kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১০ আষাঢ় ১৪২৮। ২৪ জুন ২০২১। ১২ জিলকদ ১৪৪২

শফিক তুহিনের কপিরাইট ক্লেইম, যা বলল সাউন্ডটেক

মাহতাব হোসেন   

৩ মে, ২০২১ ১৫:১৯ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



শফিক তুহিনের কপিরাইট ক্লেইম, যা বলল সাউন্ডটেক

কণ্ঠশিল্পী ও গীতিকার শফিক তুহিন অডিও প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান সাউন্ডটেকের বিরুদ্ধে অনুমতিবিহীন ডিজিটাল ফরমেটে তাঁর লেখা গান ব্যবহারের অভিযোগ তুলেছেন। তিনি অভিযোগ করে বলছেন, 'পৃথিবীব্যাপী গানের বাজার ডিজিটাল ফরমেটে পরিবর্তিত হয়েছে। প্রায় এক দশক ধরে আমার সৃষ্টি এই গানগুলো ইউটিউব, রিংব্যাক টোনসহ অন্যান্য ডিজিটাল প্রযুক্তিতে ব্যবহার করে আসছে কিন্তু আমি লেবেল থেকে একটি কানাকড়িও পাইনি।'

শফিক তুহিনের এ অভিযোগের প্রেক্ষিতে সাউন্ডটেকের কর্ণধার সুলতান মাহমুদ বাবুল কালের কণ্ঠকে বলছেন, 'একটা সময় দেশের অডিও কম্পানিগুলোর ধারা কেমন ছিল আপনারা জানেন। আমরা গান কিনেছি শিল্পীর কাছ থেকে। পুরো একটা প্যাকেজ এককালীন মোটা অঙ্কের টাকা দিয়ে কিনেছি আইয়ুব বাচ্চু, জেমসের মতো বড় শিল্পীদের কাছ থেকে। সেই সময় শফিক তুহিন আমাদের এখানে চাকরি করতেন। তখন তিনি সে সকল শিল্পীদের সঙ্গে সম্মিলিতভাবে কাজ করেছেন। যদিও তার কাজ ছিল মিডিয়া বিভাগ দেখা'।

অবশ্য শফিক তুহিনও তাঁর ফেসবুক স্ট্যাটাসে বলছেন সেসময় অনেক বাণিজ্যিক সফল গানের চুক্তি যে মৌখিকভাবে হয়েছে সে কথা নিজেই উল্লেখ করেছেন। কিন্তু ডিজিটাল ফরম্যাটে তিনি যে গানগুলোর কপিরাইটের জন্য আবেদন করেন তার মধ্যে ৪৪ গানের ক্ষেত্রে আপত্তি জানায় প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান সাউন্ডটেক। শফিক তুহিনের আবেদনের প্রেক্ষিতে কপিরাইট অফিস আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়েছে, এই ৪৪টি গান সাউন্ডটেকের অর্থায়ন ও নিয়োগকৃত সুরকার ও কণ্ঠশিল্পীর মাধ্যমে করানো হয়েছে।

সুলতান মাহমুদ বাবুল বলেন, 'এরকম অনেক শিল্পীর কাছ থেকে গান কিনেছি এককালীন। আবার অনেক সংগীতআয়োজকদের নিকট থেকেও গান কিনেছি। তখন শিল্পীরা সকলের সব খরচ দিয়ে গান তৈরি করে নিয়ে আসতেন। স্বাভাবিকভাবে সেই গানগুলোর সঙ্গে আমাদের চুক্তি হয়েছে শিল্পীর'। 

ডিজিটাল ফরম্যাটে ব্যবহার করছেন কিন্তু সম্পূর্ণ গানের কপিরাইট আপনাদের নামে চাইছেন কেন? সুলতান মাহমুদ বাবুল বলেন, 'একটা গান বা অ্যালবামের পেছনে সম্পূর্ণ বিনিয়োগ আমাদের। মোটা অঙ্কের টাকা বিনিয়োগ করেছি আমরা সেসময়। আমরা গান একদম কিনে নিয়েছি ৬০ বছরের জন্য। এখন শফিক তুহিন ডিজিটাল ফরম্যাটের ব্যবহারের জন্য চাইছেন নিজের প্রাপ্য, আমরা কি না করেছি? সাউন্ডটেক কারো প্রাপ্য দেয় না এমন রেকর্ড নেই। উনি আমাদের সঙ্গে তো যোগাযোগ করেননি। আমাদের দিক থেকে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেছি, বিভিন্নভাবে। উনি সাড়া দেননি। শফিক তুহিন আমাদের সঙ্গে বসুক, আমরা অবশ্যই একটা সমঝোতায় পৌঁছাব'। 

তবে শফিক তুহিন জানালেন তার সঙ্গে সাউন্ডটেক কোনো যোগাযোগই করেনি। তিনি বলেন, 'আমিই বরং গত দুই বছর ধরে ঘুরেছি আমার অধিকারের জন্য। তারা আমাকে ঘুরিয়েছে। যখন সমঝোতা করতে পারিনি তখন আমি আমার গানগুলো বাংলাদেশ কপিরাইট অফিস থেকে রেজিস্ট্রেশন এর জন্য আবেদন করলে কর্তৃপক্ষ জানায় আমার সৃষ্ট গানগুলো সাউন্ডটেক কর্তৃক সর্বস্বত্ব অধিকার সংরক্ষিত এবং এই মর্মে কপিরাইট অফিস আমাকে আপত্তি জানায়। আমি বিস্মিত হয়েছি যে গানগুলোর কোনোরকম চুক্তিনামা আমার সাথে নেই। সেক্ষেত্রে কিভাবে আমার গানগুলো তাদের নিজেদের বলে দাবি করে বছরের পর বছর বাণিজ্যিকভাবে একতরফা লাভবান হচ্ছে'।

এদিকে সাউন্ডটেকে চাকরির বিষয়ে শফিক তুহিন বলেন, 'আমি চাকরি করিনি। সেরা কণ্ঠের শিল্পীদের গান নিয়ে একটা প্রজেক্টের কো-অর্ডিনেটর হিসেবে কাজ করেছি। সেটার সঙ্গে আমার গীতিকার হিসেবে প্রাপ্য অধিকারের সম্পর্ক নেই। আবেগের কথা দিয়ে তো কাজ নেই। যার প্রাপ্য তাকে বুঝিয়ে দিতে হবে। আইন যা বলে তা করতে হবে আমি তো আইনের বাইরে কথা বলতে যাচ্ছি না'।

এই শিল্পী বলেন, 'আমি তো অন্যায় কিছু চাইনি। মেধাস্বত্ব আইন অনুযায়ী আমার প্রাপ্য আমি চেয়েছি, আমার লেখা গান দিয়ে ডিজিটাল ফরম্যাটে যে আয় হয়েছে, যেসব গানের গীতিকার আমি সেসব গানের অধিকার চেয়েছি'।

শফিক তুহিনের অভিযোগের প্রেক্ষিতে গীতিকবি সংঘের সাধারণ সম্পাদক (যুগ্ম) আসিফ ইকবাল বলেন, 'আমাদের সকলকে আইন বুঝতে হবে। প্রয়োজনে আইন পরিবর্তন করতে হবে। পৃথিবী দ্রুত বদলে যাচ্ছে। পুরনো ধ্যান-ধারণা নিয়ে বেশিদূর এগোনো যাবে না। আমরা চাই কপিরাইট অফিস, শিল্পী ও প্রযোজক- এ নতুন সময়ের নতুন দাবি বুঝুক এবং সকল পক্ষের জন্যে একটি গ্রহণযোগ্য নতুন সমাধানের পথ বের করুক'।

মিউজিক কম্পোজার সোসাইটি বাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট নকিব খান এ বিষয়ে কালের কণ্ঠকে বলেন, 'আসলে পূর্বের এগ্রিমেন্ট কিভাবে হয়েছে তা আমি জানি না। তবে আমি মনে করি ইন্টেলেকচুয়াল প্রপার্টি একজন গীতিকারের-সুরকারের সব সময়ই ন্যায্যপ্রাপ্ত। কারণ তারা সব সময়ই বঞ্চিত। আর শিল্পী মানুষরা সৃষ্টি নিয়েই থাকে, এক্ষেত্রে প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানগুলোরই এগিয়ে আসা উচিত। যার যা প্রাপ্য তাকে বুঝিয়ে দেওয়া উচিত'।



সাতদিনের সেরা