kalerkantho

রবিবার । ৬ আষাঢ় ১৪২৮। ২০ জুন ২০২১। ৮ জিলকদ ১৪৪২

এফডিসিতে ইউটিউবারের ওপর ক্ষিপ্ত মান্নার স্ত্রী শেলী

৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ ১৩:৫৪ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



এফডিসিতে ইউটিউবারের ওপর ক্ষিপ্ত মান্নার স্ত্রী শেলী

ইউটিউবারের ওপর রীতিমতো খেপে গেলেন চিত্রনায়ক মান্নার স্ত্রী শেলী। শনিবার বিকেলে রাজধানীর বিএফডিসির অভ্যন্তরে চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির কয়েকটি টেলিভিশন চ্যানেলে সাক্ষাৎকার দিচ্ছিলেন শেলী। এ সময় কয়েকজন ইউটিউবার ঢুকে পড়েন সেখানে। রীতিমতো বিরক্তিকর পরিস্থিতি তৈরি করেন। তবে এ কারণে রাগ হননি শেলী- তিনি একজন ইউটিউবারকে চিনে ফেলেন। যে মান্নাকে নিয়ে 'মিথ্যা' ভিডিও বানিয়ে ইউটিউবে ছেড়ে দিয়েছে।   

এরপর তাকে প্রশ্ন করতে শুরু করেন।  শেলী বলেন, কেন আপনি মান্নাকে নিয়ে ওইসব বলেছেন, আপনি জানেন মান্নাকে এফডিসির গেটের দারোয়ান মেরেছিল? বলেন, আপনি জানেন? আপনারা এসব মিথ্যা ভিডিও বানিয়ে ভিউ তৈরি করছেন কেন? কেন মান্নার মতো একজনকে আপনারা এভাবে অসম্মান করেন, কেন? বলেন, এভাবে টিআরপির জন্য কেন এসব করেন?

শেলী এ সময় বেশ ক্ষোভ প্রকাশ করেন। সেখানে উপস্থিত গণমাধ্যমকর্মীরাও বিষয়টিকে ভালোভাবে নেননি। পরে ওই ইউটিউবার কিছু না বলেই এফডিসি ত্যাগ করে।

শনিবার ফিল্ম ক্লাব লিমিটেডের নির্বাচন ছিল এফডিসিতে। চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্ট কয়েকজন জানান, এদিন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে শত শত বহিরাগত ঢুকে পড়েছিল। এর মাঝে বড় একটি শ্রেণি ছিল ইউটিউবার। যারা কোনো তারকা বা চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্ট কাউকে পেলেই তার বক্তব্য নেওয়া শুরু করেন।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ শিল্পী সমিতির সাধারণ সম্পাদক জায়েদ খান বলেন, 'মান্না ভাইকে নিয়ে এ রকম ভিডিও করা খুবই ঘৃণ্যতম কাজ। আমি বুঝি এফডিসির গেটে যারা থাকে, তারা কেন এদের ঢুকতে দেয়, এরা ঢুকে ক্রমেই বিশৃঙ্খলা তৈরি করে। যার-তার বক্তব্য নিয়ে বড় ও সম্মানি শিল্পীদের অসম্মান করে। আমিও বিষয়টা এফডিসি কর্তৃপক্ষের কাছে জানতে চাই, কেন এসব বহিরাগত মানুষ ঢোকে?'

জানা গেছে, ইউটিউবাররা সাংবাদিক পরিচয়ে এফডিসিতে ঢুকে বিভিন্নজনের সাক্ষাৎকার নেওয়া শুরু করে। এক শ্রেণির ইউটিউবাররা 'প্রেস' লেখা কার্ড ও জ্যাকেট শরীরে জড়িয়ে এফডিসিতে ঢুকে পড়ে। তবে শোনা যায়, এদের অধিকাংশই গেটের দারোয়ানদের 'ম্যানেজ' করে ঢুকে পড়ে। এফডিসিতে এরা বিশৃঙ্খলা তৈরি করে। এদের অত্যাচারে গণমাধ্যমকর্মীরাও পিছিয়ে পড়েন।

দেশের একটি বেসরকারি টেলিভিশনের নারী সাংবাদিক বলেন, আমি একজনের সাক্ষাৎকার নিচ্ছি, এ সময় একজন আমাকে প্রায় ধাক্কা দিয়ে ফেলেই দিয়েছিলেন। পরে তাকিয়ে দেখি ক্যামেরার মধ্যে স্টিকার লাগানো এম এম টিভি, না কী যেন। এদের জন্য আমরা নিজেদের কাজটাও ঠিকঠাকমতো করতে পারি না। 

জায়েদ খান বলেন, এদের কারণে আমাদের মতো শিল্পীদের সম্মানহানি হচ্ছে। মরহুম মান্না ভাইকেও তারা 'অপমান'  করেছে। এটা খুবই দুঃখজনক। আমি বেশ কিছু ইউটিউবারের তথ্য ও ছবি জোগাড় করেছি। শিগগির এদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেব। ইতিমধ্যে আমি চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির অফিসে ইউটিউবারদের প্রবেশ নিষিদ্ধ করেছি।



সাতদিনের সেরা