kalerkantho

শুক্রবার । ১৫ শ্রাবণ ১৪২৮। ৩০ জুলাই ২০২১। ১৯ জিলহজ ১৪৪২

ধর্ষণ ও হত্যাচেষ্টা সম্পর্কে যা বললেন পরীমণি

অনলাইন ডেস্ক   

১৪ জুন, ২০২১ ০০:০৩ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ধর্ষণ ও হত্যাচেষ্টা সম্পর্কে যা বললেন পরীমণি

দেশের জনপ্রিয় অভিনেত্রী পরীমণিকে ধর্ষণ ও হত্যাচেষ্টা করা হয়েছে এবং তাকে ধর্ষণ করতে না পেরে মেরে ফেলার হুমকিও দেওয়া হয়েছে। এ অবস্থায় তিনি জীবনের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত। আজ রবিবার রাতে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।

অবশেষে ধর্ষণচেষ্টাকারীর নাম জানালেন ঢালিউডের আলোচিত নায়িকা পরীমণি। নিজের বাসায় গণমাধ্যমকর্মীদের সামনে এক সংবাদ সম্মেলনে এ নিয়ে বিস্তারিত জানান।

পরীমণি জানান, তার কস্টিউম ডিজাইনার জেমির অমি নামের এক ব্যাবসায়িক বন্ধুর সঙ্গে দুই বছর আগের পরিচয়। তাদের প্রায়ই যোগাযোগ হতো। সেই সূত্রে গত বুধবার রাতে অমির কথায় জেমিকে নিয়ে অমির সঙ্গে ব্যবসার কথা বলবেন বলে বাসা থেকে বের হন। পরে অমি তাদেরকে উত্তরার আশুলিয়া বোর্ড ক্লাবে নিয়ে যান। সেখানে নাছিরউদ্দিন মাহবুব নামে এক বয়স্ক লোকের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেন অমি। পরে তাদের কথামতো ইয়াবা মেশানো কফি  ও মদ পান না করায় পরীমণি ও তার কস্টিউম ডিজাইনারের ওপর শারীরিকভাবে নির্যাতন করা হয়েছে। এ সময় ক্লাব নীরব ছিল এবং লাইটগুলো নিভিয়ে দেওয়া হয়েছিল বলে জানান পরীমণি। একপর্যায়ে মদের বোতল জোর করে মুখে ঢুকিয়ে দেন। চারজন মদ্যপ ব্যক্তি পরীমণিকে শারীরিকভাবে নির্যাতন করেন। চড়-থাপ্পড় মারেন। একপর্যায়ে ধর্ষণের চেষ্টাও করেন তারা।

পরীমণি আরো জানান, এ ঘটনার পর তারা রাতেই বনানী থানায় যান। সেখানে অভিযোগ দিতে গেলে পুলিশ তাদের টেস্টের জন্য হাসপাতালে যেতে বলেন। পরে পরীমণি রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে যাওয়ার পথে কিছুটা সুস্থবোধ করলে বাসায় চলে আসেন।

এর আগে রবিবার সন্ধ্যা ৭টা ৫৩ মিনিটে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দেন পরীমণি, যা নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় তোলপাড় চলছে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে বিচার চেয়ে ওই স্ট্যাটাসের শুরুতে এ নায়িকা লেখেন, ‘আমাকে রেপ এবং হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে। আমি শারীরিক নির্যাতনের শিকার হয়েছি। আমি এর বিচার চাই।’

স্ট্যাটাসের পরপর গণমাধ্যমকর্মীরা এ বিষয়ে জানতে তাকে ফোন করলে তিনি বলেন, আপনারা বাসায় আসেন। সব বলব। ফোনে এসব বলা ঠিক হবে না।

এর পরই গণমাধ্যমকর্মীরা তার বাসায় গিয়ে জড়ো হন।

মুঠোফোনে পরীমণি জানিয়েছিলেন, গত চার দিন ধরে থানা থেকে শুরু করে চলচ্চিত্রের বন্ধুদের কাউকে পাশে পাননি তিনি। চলচ্চিত্রশিল্পী সমিতিতেও অভিযোগ নিয়ে গেছেন। কিন্তু তিনি কোনো প্রতিকার পাননি। যাদেরকে পেয়েছেন সবাই বিস্তারিত ঘটনা জেনে ‘দেখছি’ বলে চুপ হয়ে গেছেন। তাই বাধ্য হয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পোস্ট দিয়েছেন।

পরীমণির এমন অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন চলচ্চিত্রশিল্পী সমিতির সাধারণ সম্পাদক চিত্রনায়ক জায়েদ খান। গণমাধ্যমকে তিনি বলেন, ‘পরীমণি আমার সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন। একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার বিচার চান তিনি।’

তবে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায় পরীমণি কতটা ভুক্তভোগী হয়েছেন বা ঘটনাটি কী সে বিষয়ে কিছু জানাননি জায়েদ খান।



সাতদিনের সেরা