kalerkantho

রবিবার । ২৬ বৈশাখ ১৪২৮। ৯ মে ২০২১। ২৬ রমজান ১৪৪২

মিস্টার ইস্ট পাকিস্তান থেকে চলচ্চিত্রের সুপারস্টার

অনলাইন ডেস্ক   

১৮ এপ্রিল, ২০২১ ১১:৪২ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



মিস্টার ইস্ট পাকিস্তান থেকে চলচ্চিত্রের সুপারস্টার

বাংলা চলচ্চিত্রের অ্যাকশন এবং ফোক ফ্যান্টাসির নায়ক হিসেবে অপ্রতিদ্বন্দ্বী মনে করা হতো ওয়াসিমকে। ১৯৭৩ থেকে ১৯৯০ সাল পর্যন্ত তিনি ঢাকার চলচ্চিত্রে শীর্ষ নায়কদের একজন ছিলেন। তার অভিনীত উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্র ছিল রাজমহল, চন্দন দ্বীপের রাজকন্যা, দি রেইন।

সিনেমায় আসার আগে ওয়াসিমের নাম ছিল মেজবাহ উদ্দীন আহমেদ। কলেজে পড়াকালীন  তিনি বডি বিল্ডার হিসেবে সবার কাছে পরিচিত ছিলেন। ১৯৬৪ সালে তিনি বডি বিল্ডিংয়ের জন্য মি. ইস্ট পাকিস্তান খেতাব অর্জন করেছিলেন। তিনি 'মিস্টার ঢাকা’ নির্বাচিত হন। সিনেমায় আসার পর এই বডি বিল্ডার মেজবাহ উদ্দীন আহমেদ থেকে হয়ে উঠলেন নায়ক ওয়াসিম। 

ওয়াসিম ১৯৫০ সালের ২৩ মার্চ চাঁদপুর জেলার আমিরাবাদে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। প্রখ্যাত চিত্র পরিচালক এস এম শফীর হাত ধরে চলচ্চিত্র জগতে অভিষেক ঘটে ওয়াসিমের। ১৯৭২ সালে শফী পরিচালিত 'ছন্দ হারিয়ে গেলো' চলচ্চিত্রের সহকারী পরিচালক হন তিনি। এতে ছোট একটি চরিত্রে অভিনয়ও করেন। ১৯৭৪ সালে আরেক প্রখ্যাত চিত্রনির্মাতা মহসিন পরিচালিত 'রাতের পর দিন' চলচ্চিত্রে প্রথম নায়ক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন তিনি। চলচ্চিত্রটির অসামান্য সাফল্যে রাতারাতি সুপারস্টার বনে যান তিনি।

ওয়াসিম দেড় শ'র মতো ছবিতে নায়ক ছিলেন। অল্প কিছু ছবি ছাড়া প্রতিটি ছবিই সুপারহিট হয়েছিল। 'দি রেইন' তাকে বিশ্ববাসীর কাছে পরিচয় করিয়ে দেয়। পৃথিবীর ৪৬টি দেশে 'দি রেইন' মুক্তি পেয়েছিল। ছবিতে ওয়াসিমের নায়িকা অলিভিয়া। পরবর্তী সময়ে ওয়াসিম-অলিভিয়া জুটি বেঁধে বেশ কয়েকটি ছবিতে অভিনয় করেন। 'বাহাদুর' এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য। 

এ ছাড়া লুটেরা, লাল মেম সাহেব, বেদ্বীন প্রভৃতিও সফল হয়েছিল। শাবানা, সুচরিতা, অঞ্জু ঘোষ, সুজাতা প্রমুখের বিপরীতেও তিনি অভিনয় করেছিলেন। তবে শাবানা আর অলিভিয়ার সঙ্গে ওয়াসিম যেসব ছবিতে অভিনয় করেছেন তার প্রতিটিই ব্যবসাসফল হয়েছিল। 'রাজ দুলারী'তে ওয়াসিম ও শাবানার অভিনয় দর্শকদের দারুণ মুগ্ধ করেছিল। ছবিতে তাদের মুখের গানগুলো দর্শকের মুখে মুখে ফেরে।

ওয়াসিম বিয়ে করেছিলেন চিত্রনায়িকা রোজীর ছোট বোনকে। তাদের দুটি সন্তান হয়- পুত্র দেওয়ান ফারদিন এবং কন্যা বুশরা আহমেদ। ২০০০ সালে তার স্ত্রীর অকালমৃত্যু ঘটে। ২০০৬ সালে ওয়াসিমের কন্যা বুশরা আহমেদ ১৪ বছর বয়সে মানারাত ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের পাঁচতলা থেকে লাফিয়ে পড়ে আত্মহত্যা করেন। পরীক্ষা চলাকালীন নকলের অভিযোগ তার পরিবারকে জানাবার প্রাক্কালে বাথরুমে যাওয়ার কথা বলে বুশরা লাফ দেন। অন্যদিকে পুত্র ফারদিন লন্ডনের কারডিফ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এলএলএম পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে ব্যারিস্টার হিসেবে আইন পেশায় নিয়োজিত।



সাতদিনের সেরা