kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ৯ বৈশাখ ১৪২৮। ২২ এপ্রিল ২০২১। ৯ রমজান ১৪৪২

একটি কাজ ও দুই দিন দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চলের নদীতে বাঁধন

মাহতাব হোসেন   

৪ মার্চ, ২০২১ ১৩:৪৮ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



একটি কাজ ও দুই দিন দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চলের নদীতে বাঁধন

পিপলু আর খানের একটা কাজে কাজ করলাম। যিনি হাসিনা : এ ডটার'স টেল চলচ্চিত্রটি বানিয়েছেন। তাঁর নির্দেশনায় একটি নজরুলসঙ্গীতের মিউজিক ভিডিওতে কাজ করা হলো। আসলে মিউজিক্যাল ফিল্ম হলেও- মনে হচ্ছে বেশ তৃপ্তিদায়ক একটি কাজ করে ফেললাম। সময়কে পেছনে ফেলে চলে গিয়েছিলাম পেছনের একটি নির্দিষ্ট সময়ে।

যে সময়টাতে কাজী নজরুল ইসলাম গাইছেন মুক্তির গান। এরপর মনে হলো এত তৃপ্তিদায়ক একটা কাজ করলাম এটা কিছু মানুষ জানবে না কেন? গানের সঙ্গে চলমান গল্পটা যেন আমারই, আমাদেরই।

কথাগুলো বলছিলেন লাক্স তারকা আজমেরি হক বাঁধন। সম্প্রতি একটি নজরুলসঙ্গীতের মিউজিক্যাল ফিল্মে অভিনয় করেছেন। যার শুটিং হয়েছে পার্বত্য অঞ্চলের একেবারে দুর্গম এলাকায়। যেখানে প্রকৃতপক্ষে নজরুলের গানের, প্রকৃত সময়টাকে ধারণ করার চেষ্টা করা হয়েছে। 

রবে না এ শৃঙ্খল উচ্ছৃঙ্খলতার
বন্ধন কারাগার হবে হবে চুরমার,
পার হবে রাধার গিরি মরু পারাবার –
নির্যাতিত ধরা মধুর, সুন্দর প্রেমময় হোক,
জয় হোক জয় হোক॥

স্বাধীনতার গান হিসেবে পরিচিত এই গানের নাম 'জয় হোক, জয় হোক'। শায়ান চৌধুরী অর্ণবের সংগীত আয়োজনে এতে কণ্ঠ দিয়েছেন সুস্মিতা আনিস। এই গানের ভিডিও নির্মাণের জন্য বেছে নেওয়া হয়েছিল পার্বত্য অঞ্চলের একটি এলাকাকে। যেখানে মোবাইল ফোনের নেটওয়ার্ক পৌঁছেনি। 

এমন একটি কাজের অভিজ্ঞতা শেয়ার করতে গিয়ে বাঁধন কালের কণ্ঠকে বলেন, 'ভীষণ সুন্দর একটি জায়গা। বাংলাদেশে এমন সুন্দর জায়গা আছে আমার জানা ছিল না। ভীষণ, ভীষণ রকম সৌন্দর্য এ দেশে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে, তা হয়তো আমার মতো অনেকেই জানে না। বান্দরবানের থানচি উপজেলার রেমাক্রি। যারা ট্রেকিং করেন তারা জেনে থাকবেন এই জায়গার কথা। এই এলাকার নদীতে দুই দিন ছিলাম। আশপাশের জঙ্গলে শুটিং করেছি।'

এ তো গেল গানের শুটিং এলাকার কথা। গানে কেন অভিনয় করলেন, 'এটা একটা প্রশ্ন ছিল বটে। তবে এর উত্তর বেশ গভীর। বাঁধন বলেন, আমরা কাজী নজরুল ইসলামকেই ফোকাস করি। উনি আমাদের জাতীয় কবি, বিদ্রোহী কবি। কাজী নজরুল ইসলামকে নিয়ে নতুন করে বলার কিছু নেই। ওনার গানে ও কবিতায় সেই সময়টা উঠে এসেছে।' 

বাঁধন বলেন, কাজী নজরুল ইসলাম সেই সময়টাকে, সেই কষ্টটাকে এতটা তীব্রভাবে অনুভব করেছেন যে সেটা বোঝার ক্ষমতা, উপলব্ধি করার ক্ষমতা আমাদের নেই, আমারই ছিল না। 

গানের পেছনের ছোট্ট ঘটনাকে উল্লেখ করে বলেন, 'আমি গানটাতে যখন কাজ করতে যাই তার আগে একটি ছোট্ট ঘটনা আছে। আমাকে গানটা পাঠানো হলো সুস্মিতা আনিসের কণ্ঠেই- আমি যখন গান শুনলাম, আমার গায়ে কাঁটা দিয়ে উঠল, আমি কান্না করে ফেললাম, মনে হচ্ছে আমার কথাগুলোই কেউ বলে দিচ্ছে। গানটা গেয়েছেন অসাধারণ করে, আর অর্ণব অসাধারণ মিউজিক করেছেন।'

এই মিউজিক্যাল ফিল্মের কস্টিউম করেছেন মহসিনা আক্তার। এ ছাড়া পিপলু খানের পুরো টিমের অনবদ্য কাজ ছিল এটি, যাদের প্রতি ভীষণ কৃতজ্ঞতা জানালেন বাঁধন। 

 গানটি ২৫ মার্চ আনুষ্ঠানিক লঞ্চিং হবে, আর মুক্তি পাবে পরেরদিন, স্বাধীনতা দিবসে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা