kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১০ আষাঢ় ১৪২৮। ২৪ জুন ২০২১। ১২ জিলকদ ১৪৪২

অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে, ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করে নেই : চঞ্চল

অনলাইন ডেস্ক   

১৩ মে, ২০২১ ১২:১২ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে, ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করে নেই : চঞ্চল

মা দিবসে মা'কে নিয়ে ছবি পোস্ট করায় বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়েছিলেন গুণী অভিনেতা চঞ্চল চৌধুরী। সেই অভিজ্ঞতার পর মানসিকভাবে বেশ খারাপ সময় কাটিয়েছেন তিনি। কেন ধর্ম পরিচয় নিয়ে সোশাল মিডিয়ায় মেতে ওঠে একশ্রেণী কটূ কথায়। শুক্রবার বাংলাদেশে মুসলমানদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব। সকলকে ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়ে নিজের অভিজ্ঞতার কথা সোশাল মিডিয়ায় তুলে ধরেছেন এই অভিনেতা।   

চঞ্চল বলেন, 'আমার কাছে হিন্দু, মুসলমান, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান সবাই সমান এবং আপন। সবাইকে ঈদের শুভেচ্ছা। ঈদ মোবারক। সারা পৃথিবীজুড়ে যে করোনা সংকট চলছে, এই দুঃসময়ে সবাই স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলুন। আসুন, আমরা অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে, ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করে নিই। মানবতার জয় হোক। সবার জন্য ভালোবাসা'।

নিজেকে শিল্পী অভিহিত করে শিগগির সকল আলোচনার পরিসমাপ্তি চাইলেন এই অভিনেতা। বললেন, 'আমাকে নিয়ে অতিসত্বর এই আলোচনারও পরিসমাপ্তি হোক। আমার পরিচয়.... আমি মানুষ, আমি বাংলাদেশি, আমি বাঙালি। আর ধর্ম পরিচয়টা প্রত্যেকের মতোই জন্মগত। এতে কারো কোনো আপত্তি থাকলেও, আমার কোনো সমস্যা নেই। আর সবচেয়ে বড় যে পরিচয়ে আপনারা আমাকে চেনেন... সেটা হলো, আমি একজন শিল্পী'।

চঞ্চল বলেন, 'আমার ব্যক্তিগত পরিচয় নিয়ে গত কয়েক দিনে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অনেক আলোচনা আর সমালোচনার ঝড় বয়ে গেল। এতে আমি শুধুই বিব্রত নই, সেই সাথে মানসিকভাবে খুব অস্বস্তিকর সময় পার করছি... এখন নিশ্চয়ই আমার পরিচয় নিয়ে কারো কোনো সন্দেহের অবকাশ নেই'।

আয়নাবাজি খ্যাত এই অভিনেতা বলেন, 'ভবিষ্যতে নতুন করে আমার পরিচয় জানার জন্য কেউ আগ্রহী হলে ব্যক্তিগতভাবে আমাকে ইনবক্স করলে ধন্য হবো। তবে পরিচয়ের নামে এরকম পরিস্থিতি কাম্য নয়। গুটিকতক মানুষ যুক্তি দিয়ে প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টা করেছেন, ধর্ম পরিচয় জানতে চাওয়াটা কি কোনো অপরাধ? তাদের জন্য বলছি... অপরাধ নয়, এটা যেমন ঠিক, আবার বার বার এই পরিচয়টা জানতে চাওয়ার মধ্যেও তেমন কোনো বাহাদুরি বা পৌরুষ নেই'।

চঞ্চলের পাশে যারা দাঁড়িয়েছিলেন তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে তিনি বলেন, 'বাংলাদেশের আপামর জনসাধারণ, ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে আমাকে ভালোবাসে, আমার কাজ পছন্দ করে, এটাই আমার জীবনের সবচেয়ে বড় অর্জন। এই বিব্রতকর পরিস্থিতিতে যারা আমাকে ভালোবেসে আমার হয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে স্ট্যাটাস দিয়েছেন, অসাম্প্রদায়িকতার কথা বলেছেন, সকল ধর্মের মানুষ আমার মাকে মা ডেকেছেন, আমার পরিচিত জন, শুভানুধ্যয়ী, সহকর্মীসহ দেশ-বিদেশের হাজার হাজার মানুষ খোঁজ নিয়েছেন, আমি এহেন পরিস্থিতিতে কেমন আছি... তাঁদের প্রতি আমার কৃতজ্ঞতার শেষ নেই'।

অভিনেতা বলেন, আর সামান্য সংখ্যক মানুষ নানান বিব্রতকর প্রশ্ন করে ও গালি গালাজ করে বা আমাকে বর্জন করেও, পরবর্তীতে তাদের কমেন্টগুলো ডিলিট করে দিয়েছেন, তাদের প্রতিও আমার ভালোবাসা রইল। কারণ তারা একপর্যায়ে বাস্তব পরিস্থিতিটা বুঝতে পেরেছেন। যে কারণে, অনেকেই পরবর্তীতে আমাকে দেওয়া গালিগুলো আর খুঁজে না পেয়ে উল্টো অভিযোগ করেছেন, বলেছেন...কই আমার বিরুদ্ধে তো কেউ তেমন কিছুই লেখেনি। এ নিয়েও আর কোনো বিতর্কের দরকার নেই'।

সকলের কাছে অনুরোধ করে চঞ্চল বলেন, 'আপনাদের সবার কাছে আমার বিনীত অনুরোধ, এই বিষয়টাকে কেউ ধর্মীয় বা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করবেন না। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কেউই কাউকে অসম্মান করে কিছু লিখবেন না। পারলে গঠনমূলক কিছু লিখুন। সেটাই হবে সভ্য মানুষের কাজ। শুধু একটি কথা সবাইকে বলতে চাই, আপনি যে ধর্মেরই হন না কেন, যে পেশারই হন না কেন, আপনার কর্ম দিয়ে দেশের জন্য কতটুকু মঙ্গল করছেন, সেটাই আসল কথা। সব ধর্মেই ভালো মানুষ, মন্দ মানুষ রয়েছে। আমার মনে হয় সকল মানুষের পরিচয়টা কর্ম, সহনশীলতা আর ধর্মীয় উদারতা দিয়ে হোক'।



সাতদিনের সেরা