kalerkantho

রবিবার। ২৮ চৈত্র ১৪২৭। ১১ এপ্রিল ২০২১। ২৭ শাবান ১৪৪২

ফেরানো গেল না দেবদাস ছবির প্রযোজককে

অনলাইন ডেস্ক   

১ এপ্রিল, ২০২১ ১৩:১০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ফেরানো গেল না দেবদাস ছবির প্রযোজককে

'দেবদাস’ সিনেমার প্রযোজক কামরুল হাসান খান মারা গেছেন। আজ (১ এপ্রিল) সকালে রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। প্রয়াতের ছোট ভাই বদরুল হাসান খান ঝন্টু বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। গত ১৭ মার্চ খুব ক্রিটিক্যাল অবস্থায় ছিলেন। অনেক গণমাধ্যমে খবরও প্রকাশ পায় যে কামরুল হাসান খান মারা গেছেন। পরে পরিবার থেকে জানানো হয় তিনি আইসিইউতে রয়েছেন, তাঁকে বাঁচানোর সর্বোচ্চ চেষ্টা চলছে। তবে সব চেষ্টাকে ব্যর্থ করে আজ ভোরে না-ফেরার দেশে চলে গেলেন এই চলচ্চিত্রের শুভাকাঙ্ক্ষী।

বদরুল হাসান ঝন্টু  বলেন, আজ ভোরে (বুধবার) ইন্তেকাল করেছেন। বাদ জোহর পল্টন জামে মসজিদে নামাজে জানাজা হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু ওনারা অ্যালাউ করেননি। পারিবারিকভাবেই জানাজা করে আমি কুলিয়ারচর, কিশোরগঞ্জের গ্রামের বাড়ি যাচ্ছি। সেখানেই আমাদের পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হবে

গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে কামরুল হাসানকে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়েছিল। এদিকে গত ১৭ মার্চ রাতে বেশ কিছু সংবাদমাধ্যমে কামরুল হাসান খান মারা গেছেন বলে খবর প্রকাশ পায়। তবে পারিবারিকভাবে ভুল তথ্য মিডিয়ার কাছে পৌঁছে যায় বলে জানা যায়।

প্রসংগত শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের সাড়া জাগানো উপন্যাস ‘দেবদাস’ নিয়ে ভারত ও বাংলাদেশে একাধিক চলচ্চিত্র নির্মিত হয়েছে। তবে বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো ‘দেবদাস’ উপন্যাসকে রুপালি পর্দায় নিয়ে আসেন চাষী নজরুল ইসলাম। বুলবুল আহমেদ ও কবরী অভিনীত ১৯৮২ সালে মুক্তি পাওয়া সেই চলচ্চিত্রটি দারুণ সাড়া ফেলে।

আর সেই চলচ্চিত্রের প্রযোজক ছিলেন কামরুল হাসান খান। কামরুল হাসান খান প্রযোজিত ‘প্রতিরোধ’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে বাংলাদেশে প্রথম প্লেব্যাক করেন ভারতের কুমার শানু। মানবেন্দ্র, সাবিনা ইয়াসমিন, হৈমন্তী শুক্লাসহ বরেণ্য শিল্পীরাও তার চলচ্চিত্রে প্লেব্যাক করেছেন।

মুক্তিযুদ্ধ ও জনসেবায় কামরুল হাসান খানের অবদান স্মরণীয়। ঢাকা কলেজ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পড়াশোনা শেষ করে তিনি সংস্কৃতি ও ক্রীড়া জগতের পৃষ্ঠপোষকতা শুরু করেন। কামরুল হাসান খান সংস্কৃতি অঙ্গনে 'ফরিদ ভাই' বলে পরিচিত ছিলেন। সংস্কৃতি ও ক্রীড়া জগতের পৃষ্ঠপোষকতায় তিনি ছিলেন অনন্য। ১৯৬৭ সাল থেকে শান্তিনগর ক্লাবের দায়িত্বে আসেন এবং বিভিন্ন উন্নয়নে অংশ নেন। তিনি বহুমুখী ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজক ও উদ্যোক্তা ছিলেন।

তার নিজ হাতে গড়ে তুলেছেন একেকজন তারকা, যার মধ্যে অন্যতম তাঁর আপন সহোদর, ক্রীড়াবিদ ও কণ্ঠশিল্পী বদরুল হাসান খান ঝন্টু। কামরুল হাসান খান কিশোরগঞ্জের সাবেক  এমপি এ কে এম শামসুল হক গোলাপ মিয়া ও বর্তমান রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের ভাগ্নে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা