kalerkantho

বুধবার । ২৮ বৈশাখ ১৪২৮। ১১ মে ২০২১। ২৮ রমজান ১৪৪২

মিতার মতো জীবনকে ভালোবাসতে আমি কাউকে দেখিনি

নাসির উদ্দীন ইউসুফ    

১১ এপ্রিল, ২০২১ ১১:৩১ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



মিতার মতো জীবনকে ভালোবাসতে আমি কাউকে দেখিনি

আহা! অমন পরিশীলিত সুরেলা কণ্ঠের দেখা মেলা ভার। আর মিলবে কি না জানি না। জীবন ও শিল্পের এমন শুদ্ধতম মিলন কালেভদ্রে ঘটে। আনন্দের মাঝেই জীবন উথলে ওঠে- এ কথা মিতাকে দেখলেই মনে হতো। 

দুঃখকে তুড়ি মেরে উড়িয়ে দিয়ে জীবনের আনন্দে শিশুর মতো করতালি দিতেন মিতা। এইতো মাত্র সাত দিন আগের কথা। হাসপাতাল থেকে ফোনে চিৎকার করে বলে- 'বাচ্চুভাই, আমার তো এইখানে ভাল্লাগে না, ভাল্লাগে না, ভাল্লাগে না। আমারে বাসায় নিয়ে যায় না কেন!'

তার দুই-তিন দিন পর কন্যা জয়ীতা ও সন্তানসম শাহীন ওদের করোনামুক্ত মাকে কেরানীগঞ্জের বাসায় নিয়ে যায়। কিন্তু পরশু হঠৎই শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে আবারও হাসপাতালে। আর আজ প্রত্যুষে আমার কন্যা এশা ও পুত্রবৎ সাকি হাসপাতাল থেকে ফিরে জানাল, 'মিতামা' মারা গেছে।

আমি নির্বাক! নিস্তব্ধতায় নিমজ্জিত হই! ভাবি, মিতার মতো  জীবনকে ভালোবাসতে আমি কাউকে দেখিনি। এমনভাবে কাউকে জীবন উদযাপন করতে দেখিনি। শত কষ্ট-দুঃখের মাঝে কলকলিয়ে এভাবে হাসতেও দেখিনি কাউকে। চোখের জলে চৈত্রের ভোরের আকাশটাকে ধূসর দেখতে থাকি। ভাবি, ওই ধূসরে মিলিয়ে গেলে মানুষ আর কখনো ফিরে আসে না..... 

'তুমি কেমন করে গান করো হে গুণী... আমি অবাক হয়ে শুনি কেবল শুনি.....', বিদায় প্রিয় মিতা হক।

নাসির উদ্দীন ইউসুফ, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব।



সাতদিনের সেরা