাহলে সৃষ্টিকর্তা কোনো একটা কাজে আপনাকে সফলতা দেবেন। তিনি বিমুখ করবেন না। আমি চোখ বন্ধ করে কাজটা করে গেছি। পরিশ্রম করেছি। এখন মানুষ যখন বলছে, মানুষ যখন আমার কাজ নিয়ে কথা বলছে, তখন মনে হচ্ছে, আমি এই দিনটির জন্যই অপেক্ষা করছিলাম।- কথাগুলো বলছিলেন এ সময়ের জনপ্রিয় অভিনেতা মুশফিক আর ফারহান।

ঈদের বেশ কয়েকটি নাটক নিয়ে ফারহান এখন আলোচনার তুঙ্গে। নেটিজেনদের মতে, এবারের ঈদ ফারহান প্রায় একাই দখল করে ফেলেছেন। 

এবারের ঈদে মুশফিক আর ফারহান অভিনীত পাঁচটি নাটক প্রচার হয়েছে । এর মধ্যে রয়েছে মাবরুর রশিদ বান্নাহর সুইপারম্যান, কালাই ও ম্যাডম্যান, মোস্তফা কামাল রাজের স্যাক্রিফাইস ও লাইফলাইন, মাহমুদ মাহিনের ডন বি কুয়াইট। এ ছাড়া প্রায়  আরো পাঁচটির মতো নাটক শুটিং শেষ করতে না পারায় ঈদে আসেনি। যদিও সেগুলো ঈদকে মাথায় রেখেই শুটিং শুরু করেছিলেন। কিন্তু করোনার সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় শুটিং শেষ করা সম্ভব হয়নি। 

তবে ফারহানের কেল্লা ফতেহ হয়েছে সুইপারম্যান ও কালাইয়ে। এ দুটি নাটক ভিন্ন আবহে প্রবাহিত হয়েছে। একেবারে বিপরীতধর্মী চরিত্র হলেও দুটি জায়গায়ই সপ্রতিভ ছিলেন ফারহান। কালাই নাটকে প্রিয় ছাগল কালাইকে বিক্রি করে দেওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হলে মাত্র ১৩ হাজার টাকায় ছাগলটিকে বিক্রি করে দেন প্রেমিকার বাবার কাছে। আর প্রেমিকাকেও ছাড়তে হয় ছাগলের কারণে। এক হৃদয়বিদারক ঘটনার গল্প, মুশফিক আর ফারহান যেখানে সাবলীল।

অন্যদিকে মুশফিক আর ফারহানকে একেবারে আলাদা পরিচয় করিয়ে দিয়েছে সুইপারম্যান। নাটকটি নিয়ে আশাবাদী ছিলেন মাবরুর রশিদ বান্নাহ। ঈদফের আগেই বলেছিলেন, এই নাটকে এমন কিছু রয়েছে, যা দর্শকদের বাম নিলয়ে দোলা দিয়ে যাবে। বান্নাহর কথাই ঠিক। মুশফিককে নিয়ে প্রত্যাশা পূরণ হয়েছে বান্নাহর। এই নাটক শুধু বাংলাদেশ নয়, ভারতেও বাংলাভাষাভাষীদের কাছে সমাদৃত হয়েছে। 

ফারহান বলেন, শুধু বাংলাদেশ থেকে নয়, ভারত থেকেও প্রচুর রেসপন্স পাচ্ছি। প্রচুর প্রশংসামূলক মেসেজ পাচ্ছি। এটা আমাকে আশাবাদী করে তুলছে। হয়তো আমি কিছুটা পেরেছি। হয়তো মানুষের মনে স্থান দখল করে নিয়েছে নাটকগুলো।

সুইপারম্যান নাটকের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করতে গিয়ে ফারহান বলেন, ভাই ঢাকায় যারা বসবাস করে তারা কেউ কেউ ম্যানহোলে পড়ে। যারা ম্যানহোলে পড়ে তারা বোঝে ব্যথা কী জিনিস। আর যারা ম্যানহোলে ডুব দেয়? তাদের অবস্থা কী চিন্তা করতে পারেন? ম্যানহোলে ডুব দেওয়ার পর শরীরের ব্যথায় আমি সাত দিন ঘুমাতে পারিনি। আমরা যারা একটু ভালো থাকি তারা ওই সব মানুষের পরিশ্রম নিয়ে ভাবতে চাই না। সুইপার শ্রেণির মানুষদের কষ্ট আমি হাড়ে হাড়ে টের পেয়েছি। 

নির্মাতা মাবরুর রশিদ বান্নাহ প্রসঙ্গে ফারহান বলেন, বান্নাহ ভাই বলেছিলেন, তুই কষ্ট কর। এটা বৃথা যাবে না। বান্নাহ ভাইয়ের ওপর আমার আস্থা ছিল। তাই আমি দ্বিধা করিনি। শুধু যে ম্যানহোলে ডুব দিয়েছি তাই নয়। এমন এমন জায়গায় বান্নাহ ভাই শুটিং ঠিক করেছিলেন, কী বলব। শুটিং ছিল একটা বস্তিতে। মেক আপ নেওয়ার জায়গা নেই। এমন এক জায়গায় বসেছি, সেখানে সাত দিনের একটা বাছুর লাফাচ্ছে, খাচ্ছে, প্রস্রব-পায়খানা করছে। কিন্তু আমরা করেছি শেষ পর্যন্ত কাজটা সফলভাবে শেষ করেছি।

সাথী নামের একজন মন্তব্য করেছেন, 'অনেক দিন পর মনে হলো, সত্যি কিছু একটা পেয়েছি বাংলা নাটক থেকে। আমার তো দৃষ্টিভঙ্গি বদলেছে, আর আপনার।'  তানি নামের একজন লিখেছেন, 'ফারহান ভাইয়ার জন্য রিসপেক্ট বেড়ে গেল, অসাধারণ অভিনয় এই ক্যারেক্টার করার জন্য মানসিকভাবে স্ট্রং হতে হয়। ধন্যবাদ পরিচালককে।'  আলভি নামের এক তরুণের নানা নাটকটি দেখেছেন। কেঁদে ফেলেছেন তিনি। আলভি বলেন, 'ভাই আমার নানা এটা দেখতে দেখতে কেঁদে দিছে, এ রকম নাটক খুব কমই পাওয়া যায় এখন।' 

সুইপারম্যান নাটকের প্রযোজক তানভীর মাহমুদ অপু বলেন, 'আমি প্রথমে বুঝেছিলাম দারুণ কিছু হতে যাচ্ছে। আর ফারহান ভাই আমার খুব পছন্দের অভিনেতা। বান্নাহ ভাইয়ের ওপর আমার আস্থা আছে। সব মিলিয়ে সুইপারম্যান নাটকটি দারুণ হয়েছে। মানুষ শুধু নায়ক-নায়িকা আর পরিচালককে যে অভিনন্দন জানাচ্ছে তা নয়, প্রযোজক হিসেবে আমাদেরকেও স্মরণ করছে।'

তানভীর জানান, ভারতীয় অংশ থেকে খুব অল্পসংখ্যক বাঙালি আমাদের নাটক দেখেন, যেটা বড়জোর ৬ শতাংশ হয়। কিন্তু সুইপ্যারম্যান নাটক ভারতীয় অংশ থেকে দেখছেন আরো বেশি। 

মুশফিক আর ফারহান এ প্রসঙ্গে বলেন, আমি ওপার বাংলার মানুষদের বেশ মেসেজ পাচ্ছি। একেকজন আবেগ নিয়ে লিখছেন। সত্যি বলতে কী, আমি ভাষায় প্রকাশ করতে পারব না। পশ্চিমবঙ্গ, আসাম, ওড়িশা, বেঙ্গালুরু ও দিল্লিতে বসবাসকারী বাঙালিরাও নাটকটি দেখছে। অন্তত আমার কাছে আসা মেসেজ থেকে বলতে পারি।

অভিজিৎ গাঙ্গুলী নামে একজন লিখেছেন, ‘আমি কলকাতার দমদমে থাকি। এই নাটক দেখে আমার খুব ভালো লাগল! সমাজে দারুণ একটি বার্তা। ১০-এ ১০ দিলাম। সবার অভিনয় অসাধারণ।’ ফারহানের অভিনয়ে মুগ্ধতা প্রকাশ করেছেন অনেকে। মাসুদ নামে একজন লিখেছেন, ‘ফারহান ভাইয়ের কিছু নাটকের জন্য তাকে সত্যি অ‌্যাওয়ার্ড দেওয়া উচিত। আপনাকে ভালোবাসি।’

সুইপারম্যান নাটকটি প্রচারিত হয়েছে সুলতান এন্টারটেইনমেন্টের মাধ্যমে। অন্যদিকে কালাই মুক্তি পেয়েছে ধ্রুব টিভিতে।



সাতদিনের সেরা