kalerkantho

সোমবার । ১৮ শ্রাবণ ১৪২৮। ২ আগস্ট ২০২১। ২২ জিলহজ ১৪৪২

এদিক-ওদিক হলেই ছিন্নভিন্ন হতেন টম ক্রুজ!

অনলাইন ডেস্ক   

২৪ মে, ২০২১ ১২:২২ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



এদিক-ওদিক হলেই ছিন্নভিন্ন হতেন টম ক্রুজ!

১৯৯৬ সালে মিশন ইম্পসিব' ছবি দিয়ে প্রথম দর্শকদের সামনে হাজির হন 'ইথান হান্ট'। পরেরটা তো ইতিহাস। পঁচিশ বছর কেটে যাওয়ার পরেও 'ইম্পসিবল' সিরিজ এবং 'ইথান হান্ট'-কে নিয়ে দর্শকদের আগ্রহ কিংবা উত্তেজনায় এতটুকুও ভাটা পড়েনি। এখনো 'মিশন ইম্পসিবল' সিরিজের পরবর্তী ছবির জন্য রীতিমতো হা-পিত্যেশ করে বসে থাকেন সিনেমাপ্রেমীরা। 

বিশ্বসিনেমার ইতিহাসে অন্যতম সুপারহিট ছবির ফ্র্যাঞ্চাইজি হিসেবে উঠে আসবে এই সিরিজ এবং 'ইথান হান্ট' চরিত্রে অভিনয় করা টম ক্রুজও এই ছবির জেরে ছুঁয়ে ফেলেন নতুন মাইলফলক। দীর্ঘ ৩৫ বছরের  ক্যারিয়ারে একের পর এক সুপারহিট ছবি উপহার দিলেও সম্ভবত এই তারকা-অভিনেতার সবচেয়ে আলোচিত চরিত্রের নাম 'ইথান হান্ট'।

এবার এই সিরিজের প্রথম ছবির মুক্তির রজতজয়ন্তী হিসেবে বেশ কিছু অভিজ্ঞতার স্মৃতিচারণা করেন টম। তার মধ্যে একটি 'মিশন ইম্পসিবল ১'-এ আমেরিকার গুপ্তচর সংস্থা 'সিআইএ'র সদর দপ্তরে ভল্ট সিকোয়েন্স, যেখানে শুধু একটি তারের সাহায্যে বেশ উঁচু থেকে ঝাঁপিয়ে পড়ে মাটি থেকে বেশ খানিকটা ওপরে বিপজ্জনকভাবে ঝুলে ছিলেন তিনি। শরীর থেকে এক ফোঁটা ঘাম পড়লেও দেয়ালের ফাঁকে তৈরি থাকা লেজার রশ্মি বেরিয়ে এসে ছিন্নভিন্ন করে দেবে ইথান হান্টের শরীর। 

পাশাপাশি ধরা পড়ে যাবে তাকে এ কাজে সাহায্যকারী বাকিরা। এককথায় সেই সিকোয়েন্সে তৈরি হওয়া সাসপেন্স পৌঁছেছিল উত্তেজনার তুঙ্গে।

টমের কথায়, 'এখন পর্যন্ত আমার কেরিয়ারে করা অন্যতম কঠিন স্টান্ট ছিল ওই ভোল্ট সিকোয়েন্সের ব্যাপারটা। আমার বেশ মনে আছে, বারবার গণ্ডগোল হয়ে যাচ্ছিল ওই শট নিতে। ওপর থেকে পড়ার সময় ঠিকমতো ভারসাম্য না রাখার দরুন সরাসরি মুখ থুবড়ে পড়ছিলাম মাটিতে। কোনো রকমে মুখ বাঁচলেও নাকে আঘাত লেগেছিল। এদিকে নির্ধারিত সময়ের পর সেখানে আর শুটিং করা যাবে না, তাই চিন্তাও বাড়ছিল। শেষ পর্যন্ত একবার ঠিকঠাক ঝুলে থাকতে পারলাম, যেখান থেকে শটটা উতরে যাবে বলে মনে হলো প্রথমবার। আনন্দের চোটে তখন মনে মনে নিজেকে বলেছি, যখন মাটিতে এবার পড়িনি তাহলে পেরে যাব। ওদিক থেকে পরিচালক চিৎকার করে নির্দেশ দিয়ে যাচ্ছেন একনাগাড়ে। কোনো রকমে শটের শুটিং শেষ করলাম।' 

তবে এখানেই শেষ নয়। টম আরো জানান, এর পরেও নিশ্চিন্ত হতে পারেনি পরিচালক ব্রায়ান ডে পালমা। তার নির্দেশে বেশ আরো কয়েকবার ওই দৃশ্যের শুটিং করে গিয়েছিলাম, প্রত্যেকবারই ভাবছিলাম, এবার আরো ভালো করে করতে হবে। এমনকি আমার জুতার মধ্যে বেশ কিছু খুচরো পয়সাও ঢুকিয়ে নিয়েছিলাম, যাতে ঝোলার সময় শরীরের ভারসাম্য বজায় থাকে। শরীর সামনে বেশি ঝুঁকে না যায়। শেষ পর্যন্ত যখন বেদম হাঁফিয়ে উঠেছি, এমন সময় দূর থেকে শুনি খিকখিক করে হাসছেন পরিচালক। বুঝলাম তার দুষ্টুমি এটা। আসলে অনেক আগেই শটটা 'ওকে' হয়ে গিয়েছিল স্রেফ মজা পাবেন বলে আমাকে আরো বেশি করে খাটাচ্ছিলেন নির্মাতা। 

প্রসংগত বর্তমানে 'মিশন ইম্পসিবল ৭' ও ' মিশন ইম্পসিবল ৮'-এর ছবির কাজে ব্যস্ত ইথান হান্ট- মানে টম ক্রুজ। সূত্র : হিন্দুস্তান টাইমস।



সাতদিনের সেরা