kalerkantho

বুধবার । ২৯ বৈশাখ ১৪২৮। ১২ মে ২০২১। ২৯ রমজান ১৪৪২

ননদ-ভাবি, স্টাইলিশ দিদি-বোনদের সরিয়ে নায়িকা 'কাজের মাসি'

অনলাইন ডেস্ক   

১৩ এপ্রিল, ২০২১ ১৪:০১ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ননদ-ভাবি, স্টাইলিশ দিদি-বোনদের সরিয়ে নায়িকা 'কাজের মাসি'

রবিবার সন্ধ্যাবেলা একটি মিম নিয়ে বিতর্কের সূত্রপাত হয়। ২৪ ঘণ্টা পর সোমবার সন্ধ্যায় দেখা যাচ্ছে, যাদের খাটো করতে মিমটি তৈরি করা হয়েছিল তাঁরাই বনে গেলেন নায়িকা। অন্যদিকে সিপিএমের মধ্যে যেন কলঙ্ক ঘোচার আনন্দ!

‘মিমতন্ত্র’ নামক একটি পেজ থেকে রবিবার সন্ধ্যায় একটি মিম শেয়ার করা হয় সোশ্যাল মিডিয়ায়। তাতে দেখা যাচ্ছে, উপরে লেখা, ‘বাঙালি বাড়িতে যে সব নারীদের দেখা যায়…!” এর নীচে দুই অভিনেত্রী তথা একুশের ভোটে বিজেপি প্রার্থী শ্রাবন্তী চট্টোপাধ্যায় এবং পায়েল সরকারের ছবির সঙ্গে লেখা রয়েছে, ‘সেক্সি ননদ-ভাবি,’ তৃণমূলের দুই তারকা সাংসদ মিমি চক্রবর্তী ও নুসরাত জাহান রুহির ছবি দিয়ে লেখা রয়েছে, ‘ স্টাইলিশ দিদি-বোন,’ এবং তার ঠিক নীচে বালির সিপিএম প্রার্থী দীপ্সিতা ধর ও নন্দীগ্রামের সিপিএম প্রার্থী মীনাক্ষি মুখোপাধ্যায়ের ছবি দিয়ে লেখা হয়েছে ‘কাজের মাসি।’

মিমটি দেখলেই বোঝা যাচ্ছে উদ্দেশ কী। এই মিম শেয়ার হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই বিতর্কের ঝড় শুরু হয় সোশ্যাল মিডিয়ায়। এমনকি রাজনীতির সঙ্গে জড়িত নন, বামপন্থায় বিশ্বাস করেন না এমন অসংখ্য মানুষও প্রতিবাদ জানাতে শুরু করেন। এর মধ্যেই নিজের ফেসবুক পেজ থেকে একটি প্রতিক্রিয়া লেখেন দীপ্সিতা। 

জেএনইউয়ের এই ছাত্রনেত্রী লেখেন, বিজেমূল একটা মিম বানিয়েছে। আমার আর মীনাক্ষী দি-র ছবির পাশে “কাজের মাসি” লিখেছে। এখন ওরা কী ভেবে লিখেছে, কেন লিখেছে তার জবাব দেওয়ার কোনও প্রশ্নই নেই। কথা হলো, যে শ্রেণির লড়াই আমরা লড়ি তাদের সাথে, তাদের দাবিদাওয়ার সাথে মানিয়ে নিতে আমাদের কখনওই অসুবিধা হয় না। আমাদের নির্বাচনের সময় মমতা ব্যানার্জীর মতো মিথ্যার বেসাতি করে বলতে হয়না, “আপনার বাড়ির বাসন মেজে দেব”। 

গৃহপরিচারিকাদের জন্য, লকডাউনে তাদের বেতনের জন্য, তাঁদের সুরক্ষার প্রশ্নে দাবিদাওয়ার লড়াই বামপন্থীরা করেছে ও করবে। সব শেষে একটা কথা-“ওদের জ্বলবে, আমাদের এমনই চলবে।

বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য জমানার সিপিএমকে মধ্যবিত্ত মানসিকতায় গ্রাস করেছিল বলে দলের মধ্যেই বিস্তর আলোচনা ছিল। অনেক জেলা সম্মেলনে অনেক নেতাকে এমনও বলতে শোনা যেত, জ্যোতিবাবুর সময়ে পার্টি ছিল গরিব মানুষের। যা দেখে অনেকে ঈর্ষা করে বলতেন, ‘সিপিএম ছোটলোকের পার্টি।’ দলের অনেক নেতার বক্তব্য ছিল, এই ছোটলোকের পার্টির তকমা ছিল গর্বের। কিন্তু তা থেকে বিচ্যুত হয়ে সিপিএম ক্রমশ শহুরে, এলিটদের দল হয়ে উঠছে বলেও বহু দস্তাবেজে লেখা হয়েছে। 

এমনকি ২০০৬ সালের বিধানসভা ভোটে ২৩৫ আসন পাওয়ার পর সিপিএমের যে পার্টি চিঠি প্রকাশিত হয়েছিল, তাতেও নাকি লেখা হয়েছিল আদিবাসী, সংখ্যালঘু, তফসিলি এলাকায় দলের গণভিত্তি দুর্বল হচ্ছে। যা অশনি সংকেত। এই মিমের পর অনেক সিপিএম তথা বাম কর্মীকে বলতে শোনা গেছে, শ্রেণী সচেতনতার দিক থেকে এই মিমটি যেন অনন্য। পার্থক্য গড়ে দিয়েছে তৃণমূল-বিজেপির সেলেবদের সঙ্গে।

এমনিতে সোশ্যাল মিডিয়ার রমরমার যুগে অসংখ্য মিম এমন ঘুরে বেড়ায় যাতে শালীনতার লেশ মাত্র নেই। ফের তেমনই একটি মিম দেখা গেল ভোট বাজারে। তবে সিপিএমের এক নেতা বলেন, “ওই মিমটিতে সরাসরি বডি শেমিং করা হয়েছে দুই তরুণীকে। কে আটকাবে? কী ভাবে আটকাবে? রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীই এর অনুপ্রেরণায়।



সাতদিনের সেরা